উপ সম্পাদকীয়

স্বাস্থ্যবিধি মানলে প্রশমিত হবে করোনা

মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন খন্দকার প্রকাশিত হয়েছে: ০১-০৭-২০২০ ইং ০৩:৩১:৪৮ | সংবাদটি ৩৬১ বার পঠিত
Image


নিজে সচেতন হই অপরকে সচেতন করি, শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি। স্বাস্থ্য আপনার নিজের, আপনি সম্পদ দেশের। আপনার ক্ষতি হওয়া মানে জাতির ক্ষতি। আপনি একবার চোখ বন্ধ করে চিন্তা করুন, আপনার অনুপস্থিতিতে আপনার পরিবারের কি অবস্থা হবে। আপনার সাজানো সংসার সামান্য একটু ভুলের জন্য এক নিমিষে তছনছ হয়ে যাবে। এই বিপদ থেকে পরিত্রাণের উপায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা।
বাংলাদেশে ৮ মার্চ করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছিল তখন থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে জোর তাগিদ দেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ হেসে হেসে মৃত্যুর মিছিলে শরিক হচ্ছে। সরকার ঘোষিত বিধি নিষেধ উপেক্ষা করে রাস্তাঘাট, হাটবাজার ও বিভিন্ন কর্মস্থলে মানুষের উপচে পড়া ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। যাদের অনেকেরই মুখে নেই মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, ক্যাপ ও পিপিই। অনেক কর্মস্থলে নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার, থাকলেও র-মেটেরিয়াল নি¤œ মানের। জীবাণুনাশক টানেল আই ওয়াশ মাত্র। দিন যত গড়াচ্ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ তত বাড়ছে, লাশের সারিতে যোগ হচ্ছে বনি আদম। চিকিৎসা সেবা নিয়ে জনগণের যেমন দুর্ভোগের শেষ নেই অপরদিকে খুলনায় রোগীর স্বজন দ্বারা চিকিৎসক হত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের দেশে সম্পদ সীমিত, এই সীমিত সম্পদের সদ্ব্যবহার করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। একে অপরকে দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে রোগ প্রতিরোধে মিলেমিশে কাজ করতে হবে। আমাদের অনেক দেরি হয়ে গেছে, যদি আমরা স্বাস্থ্যবিধি মানতে অবহেলা করি তাহলে প্রাণঘাতী করোনা জাতির জীবনে মহা বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমাদের অজান্তে আমরা সেদিকে অগ্রসর হচ্ছি। আমরা বড়ই দুর্ভাগা জাতি যখন অপরের ক্ষতি হয় বা ক্ষতি করি বোধোদয় হয়না, আর যখন নিজের বেলায় ক্ষতিটি আসে তখন সচেতন হয়ে নড়েচড়ে বসি। সরকারি হিসাবে ২০জুন পর্যন্ত দেশে মহামারী কোভিড-১৯ আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১লাখ ৮হাজার ৭৭৫জন, মৃত্যুর সংখ্যা ১হাজার ৪২৫জন। চক্রবৃদ্ধি হারে রোগী এবং মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন সংস্থার জরিপ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অভিমত-বিশ্বে ঝুঁকিপূর্ণ রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ প্রথম সারির দিকে। ঘনবসতি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা, জনগণের সচেতনতার অভাব, রোগের ব্যাপারে উদাসীনতা, বেপরোয়া মনোভাব, করোনা রোগী শনাক্তের প্রথম দিকে কঠোর অবস্থানে গিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা, সরকার ঘোষিত দু’মাসের বেশি সময় দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি (লকডাউন) ছিল, তাতে শৈথিল্য প্রদর্শন করোনা রোগ সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
অপরদিকে কোভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে জরুরী ভিত্তিতে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে- এক, যে সমস্ত দেশ করোনা রোধে অধিক সফল হয়েছে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য তাদের সহযোগিতা চাওয়া। দুই, স্বাস্থ্যসুরক্ষা সামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি রোধ করে জনগণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখা। যে সমস্ত ব্যবসায়ী দুর্নীতির আশ্রয় নেয় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মাঠ পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি বৃদ্ধি করা। তিন, করোনা রোগী শনাক্তের নমুনা পরীক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং দ্রুত রিপোর্ট পাওয়ার ব্যবস্থা করা। কারণ রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর তাকে করোনা রোগী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নমুনা পরীক্ষার জন্য দেওয়া এবং রিপোর্ট আসার মাঝখানে কমবেশি এক সপ্তাহ সময় লেগে যায়। এই সময়ে করোনা রোগী পরিবারের এবং সমাজের বিভিন্ন জনের সাথে ঊঠাবসা মেলামেশা করার ফলে দিন দিন করোনা রোগের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এক্ষেত্রে বেসরকারী হাসপাতাল, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার কে করোনা শনাক্ত পরীক্ষার অনুমতি দিলে করোনা পরীক্ষা সহজলভ্য হবে। যেই সমস্ত প্রতিষ্ঠান করোনা পরীক্ষা এবং চিকিৎসা করাতে অনিচ্ছুক তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। চার, কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন অক্্িরজেন। অথচ সরকার করোনা চিকিৎসার জন্য ঘোষিত হাসপাতালে অক্্িরজেন সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। তাই বাধ্য হয়ে রোগীর আতœীয়-স্বজনকে বাহির থেকে বোতলজাত অক্্িরজেন সিলিন্ডার কিনে রোগীকে অক্্িরজেন দিতে হয়। যা নির্ধারিত মূল্যের কয়েকগুণ বেশি দিয়ে ক্রয় করতে হয়। আরো পরিতাপের বিষয় এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অক্সিজেনকে মেডিকেল অক্সিজেন হিসেবে বাজারজাত করছে যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। পাঁচ, এই দুর্যোগের মুহুর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কোভিড-১৯ রোগ নিরাময়ে নিয়োজিত ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং তাদের মনোবল বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। ছয়, এখনও বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষ রয়েছে স্বাস্থ্যবিধি কি, কি কারণে করোনা ভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে, আক্রান্ত হলে করণীয় কি, এই বিষয়ে গভীর জ্ঞান তো দূরের কথা স্বল্প জ্ঞানও রাখেনা। এ ব্যাপারে প্রিণ্ট, ইলেকট্রনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণা জোরদার করা।
সরকারের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সচেতন মহলকে এগিয়ে আসতে হবে। সাত, দেশের জনগণের জীবন রক্ষার্থে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে তা সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে যথাযথ জায়গায় বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয় করা প্রয়োজন। আট, ক্ষুদ্র এদেশে বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনের নিরাপত্তার পাশাপাশি জীবিকার নিরাপত্তা দেওয়া দরকার। ইতিমধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মচারী ছাঁটাই করেছে, সামনে আরো ছাঁটাই করবে। লাখ লাখ মানুষ চাকুরি হারাবে, তারা যাবে কোথায়, খাবে কি? তাদের জন্য সরকারের স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। কোভিড-১৯ যেহেতু বৈশ্বিক মহামারী সরকারের একার পক্ষে মোকাবেলা সম্ভব নয়। তাই দল-মত, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক কাতারে এসে সকল সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে করোনা ভাইরাস নিরাময়ে কাজ করতে হবে। যেহেতু করোনা ভাইরাসের প্রমাণিত প্রতিষেধক বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানী বা কোন প্রতিষ্ঠান এখনও আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়নি তাই সবার পরামর্শ হল-স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মহান রবের সাহায্য কামনা করা।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • করোনা, ঈদ এবং ইসলামে মানবতাবোধ
  • ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর ঈদুল আযহা
  • করোনাকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
  • আনন্দযজ্ঞে আমন্ত্রণ
  • ত্যাগের মহিমায় কুরবানির ঈদ
  • চাই পথের দিশা
  • ভাটি অঞ্চলের দুর্দশা লাঘব হবে কি?
  • মুক্ত পানির মাছ সুরক্ষায় যা প্রয়োজন
  • উন্নত দেশে মসজিদে গৃহহীনদের আশ্রয়
  • তাইওয়ান সংকট
  • কোরবানী : ঈমানের পরীক্ষা
  • বন্যা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা
  • শিক্ষা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের রক্ষা করতে হবে
  • বিসিএস এবং অন্যান্য আলোচনা
  • হজ্ব বাতিলের ইতিহাস
  • মহামারী করোনা ও সেবার মানসিকতা
  • জিলহজ্জের প্রথম দশকে করণীয়
  • জিলহজ্জের প্রথম দশক : ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়
  • প্রসঙ্গ : শিশুদের নিরাপত্তা
  • চেনাজানা বিশ্বকে পাল্টে দিয়েছে করোনা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT