সম্পাদকীয় তুমি যখন কোন দুর্বলের ওপর হাত উঠাও তখন একথা ভুলে যাও কেন যে, এই দুর্বল ব্যক্তিকে যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি তোমার চেয়ে অধিক শক্তিশালী। -আল হাদিস ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৬-২০২০ ইং ০৩:০৯:৩৯ | সংবাদটি ৮৯ বার পঠিত
Image

প্রকৃতিক দুর্যোগের এখন আর কোন সময় অসময় নেই। বলা যায় সারা বছর লেগে থাকে নানা দুর্যোগ। আর মানবজাতির জন্য অনাহুত বিপর্যয় হচ্ছে দুর্যোগ। কখনও আমরা নিজেরাই দায়ী এই দুর্যোগের জন্য। আবার কখনও প্রকৃতি রুদ্র মূর্তি ধারণ করে নিয়ে আসছে দুর্যোগ। আর দুর্যোগ মানে দুর্ভোগ। দুর্যোগ মানে ক্ষয়ক্ষতি মানুষের-সম্পদের। যে দুর্যোগের ওপর মানুষের হাত নেই সেটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বলা যায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ এই বাংলাদেশ। এখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয় ঘন ঘন; সারা বছরই। আর কমবেশী দেশের ১৬ কোটি মানুষই এর শিকার। দুর্যোগের নাম বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিকম্প, বজ্রপাত ইত্যাদি। প্রতিটি ক্ষেত্রেই জান-মালের ক্ষতি হয় ব্যাপক। ক্ষতির পরিসংখ্যান নিলে আৎকে উঠতে হয়। ভূমিকম্প হচ্ছে এমনই এক দুর্যোগ যার পূর্বাভাস জানার কোন সুযোগই নেই। ঝড়-ঝঞ্জা-প্লাবনের পূর্বাভাস কিছুটা হলেও অবগত হওয়া যায়। কিন্তু প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই যুগেও ভূমিকম্পের ব্যাপারে আগে থেকে জানা যায় না কিছুই। অথচ, এই দেশ বিশ্বের ভূমিকম্প প্রবন দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানে প্রায় সময়ই হচ্ছে ভূমিকম্প। তাছাড়া, আগামীতে ভয়াবহ ভূমিকম্প হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ। বিশেষ করে, সিলেট অঞ্চল রয়েছে প্রবল ঝুঁকিতে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরেকটি আতংকের নাম হচ্ছে বজ্রপাত। বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন।
শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বেই এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বেড়েই চলেছে। এর কারণও আছে। বিশ্বের তাপমাত্রা বাড়ছে, সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতা বাড়ছে। আগামীতে বিশ্বে সমুদ্র উপকূলবর্তী ব্যাপক এলাকা সমুদ্রগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশের উপকূলীয় ১২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র এক মিটার উচ্চতায় রয়েছে। তার মানে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা দুয়েক মিটার বাড়লেই এই উপকূলীয় অঞ্চল নদীগর্ভ তলিয়ে যাবে। সবকিছু মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে বাংলদেশসহ পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ। আর এই দুর্যোগের শংকা যে আগামীতে আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে,সেটা বলতেই হয়। এজন্য অমাদের ভাবতে হবে এখনই। সব ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্যই অমাদের অবিবেচক আচরণই দায়ী। প্রকৃতিতে বিপর্যয় ঘটাচ্ছে মানুষ নানাভাবে। এর পেছনে রয়েছে পরিবেশের বিপর্যয়। বৃক্ষ সম্পদ ধংস, পাহাড় কাটা, বায়ু দূষণের মতো পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকা-ে মানুষ লিপ্ত রয়েছে। আর এসবেরই বিরূপ প্রতিক্রিয়া হচ্ছে প্রাকুতিক দুর্যোগ। তৃতীয় বিশ্বের একটি উন্নয়নশীল দেশ এই বাংলাদেশের মানুষ বেঁচে আছে নানা দুর্যোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। বলা যায়, অনাদিকাল ধরেই তাদের সঙ্গী হয়ে রয়েছে এই দুর্যোগ। ফলে দুর্যোগ মোকাবেলা করার একটা মনোবল তৈরী হয়েছে সবার মধ্যে। দিন দিন দুর্যোগের ভয়াবহতা বাড়ছে; বাড়ছে ক্ষয় ক্ষতির মাত্রা। আমাদের সম্পদ সীমিত। তবু এই সীমিত সম্পদ, জনবল এবং প্রবল মনোবল নিয়েই দুর্যোগের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে এদেশের মানুষ অতীত থেকে। তবে পরিস্থিতি ভবিষ্যতে আরও সংকটাপন্ন হতে পারে, এই শংকাকে মাথায় রাখতেই হবে। আর তাই দুর্যোগ মোকাবেলায় নিতে হবে সর্বাত্মক প্রস্তুতি ।
কোন ধরণের প্রাকৃতিক দুর্যোগই ঠেকানো যায় না; তবে মানুষ সচেতন হলে দুর্যোগের ভয়াবহতা কমানো যায়। কমানো যায় ক্ষয়ক্ষতি। প্রথমেই ধরা যায়, পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ুর পরিবর্তন। যে কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশেই ঘন ঘন দুর্যোগ হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে যে দুর্যোগগুলো নিয়ে মানুষ বেশী আতংকিত, তার মধ্যে রয়েছে ভূমিকম্প এবং বজ্রপাত। বিগত কয়েক বছর ধরেই দেশে বেড়ে গেছে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা। সরকার সারাদেশে বজ্রপাত নিরোধক তালগাছ লাগানোর কর্মসূচী নিয়েছে। এ ব্যাপারে জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে। সর্বোপরি সম্ভাব্য দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় মানুষকে হাতেকলমে কিছু প্রশিক্ষণ দিয়ে রাখা যায়। মূলত ত্বরিৎ জানমাল রক্ষা করার কলাকৌশল শেখানোই হবে সেই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT