প্রথম পাতা >> এখনো অনেক এলাকা পানির নিচে >> জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন

সিলেট ও সুনামগঞ্জে পানি কমছে বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার: প্রকাশিত হয়েছে: ৩০-০৬-২০২০ ইং ০১:৩৯:৫৮ | সংবাদটি ৩৪১ বার পঠিত
Image

সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। একই সাথে কমেছে গোয়াইনঘাটের সারি নদীর পানিও। তবে কিছুটা ধীর গতিতে কমায় এখনও বিপদসীমার উপরে রয়েছে সুরমা নদীর পানি। এতে দুর্ভোগ বাড়ছে বানবাসী মানুষের। সিলেট ও সুনামগঞ্জের অনেক রাস্তাঘাট এখনও পনির নীচে রয়েছে। বাসা বাড়ির পানিও ধিরে ধিরে নামছে। বানভাসী মানুষের দুর্ভোগ স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণ সহায়তা বরাদ্দের খবর এলেও সংশ্লিষ্টরা বলছেন তা একেবারেই অপ্রতুল। জরুরী ভিত্তিতে ত্রাণ সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের বানভাসি মানুষের পাশে দাড়ানোর আহবান জানানো হয়েছে।
সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর এলাকাসহ সুরমার তীর ঘেঁষা ওয়ার্ডগুলোতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছিলো। এখনো অনেক জায়গায় পানি রয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বিভিন্ন বাসা বাড়ির নিচতলার বাসিন্দাদের। সিলেট শহরতীর সদর উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নের অন্তত ৭টি ইউনিয়নই বন্যা কবলিত। হাটখোলা, জালালাবাদ, মোগলগাও, খাদিমনগর, কান্দিগাও, টুকেরবাজারের একাংশসহ প্রায় এলাকার মানুষ এখনো পানি বন্দি। বন্যার পানি ধির গতিতে নেমে যাওয়ায় দ্রুত ঘরে ফিরতে পারছেন না অনেকেই। সিলেট শহরের সাথে হাটখোলা জালালাবাদ ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ অনেকটা বিচ্ছিন্ন ছিলো। এখনো নৌকা যোগে যাওয়া লাগছে বিভিন্ন গ্রামে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ত্রাণ সহায়তা প্রদানের দাবি জানিয়েছেন জন প্রতিনিধিরা।
সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি স্থানে পানি কমলেও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। অনেক রাস্তাঘাট এখনও পনির নীচে রয়েছে। উজান থেকে আসা পাহাড়ী ঢলের কারনে কানাইঘাটের সুরমা নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছেন। বন্যার কারণে গো-খাদ্য সংকট দেখা দেয়ায় গবাদিপশু নিয়ে লোকজন পড়েছেন বিপাকে। সিলেট ও সুনামগঞ্জের অনেক উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা লোকজন জানান, তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন না। এভাবে পানি কমতে থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা উঁচুস্থানে আশ্রয় নেওয়া মানুষ আগামী দু’-তিন দিনের মধ্যে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট আবহাওয়া অফিস গতকাল সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় ৩৯ সে: মি: বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। বৃষ্টিপাত কমলে বন্যা পরিস্থিতি আরো দ্রুত উন্নতি হবে বলেও ভুক্তভোগিরা মনে করছেন।
এদিকে সিলেট জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা সফিক উদ্দিন জানিয়েছেন, বন্যা উপদ্রুত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। গতকাল সোমবার সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে ১৬ মে: টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। এছাড়া, ব্যক্তি উদ্যোগেও বন্যার্থদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ : কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) থেকে আবিদুর রহমান জানান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। এতে উপজেলা সদর, টুকেরবাজার, ভোলাগঞ্জ, পাড়ুয়াসহ বেশ কিছু এলাকার বাড়ি ও দোকানঘর থেকে পানি নেমে গেছে। তবে, এখনও উপজেলা পরিষদ মাঠ, থানা কম্পাউন্ডার, থানাবাজারের সব কটি সড়ক পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। লোকজন চলাচল করছে নৌকায়। উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন রয়েছে। পানিতে তলিয়ে অনেক সড়ক ভেঙ্গে গেছে।
এদিকে, পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজন চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ঘরবাড়ির চারপাশে এখনও পানি থাকায় কার্যত পানিবন্দি হয়ে আছেন লক্ষাধিক মানুষ। উপজেলার ৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষ অবস্থান নিয়েছেন। দুর্গত মানুষরা জানান, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন না তারা। গবাদি পশু-পাখি নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তারা।
এদিকে, গত রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এসময় জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মাহবুবুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য, ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহ মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন আচার্য বলেন, বন্যাপরিস্থিতি উন্নতির দিকে আছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য শুকনো খাবার দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এভাবে পানি কমতে থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা উঁচুস্থানে আশ্রয় নেওয়া মানুষ আগামী দু’তিন দিনের মধ্যে নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবে।
জৈন্তাপুর : জৈন্তাপুর (সিলেট) থেকে নূরুর ইসলাম জানান, গত কয়েকদিনের অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জৈন্তাপুর উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। উপজেলার সবকটি ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়ে হাজার হাজার মানুষ পানি বন্ধি অবস্থায় রয়েছেন।
গতকাল সোমবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নীত হয়েছে বলে জানাগেছে। সারী ও বড়গাং নদীর পানি কিছুটা কমলেও এখনও বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উপজেলায় বন্যা দূর্গত এলাকায় সরকারি ত্রাণ সহায়তা হিসাবে এ পর্যন্ত ২৬ মেট্রিকটন চাল এবং শুকনা খাবারের জন্য নগদ ৬৮ হাজার টাকা এবং শিশু খাদ্যের জন্য আরো ২৪ হাজার সহ ৯২ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। বন্যার উপজেলার গ্রামীণ জনপদের বেশ কয়েকটি রাস্তাঘাট ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। উচু এলাকা থেকে বন্যার পানি কমলেও নি¤œাঞ্চল গুলোতে বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তীত অবস্থায় রয়েছে।
উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল আহমদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভিন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, উপজেলা পরিষদের ভাইস-চেয়ারম্যান বশির উদ্দিন, মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পলিনা রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশার (ভূমি)) ফারুক আহমেদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এম লিয়াকত আলী। বন্যা দূর্গত এলাকার পানি বন্ধি অসহায় জনগণকে সরকারী এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে ত্রাণ সহায়তার বিতরণ করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ফারুক হোসেন জানান, উপজেলায় কৃষকদের ৩৫০ হেক্টর আউস ধান বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়ে গেছে। উপজেলার অনেক মৎস্যজীবিদের খামার পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে অনেক মৎস্য চাষী ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। জৈন্তাপুর ইউনিয়নের বাউরভাগ গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ¦ ফরিদ উদ্দিন আহমদ জানান, তার মৎস্য খামার পানিতে তলিয়ে যাওয়ার কয়েক লক্ষ টাকার নানা প্রজাতির মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে তিনি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। ফতেপুর ইউনিয়নের হেমু এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া মাহমুদ জানান, তার মৎস্য খামার বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া কয়েক হাজার নানা প্রজাতির মাছ চলে গেছে। জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপজেলার জৈন্তাপুর, নিজপাট,দরবস্ত এবং গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাওঁ ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার পানি বন্ধি অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করেন।
জৈন্তাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান জানান, জৈন্তাপুর উপজেলার শেওলারটুক, বাওন হাওর, বাউরভাগ, লক্ষীপুর, বিরাইমারা গ্রামের মানুষ এখন পানি বন্ধি অবস্থায় রয়েছেন। তিনি জানান, সরকারী ত্রাণ সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে। কয়েক হাজার মানুষ পানি বন্ধি হওয়ার তিনি সরকারী আরো পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ বরাদ্ধের দাবী জানান। তিনি বলেন, বহু গ্রামীণ জনপদের অনেক রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। দরবস্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বাহারুল আলম বাহার জানান, বন্যা পরিস্থিতি‘র কিছুটা উন্নীত হলেও বন্যার তার ইউনিয়নের ভাটিরজনপদ হিসাবে পরিচিত কয়েকটি গ্রামের জনগন এখনও পানি বন্ধি রয়েছেন। স্থানীয় জনগন কে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তিনি সরকারী ত্রাণ সহায়তা পর্যাপ্ত পরিমানে বরাদ্ধ দেয়ার দাবী করেন।
চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ আলম চৌধুরী তোফায়েল জানান, নয়াখেল, বালিদাড়া, থুবাং, ভিত্রিখেল, সরুখেল সহ আরো অনেক গ্রামের মানুষ বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, অবিরাম ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে চারিকাটা ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দাগণ এখনও পাহাড় ধস সহ অনেকটা ঝুকির মধ্যে রয়েছেন।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ জানান, উপজেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নীত হয়েছে। তবে নীচ এলাকার বন্যা পরিস্থিতি‘র অনেকটা অপরিবর্তীত অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, বন্যা দূর্গত এলাকার পানি বন্ধি মানুষের মধ্যে সরকারি ত্রাণ সহায়তা বিতরণ শুরু করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে বন্যা কবলিত এলাকাগুলো সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
গোয়াইনঘাট : গোয়াইনঘাট থেকে মনজুর আহমদ জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। এতে উপজেলার বেশ কিছু এলাকা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে, এখনও উপজেলা সবকটা ইউনিয়ন এবং সকল গ্রামীণ কাঁচা পাকা সড়ক পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। লোকজন চলাচল করছে নৌকায়। উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ গতকাল সোমবার সকাল থেকে কোনমতে চলছে। পানিতে তলিয়ে অনেক সড়ক ভেঙ্গে গেছে।
এদিকে, পানি কমতে শুরু করলেও বন্যা কবলিত এলাকার মানুষজন চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ঘরবাড়ির চারপাশে এখনও পানি থাকায় কার্যত পানিবন্দি হয়ে আছেন লক্ষাধিক মানুষ। দুর্গত মানুষরা জানান, শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছেন না তারা। গবাদি পশু-পাখি নিয়েও বিপাকে পড়েছেন তারা। গো-খাদ্যে চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গত রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এসময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাজমুস সাকিব সহ বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যানগণ এবং প্রশাসনের লোকজন উপস্থিত ছিলেন। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুস সাকিব জানান, বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে আছে।
সুনামগঞ্জ : শাহজাহান চৌধুরী, সুনামগঞ্জ থেকে জানান, সুনামগঞ্জে সুরমার পনি ৩৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদ সীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৩ টায় সুরমা নদীর সুনামগঞ্জ ষোলঘর পয়েন্টে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার রেকর্ড করেছে। যা বিপদ সীমার ২৭ সিন্টিমিটার ওপর।
এর আগে গতকাল বিকেল ৩ টায় একই পয়েন্টে সুরমা নদীর পানির প্রবাহ ছিল ৮ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার। যা গত ২৪ ঘণ্টায় সুরাম নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্টে ৩৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে, শহরের কাজির পয়েন্ট, বড়পাড়া, তেঘরিয়া, মধ্যবাজার, উকিলপাড়া, নবীনগরসহ নদীর তীরবর্তী এলাকায় বন্যার পানি কিছুটা কমলেও শহরের বলাকা আবাসিক এলাকা, বিলপাড়, মোহাম্মদপুর ও পূর্ব নতুনপাড়াসহ অন্যান্য মহল্লায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরদিকে তাহিরপুর উপজেলা, বিশ^ম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বন্যার পানি ধীর গতিতে নামতে শুরু করলেও দিরাই, শাল্লা ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পওর-১ মো. সবিবুর রহামন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, গতকাল সোমবার বিকেল ৩ টায় সুনামগঞ্জ ঘোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮ দশমিক ০৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যার প্রবাহ ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ১৫ মে পর্যন্ত হাওরের ফসলরক্ষার জন্য সুরমা নদীর পানি বিপদ সীমা ছিল ৬ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার এবং ১৫ মে-এর পরে বিপদ সীমা হল ৭ দশকি ৮০ সেন্টিমিটার। ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই বর্ষাকালে সুরমা নদীরন পানি বিপদ সীমা ধরা হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জেলার ১১টি উপজেলায় ৪ শত ১০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও ৭৮ টি আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে আশ্রয় কেন্দ্রে ১৪৮টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। জেলার ৮টি উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পারিবারের সংখ্যা ৪৪ হাজার ১১০ টি। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার পরিবার, তাহিরপুরে ৩ হাজার, জামালগঞ্জে ৪শত, ছাতকে ১৯ হাজার ৩৯৬, দোয়ারাবাজারে ১১ হাজার, শাল্লায় ১৪টি, ধর্মপাশায় ২৫০টি ও জগন্নাথপুরে ৫০টি পারিবার।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ভাদ্র মাসে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা, প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • জাতীয় শোক দিবসে জেলা আ’লীগের কর্মসূচি
  • ভার্চুয়াল ও শারীরিক উপস্থিতি দু’ভাবেই চলবে হাইকোর্ট
  • মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত
  • লন্ডন থেকে ফের বিমানের সরাসরি ফ্লাইট সিলেটে
  • ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব শুরু আজ
  • বিশ্বনাথে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রবেশের পথে এমপি মোকাব্বির খানের গাড়িতে হামলা
  • আয়তন বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
  • আয়তন বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
  • আয়তন বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
  • আয়তন বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
  • আয়তন বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
  • ৬ মাসের মধ্যে কাজ শুরুর আশাবাদ
  • ওসমানীনগরের দু’ইউনিয়নে নিকাহ রেজিস্ট্রার দু’বছরেও নিয়োগ হয়নি ॥ অর্ধশত প্রার্থী বিপাকে
  • সুরকার আলাউদ্দিন আলী মারা গেছেন
  • ১৫ অগাস্টের পর ‘পর্যায়ক্রমে চালু হবে’ সব আন্ত:নগর ট্রেন
  • জাতির পিতার রচনা পাঠ কার্যক্রমকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
  • ওসি প্রদীপের ২২ মাসে ১৪৪ ক্রসফায়ার
  • শিল্পী এসএম সুলতানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী আজ
  • মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী মামলার আসামি সুনামগঞ্জের জোবায়ের মনিরের জামিন বাতিল
  • Image

    Developed by:Sparkle IT