উপ সম্পাদকীয়

ভগবান শ্রী জগন্নাথদেবের মহিমা

সচ্চিদানন্দ কৃষ্ণ দাস ( সজল) প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৬-২০২০ ইং ০২:১২:০১ | সংবাদটি ৩২৬ বার পঠিত
Image

অসীম করুণাময় ভগবান শ্রী জগন্নাথদেব করুণার বিশাল সমুদ্র। তিনি তাঁর ভক্তবৃন্দদের কৃপা দানের উদ্দেশ্যে পুরীধামে দারুব্রহ্মরুপে প্রকটিত হয়েছিলেন। তার কাহিনী পুরাণসমূহে বর্ণিত রয়েছে।
ভগবান শ্রী জগন্নাথদেবের বিগ্রহের এমন রুপাকৃতি দেখে অনেকেই অনেক বিকৃত মনোভাব পোষণ করেন। হস্ত পদহীন খোঁড়া কেন জগন্নাথ। মনে রাখবেন ভগবান শ্রীজগন্নাথদেবকে বিকৃত মনোভাবে দর্শন করে আমরা আমাদের অপরাধের পাল্লা ভারিই করছি বটে। ভগবান শ্রী জগন্নাথের বিগ্রহের আকৃতি এমন কেন তার মহিমা কীর্তনে বর্ণিত আছে যে, একবার দ্বারকানিবাসী মহিষীগণ পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনলীলা বা শৈশবলীলা শ্রবণে অতি ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। এখন এমন কে আছেন যিনি ভগবানের বৃন্দাবন লীলা মাহাত্ম্য তাঁদেরকে শ্রবণ করাতে পারেন? অবশেষে তাঁরা জানতে পারেন মাতা রোহিনী ভগবানের শৈশবলীলা প্রত্যক্ষভাবে দর্শন করেছিলেন। তাই মহিষীগণ মাতা রোহিনী দেবীকে ধরে বসলেন কৃপা করে তিনি যেন শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা মাধূরী তাঁদেরকে শ্রবণ করান। রোহিনী দেবী কৌতুহলী মহিষীগণদের ভগবানের লীলা মাধূরী শ্রবণের এমন ব্যাকুলতা দেখে রাজি হয়ে গেলেন। তবে শর্ত দিলেন যে তিনি যখন শ্রীকৃষ্ণের বাল্য লীলা শ্রবণ করাবেন তা যেন কোনভাবেই কৃষ্ণ বলরাম শুনতে না পারে। তার জন্য সুভদ্রাকে কক্ষের দ্বাররক্ষী হিসেবে নিয়োগ দিলেন। মহিষীগণদের এই শর্ত জুড়ে দিয়ে তিনি শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা এক এক করে তাঁদের সন্মুখে কীর্তন করছেন। মহিষীগণ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এমন বাল্যলীলারস আস্বাদন করে তাঁদের বাহ্যজ্ঞান বিলুপ্ত হয়ে গেল। এদিকে দ্বাররক্ষী হিসেবে নিযুক্ত সুভদ্রা মহারাণীর ও একই অবস্থা। সবাই যখন কৃষ্ণের বাল্যলীলা শ্রবণ করে বাহ্যজ্ঞান শূন্য এমন সময় কক্ষে কৃষ্ণ বলরামের উপস্থিতি হল সভার কেউ টেরই পেল না। এদিকে রোহিনী মাতা বর্ণনা করেই যাচ্ছেন। আর তা কৃষ্ণ বলরামও পাশ থেকে শুনছেন। তাঁরা তিনজন অর্থাৎ কৃষ্ণ, বলরাম আর সুভদ্রা মহারাণী লীলা শ্রবণে ভাবাবিষ্ট হয়ে তাঁদের দিব্য দেহে মহা ভাবাবিকার প্রকটিত হল।তাঁদের প্রতি ব্রজবাসীদের এমন প্রেম বিরহ লীলা কথা শ্রবণ করতে করতে তাঁদের হস্ত পদ দেহের মধ্যে সংকুচিত হয়ে গেল। চোখ বড় বড় হতে লাগল। এমনকি কুর্মাকৃতি ধারণ করল। এমতাবস্থায় সভায় স্থলে এসে উপস্থিত হলেন দেবর্ষি নারদ। তিনি ভগবানের এমন রুপ দর্শন করে বললেন হে প্রভু আপনি আপনার এই বিকারগ্রস্থ দিব্য রুপ এই জড় জগতে প্রকাশিত করুন। যে রুপ দর্শনে জড় জগতের মানুষ অপ্রাকৃত প্রেম লাভ করতে পারে। নারদমুনির অভিলাষ পূর্ণ করেছিলেন ভগবান এই জগতে জগন্নাথ রুপে আর্বিভূত হয়ে। খেয়াল করলে দেখতে পারবেন ভগবান শ্রীজগন্নাথদেবের চোখে কোন পাপড়ি নেই। অর্থাৎ অপলক নেত্রে তিনি ভক্তদের কৃপা দান করে থাকেন। এটা তার রুপাকৃতি মহিমা।
এবার ভগবান জগন্নাথ দেবের মহানুভবতা সংক্ষিপ্তাকারে আলোকপাত করছি। প্রায় সকল মন্দিরেই ভগবান শ্রীজগন্নাথদেব ব্রাহ্মণ দ্বারা পূজিত হন। পুরী ধামে ও শ্রীজগন্নাথ উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণ পুরোহিত দ্বারা পূজিত হন। কিন্তু স্নান যাত্রার পর যখন জগন্নাথদেব অনবসর বা জ্বর লীলা করেন তখন তিনি শবরদের সেবা গ্রহণ করেন। শবর হচ্ছে যারা শূদ্র সম্প্রদায়ের চেয়ে ও নিচু। যারা সমাজের অস্পশ্য বলে বিবেচিত। কিন্তু ভগবান শ্রী জগন্নাথ দেব অসীম দয়া ও সমদৃষ্টিসম্পন্ন যে তিনি এই শবরদের সেবা গ্রহণ করে থাকেন। এরা দয়িতাপতি নামে পরিচিত। দয়িতা মানে প্রিয়। তাই ভগবান জগন্নাথ তাদেরকে প্রিয়জন হিসেবে গণ্য করে তাদের সেবা গ্রহণ করে থাকেনন।
সব মন্দিরে ভগবানের অর্চাবিগ্রহ রয়েছে। তো অনেক মন্দির ভগবানের শোভাযাত্রায় অর্চা বিগ্রহ দিয়ে শোভাযাত্রা না করে উৎসব বা বিজয় বিগ্রহ পরিগ্রহ করে শোভাযাত্রা অংশ গ্রহণ করে। কিন্তু জগন্নাথের রথযাত্রা ভগবান জগন্নাথের অর্চা বিগ্রহ বা মূল সেবিত বিগ্রহ দ্বারা শোভাযাত্রা করা হয়ে থাকে। ভগবান শ্রী জগন্নাথদেব তাঁর ভক্তদের দর্শন দানে কৃপা করার জন্যই গর্ভ মন্দিরে থেকে মূল বা আসল রূপ পরিগ্রহ করে রাস্তায় নেমে আসেন। এটাও ভক্তদের প্রতি তাঁর মহানুভবতা।
আজ ভগবান শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা তিথি। যিনি নীলাচল থেকে মাসির বাড়ি সুন্দরাচলে বেড়াতে যাবেন। তবে এবার কোভিড ১৯ ভাইরাসের কারণে জগন্নাথদেবের রথ নিয়ে কোন মন্দির শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে না। প্রত্যেক মন্দির অভ্যন্তরে শুধু পুরোহিত সেবা পূজাদি সম্পাদনের মাধ্যমে রথযাত্রার আনুষ্টানিকতা সম্পূর্ণ করবেন। যদি ও এবার ভগবান শ্রী জগন্নাথদেব শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবেন না, তবু ও তাঁর ভক্ত সজ্জ্বনদের কৃপা দানে বর্ষিত করবেন। আর আমরা ভক্ত মন্ডলী তাঁর নিকট প্রার্থনার এই আবেদন জানাই তিনি যেন বিশ্ববাসীকে করোনার মহামারী থেকে রক্ষাকল্পে তাঁর কৃপা বারি আমাদের উপর বর্ষিত করেন। জয় জগন্নাথ।
কলাম লেখক

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে সচেতন হতে হবে
  • কোভিড-১৯ মানব ইতিহাসে বড় চ্যালেঞ্জ
  • একটি খেরোখাতার বয়ান
  • পরিবেশ রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ
  • পর্নোগ্রাফির বিষবাষ্প থেকে মুক্তি মিলবে কবে?
  • জীববৈচিত্র এবং মনুষ্য সমাজ
  • করোনার ছোবলে জীবন-জীবিকা
  • মানুষ কেন নিমর্ম হয়
  • করোনায় আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা
  • প্রসঙ্গ : ব্যাংকিং খাতে সুদহার এবং খেলাপি ঋণ
  • করোনা, ঈদ এবং ইসলামে মানবতাবোধ
  • ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর ঈদুল আযহা
  • করোনাকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
  • আনন্দযজ্ঞে আমন্ত্রণ
  • ত্যাগের মহিমায় কুরবানির ঈদ
  • চাই পথের দিশা
  • ভাটি অঞ্চলের দুর্দশা লাঘব হবে কি?
  • মুক্ত পানির মাছ সুরক্ষায় যা প্রয়োজন
  • উন্নত দেশে মসজিদে গৃহহীনদের আশ্রয়
  • তাইওয়ান সংকট
  • Image

    Developed by:Sparkle IT