সম্পাদকীয় নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত হলেই দোষমুক্ত হওয়া যায়। -কলটন

বিদ্যুতের ভৌতিক বিল

প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৭-২০২০ ইং ০৩:৩০:৫৮ | সংবাদটি ১৪০ বার পঠিত
Image

ছেলে ভুলানো রূপকথার ভৌতিক গল্পের মতোই প্রচলিত কথাটি- ‘ভৌতিক বিল’। মানে বিদ্যুতের ভৌতিক বিল। ‘ভৌতিক’ ব্যাপারটি যেমন অবিশ্বাস্য, তেমনি এদেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকেরা প্রায় সময়ই অবিশ্বাস্য বিল পেয়ে থাকেন। যার বাস্তবের সঙ্গে কোনই সামঞ্জস্য থাকে না। এই ভৌতিক বিলের খপ্পরে পড়েন গ্রাহকেরা অতীতেও। তবে প্রযুক্তির ব্যাপক উৎকর্ষ সাধনের পর ভৌতিক বিলের ছড়াছড়ি কিছুটা কমে এসেছে। তবে অতি সম্প্রতি বিদ্যুতের ভৌতিক বিল অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে। অতীতে ভৌতিক বিল আসতো সংখ্যায় দুয়েক জনের। এবার এসেছে ঢালাওভাবে প্রায় সবারই। আর এই বিলের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ-তিনগুণ নয়, অনেকটা গুণিতক হারে। উদাহরণস্বরূপ যেখানে কোন গ্রাহকের স্বাভাবিক বিল আসতো পাঁচশ টাকা, সেখানে বিল এসেছে এর দশগুণ, অর্থাৎ পাঁচ হাজার টাকা। করোনা-বিপর্যয়ে যখন ল-ভ- মানুষের জীবন জীবিকা, তখন এই ভৌতিক বিল সত্যি সত্যি ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’ এর মতোই।
বাংলাদেশে করোনার আক্রমণের শুরুতেই, অর্থাৎ বিগত মার্চ মাসেই শোনা যায় নানা ‘গুঞ্জন’। লোকমুখে ছড়িয়ে পড়ে নানা ধরনের সেবাখাতের বিল মওকুফ কিংবা কমানো হবে। সাধারণ গ্রাহকেরাও আশায় বুক বাধেন। কিন্তু হয়নি বাস্তবে কিছুই। বরং অনেক ক্ষেত্রে ঘটেছে উল্টো। বিশেষ করে, বৈদ্যুতিক বিলের ক্ষেত্রে সরকার ঘোষণা করে জুন, ২০২০ পর্যন্ত গ্রাহকদের বিলম্ব ফি মওকুফ করা হবে। মোটামুটি এই একটি সুবিধাই পেয়েছে গ্রাহকেরা। কিন্তু তার বিপরীতে গ্রাহকদের দেয়া হলো ভৌতিক বিল। শুধু তাই নয়, এই ভৌতিক বিলই পরিশোধ করার জন্য তাগিদ দেয়া হচ্ছে; কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে, সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। সার্বিক পরিস্থিতিতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে গ্রাহকদের মধ্যে। বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের সূত্রে বলা হয়- করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর মিটার রিডাররা বাসায় বাসায় গিয়ে মিটার পর্যবেক্ষণ করেনি। ফলে অনুমানের ভিত্তিতে বিল তৈরি করা হয়। সাধারণত যে মাসের বিল তৈরি করা হয়েছে, গত বছর সেই মাসের বিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটা গড়পড়তা টাকার অংক লিখা হয়েছে। তবে এও বলা হচ্ছে যে, বর্তমানে যে ‘অস্বাভাবিক’ বিল এসেছে, সেটা পরিশোধ করতে হবে এবং ‘বাড়তি’ বিলের টাকা পরবর্তীতে সমন্বয় করা হবে। অর্থাৎ ইতোপূর্বে যারা বেশি টাকা পরিশোধ করেছেন, পরবর্তী মাসে তাদের বিল কমে আসবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এই ধরনের বক্তব্যের পর সাধারণ গ্রাহক আশ্বস্থ হতে পারছেন না। কারণ সরকারের অনেক আশ্বাসেরই বাস্তবে প্রতিফলন ঘটে না।
বিদ্যুৎ বিভাগের অনিয়ম দুর্নীতিতে অতিষ্ট গ্রাহক সাধারণ। গ্রাহক হয়রানী তাদের কাছে অতি সাধারণ বিষয়। ছোটখাটো কোন সমস্যার জন্যও বিদ্যুৎ বিভাগের শরণাপন্ন হলেও তা সহজে সমাধা করা সম্ভব হয় না। এই দৃশ্যটি অতিপুরনো। বর্তমানে ভৌতিক বিলের ব্যাপারেও ভুক্তভোগী গ্রাহকেরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে ধর্না দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তারা সন্তোষজনক জবাব পাচ্ছেন না। করোনা-বিপর্যয়ে যখন মানুষের আয় রোজগার কমে গেছে বা অনেকের শূন্য কোটায়, তাদের ওপর থেকে ভৌতিক বিদ্যুৎ বিলের বোঝাটুকু অপসারণ করা হোক অতিসত্ত্বর।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT