সম্পাদকীয় একজন ভালো মানুষ একজন ভালো মানুষ তৈরি করতে পারে। -মেনাণ্ডার

ত্রাণের অর্থ লুটপাট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৭-২০২০ ইং ০২:০০:০৯ | সংবাদটি ১২৩ বার পঠিত
Image

অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে নির্বাচিত গণ-প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে ৯৪ জন ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বারের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামছে দুর্নীতি দমন কমিশন। করোনাকালীন দুর্যোগে ত্রাণের চাল বিতরণসহ খাদ্যবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি এবং অন্যান্য কর্মসূচিতে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বঞ্চিত করে বরাদ্দ চাল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের এই গণপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তদের দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে। এছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে দুর্নীতির অভিযোগে ২০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

এ প্রসঙ্গে একটি কথা বলা খুবই জরুরি। সেটা হলো, অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ কেবল নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের ওপরই নয়, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের ওপরও রয়েছে। সম্ভবত আমাদের এই দুর্ভাগা জাতির ভাগ্যেরই লিখন হয়তো এটি। অনিয়ম, দুর্নীতি, সরকারি অর্থআত্মসাতের ঘটনা এদেশে নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। সরকারি বিভিন্ন দপ্তর, বিভাগে অনিয়ম-দুর্নীতির ছড়াছড়ি অতীতেও ছিলো, আছে এখনও। তবে দুঃখজনক হলো প্রতিনিয়ত এর মাত্রা বেড়ে চলেছে। ভোক্তভোগী মানুষেরা ঢালাওভাবে অভিযোগ করেন যে, সরকারি কর্মচারীরা বেশির ভাগই দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর। নি¤œপদস্থ পিয়ন দারোয়ান থেকে শুরু করে উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ পর্যন্ত রয়েছে ঘুষ-দুর্নীতির বিস্তার। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জনকারী সরকারি চাকরিজীবীরা সরকার প্রদত্ত চেয়ারে বসে কীভাবে, যাদের ট্যাক্স-এর টাকায় তারা বেতন ভাতা পায় সেই নিরীহ জনগণকে ফাঁদে ফেলে তাদের পকেট কেটে ঘুষের টাকা আদায় করে? কীভাবেই বা তারা সরকারি অর্থ সম্পদ লুটপাট করে? চোর-ডাকাত-ছিনতাইকারীদের সঙ্গে তাদের কী পার্থক্য থাকলো? মোদ্দা কথা হলো তারা এসব নিয়ে ভাবে না কিছুই। ‘চোর নাহি শুনে ধর্মের কাহিনী’। চোর তো চোরই সে শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিতই হোক। আর এই শিক্ষিত চোর ডাকাতদের অপকর্মে সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছে দুর্নীতিবাজ গণপ্রতিনিধিরা। জনগণ তাদেরকে ভোট দেয়। তারা চেয়ারম্যান-মেম্বার বা এমপি হয়, সেই জনগণেরই সেবা করার জন্য। কিন্তু তাদের ক’জনই বা জনসেবার কাজে নিজেকে নিয়োজিত করছে? অনেকে জনসেবা নয়, বরং জনগণের সর্বনাশ করতেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এর একটা উদাহরণ হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থ আত্মসাত। বিশেষ করে চলমান করোনা-দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ অর্থ ও খাদ্য সাহায্য আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
আশাবাদী মানুষেরা বলেন, এই অনিয়ম, দুর্নীতি, লুপাটের রাজত্ব একদিন অবশ্যই বন্ধ হবে। কিন্তু সেইদিন কবে আসবে? বিশ্বকে তছনছ করে দেয়া করোনাও যাদেরকে কোন শিক্ষা দিতে পারেনি, মানবিক মূল্যবোধকে জাগিয়ে তুলতে পারেনি, তাদের মনের অমানিশা দূর করতে কি করোনার চেয়েও ভয়ংকর দুর্যোগ অপেক্ষা করছে? আসল কথা হলো, আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে, দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসলে, তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে পারলে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাটের মাত্রা কমে আসবে; এটা নিশ্চিত। দুর্নীতিবাজ গণপ্রতিনিধিরা যাতে আইনের ফাঁকফোকরে পার পেয়ে যেতে না পারে, সেটা নজরদারীতে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর, লুটপাটকারী সরকারি চাকরীজীবিদের বিরুদ্ধে চালাতে হবে কঠোর দমন অভিযান।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT