সম্পাদকীয় কাজকে ভালোবাসলে কাজের মধ্যে আনন্দ পাওয়া যায়। -মার্শাল

হারিয়ে যাচ্ছে সুগন্ধি ধান

প্রকাশিত হয়েছে: ২৫-০৬-২০২০ ইং ০০:৫৭:৫৫ | সংবাদটি ১০৫ বার পঠিত
Image

হারিয়ে যাচ্ছে হাওরের সুগন্ধি দেশী ধান। উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের আগ্রাসনে দেশীয় সুগন্ধি ও সুস্বাদু ধান বিলুপ্তির পথে। অতীতে আমন, আউশ ও বোরো-এই তিনটি মওসুমেই সিলেট অঞ্চলের সর্বত্র উৎপাদিত হতো নানা জাতের দেশীয় সুগন্ধি ধান। কিন্তু ইদানিং সেইসব ধান উৎপাদিত হচ্ছে না বললেই চলে। আর তার স্থান দখল করে নিয়েছে ধানের নতুন নতুন জাত। মূলত উচ্চ ফলনশীল এইসব ধানের একর প্রতি উৎপাদন বেড়েছে, পূরণ হচ্ছে মানুষের খাদ্য চাহিদা। তবে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় ধান হারিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সুগন্ধি ধানের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো দরকার।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকেই দেশীয় ধানের দুর্দিন শুরু হয়। উচ্চ ফলনশীল ধানের প্রতি সরকার ঝুঁকে পড়লে কৃষকরাও বাধ্য হয় এই ধান চাষ করতে। বিশেষ করে বিগত চার দশকেই সবচেয়ে বেশি বিলুপ্ত হয়েছে দেশীয় ধান। অথচ ঝড়-বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করে টিকে থাকা এই অঞ্চলের কৃষকের ভরসা ও শক্তির প্রতিক দেশীয় ধান। এই ধান চাষে খরচও কম। উফশী জাতের তুলনায় দেশীয় এইসব ধান চাষে সময়ও কম লাগে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চলে বন্যার পানি আসার আগেই ঘরে তোলা যায় দেশীয় ধান। অপর দিকে উচ্চ ফলনশীল জাতের বিভিন্ন ধান পাকতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয়। তাই বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ার আশংকা থাকে। এইসব ধান চাষে ব্যয়ও বেশি। এখানে একটা বিষয় অত্যন্ত জরুরি যে, শুধু ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিই নয় উচ্চ ফলনশীল ধানের সঙ্গে একটা ব্যবসায়িক ব্যাপার স্যাপারও আছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদেশী বহুজাতিক কোম্পানীগুলো নিজেদের উৎপাদিত কীটনাশক, সার ও বীজ ইত্যাদি পণ্যের বাজার তৈরির জন্য উচ্চ ফলনশীল জাতের ধান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে। কারণ কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ছাড়া উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসলের ভালো ফলন হয় না। অপরদিকে দেশীয় জাতের ধান চাষে কীটনাশক বা রাসায়নিক সারের খুব একটা প্রয়োজন হয় না। গবেষণার তথ্য হচ্ছে, প্রাচীনকালে সিলেট অঞ্চলের হাওর বিলে প্রায় দু’শ ২৮ জাতের দেশীয় ধান চাষ হতো। এখন এর কতোগুলো টিকে আছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।
সিলেট বিভাগের চারটি জেলায় কৃষিজমির পরিমাণ ১২ লাখ ৫৭ হাজার হেক্টর। হাওর-বাওরের সংখ্যা দু’শ ১৮টি। এই অঞ্চলের আবাদি জমির ৪০ শতাংশই হাওর এলাকা। এই হাওর এলাকায় উৎপাদিত ধান দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই হাওর অঞ্চলসহ এই বিভাগের অন্যান্য এলাকায় বছরে যে পরিমাণ ফসল উৎপাদিত হচ্ছে, তা চাহিদার চেয়ে বেশি বলেই জানা যায়। তারপরেও এই অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ জমি অনাবাদি রয়ে গেছে। সরকার পতিত জমি চাষের আওতায় নিয়ে আসার তাগিদ দিয়েছে। তাছাড়া, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সিলেট অঞ্চল কৃষিতে রয়েছে পিছিয়ে। এই প্রেক্ষাপটে অনাবাদি জমিসহ সব ফসলি জমিতেই ব্যাপকভাবে ফসল উৎপাদনে এগিয়ে আসা উচিত। আর এই কর্মযজ্ঞে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী সুগন্ধি ধানের কথাও ভুলে গেলে চলবে না।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT