সম্পাদকীয় প্রত্যেক ব্যক্তি তার উন্নতিতে ঐশী সাহায্য পায়। -আল হাদিস

নিষিদ্ধ পলিথিনের আগ্রাসন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৬-২০২০ ইং ০৩:০০:০৭ | সংবাদটি ৭৮ বার পঠিত
Image

নিষিদ্ধ পলিথিনে সয়লাব সর্বত্র। শহর, নগর, গ্রাম সবখানেই পলিথিনের ছড়াছড়ি। পলিথিন ছাড়া যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা অচল। অথচ এই পলিথিনই জনজীবনকে স্তব্ধ করে দিতে পারে। অতীতে মানুষ বাজারে যেতো পাটের তৈরী থলে হাতে নিয়ে। কিন্তু সেই দৃশ্য পাল্টে গেছে বিগত কয়েক দশক ধরে। এখন বাজারে এসেছে থার্মোপ্লাস্টিক জাতীয় পদার্থ দিয়ে তৈরী ওজনে হালকা সহজে বহনযোগ্য এবং দামে সস্তা পলিব্যাগ। আর চাহিদার যোগান দিতে রাজধানীসহ দেশব্যাপী গড়ে ওঠেছে শতশত পলিথিন কারখানা। পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর পদার্থ হিসেবে প্রমাণিত এই পলিথিন। তাই এই পলিথিন ব্যবহার ও উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়। বাজারজাত করা হয় পচনশীল পাটের ব্যাগ। কিন্তু নানা কারণে বিকল্প এই পাটের ব্যাগ ব্যবহারে অভ্যস্থ হয়নি মানুষ। বিশেষ করে পাটের ব্যাগ এর দাম বেশী থাকায় ও তা সহজলভ্য না হওয়ায় পলিথিনের শপিং ব্যাগের ব্যবহার বাড়তে থাকে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের মতে, পলিথিন শপিং ব্যাগ এর ব্যবহার বাড়ছে প্রতিদিন। দেখা গেছে দিনে গড়ে দেড় কোটি পলিথিন শপিং ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাদের দেশে মূলত ১৯৮২ সালের পর থেকেই বাণিজ্যিকভিত্তিতে পলিথিন উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার শুরু হয়। খুব কম পুঁজিতে বেশী লাভ হওয়ায় পলিথিন কারখানা গড়ে উঠতে থাকে একের পর এক। জানা যায় পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকায় পাওয়া যায় পলিথিন তৈরীর মেশিন। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই প্রমাণিত হয় পলিথিন পরিবেশ ও জনজীবনে বিপর্যয় ডেকে আনছে। আর এই অবস্থায় নিষিদ্ধ করা হয় পলিথিনের উৎপাদন, ব্যবহার ও বিপণন। ২০০২ সালের পয়লা জানুয়ারী থেকে আইনটি কার্যকর হয়। আইনে পলিথিন সামগ্রী উৎপাদন আমদানী ও বাজারজাত করার দায়ে দশ বছরের কারাদন্ড বা দশ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ-ে দ-িত করা যাবে। আইন কার্যকর হওয়ার পর সচেতন হয়ে ওঠে মানুষ। পলিথিনের ব্যবহার অনেকটাই কমে আসে। কিন্তু বছর দুই তিনের মধ্যে পরিস্থিতি চলে যায় পূর্বাবস্থায়। অথচ এই পলিথিন যে কতোটুকু সর্বনাশ করছে আমাদের, সেটা বলার অবকাশ রাখে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিথিনকে স্লো পয়জন বললে ভুল হবে না। এই পলিথিন ধীরে ধীরে মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর উৎপাদনকারী, ব্যবহারকারী ও বাজারজাতকারী পর্যন্ত জটিল রোগে আক্রান্ত হতে পারে। ধীরে ধীরে এই পয়জন কাজ করে বলে আমরা উপলব্ধি করতে পারি না।
পলিথিনের উৎপাদন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু এই আইনের প্রয়োগ নেই। অনেক আইনই এভাবে পড়ে রয়েছে কাগজে কলমের মধ্যে সীমাবদ্ধ। সারাবছরই এ নিয়ে লেখালেখি হয়। সংশ্লিষ্ট কারও তাতে কিছু যায় আসে না। একেতো আইনের প্রয়োগ নেই, তার ওপর আইনে রয়েছে ত্রুটি। আইনে পলিথিন উৎপাদন নিষিদ্ধ হলেও পলিথিন কারখানা বন্ধের ব্যাপারে কিছুই বলা হয়নি। তাই যথারীতি পলিথিনের উৎপাদন অব্যাহত আছে। পলিথিনের আগ্রাসন রুখতে হলে সর্বপ্রথম কারখানাগুলো বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে পলিথিনের বিকল্প হিসেবে সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী পাটের শপিং ব্যাগ এর উৎপাদন বাড়াতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT