'/> SylheterDak.com.bd
উপ সম্পাদকীয়

চীন-ভারত স্নায়ুযুদ্ধ : বাংলাদেশে প্রভাব

সামছুল আবেদীন প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৭-২০২০ ইং ০২:০০:৫৮ | সংবাদটি ৪৮১ বার পঠিত
Image

প্রারম্ভিক আলোচনা: ভারত -চীন সম্পর্ক বাংলাদেশের বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কুটনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দু'দেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অপরিহার্য। তবে বর্তমানে উভয় দেশের মাঝে চলছে বৈরীতা। মূলতঃ দু'দেশের সীমানা বিরোধ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় অর্ধ-শতাব্দীরও বেশি সময় জুড়ে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটতে থাকে। তবে বাংলাদেশের অঙ্গনে উভয় দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করবে তা মোটামুটি আঁচ করা যায়। আর এজন্যই বাংলাদেশ চাইবে যাতে এ সংকট যথাশীঘ্র প্রশমিত হয় এবং উভয় দেশের সহাবস্থান ঘটে। মূল প্রেক্ষাপট : ভারত নিয়ন্ত্রিত লাদাখ জেলা মূলত তিব্বতীয় সমাজব্যবস্থায় পরিচালিত হতো। তিব্বত ও লাদাখের সিংহভাগ মানুষ বৌদ্ধ ধর্মের অনুসারী হওয়ায় উভয় অঞ্চলের মানুষ মিলিতভাবে ধর্মকর্ম পালন করতো। সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ ভাগে তিব্বতের সাথে ভুটানের দ্বন্দ্ব শুরু হলে লাদাখ ভুটানের পক্ষ নেয় এবং ১৬৮৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিব্বত-লাদাখ-মুঘল যুদ্ধ চলে। কাশ্মিরের সহযোগিতায় এ যুদ্ধে লাদাখ জয়ী হলে কাশ্মিরের সাথে লাদাখের সখ্যতা গড়ে উঠে। ১৬৪২ সালে লাদাখ-তিব্বত সীমান্ত নিয়ে যে শান্তি আলোচনা হয়, তা মেনে চলার ব্যাপারে একমত পোষণ করে ভারত। পরে ১৮৪২ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের মহারাজা ও তিব্বতের তৎকালীন আধ্যাত্বিক নেতা দালাই লামা এ ব্যাপারে আবার একমত পোষণ করেন। পরবর্তীতে চীনের সম্রাট এই চুক্তি অনুমোদন করেন। ১৮৫০ খ্রিষ্টাব্দে লাদাখে ইউরোপীয়দের আনাগোনা শুরু হলে বাণিজ্যিক সুবিধার জন্য লে-লাদাখ অঞ্চলকে কাশ্মিরের সাথে যুক্ত করা হয়। তখন জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখ আলাদা প্রদেশ গঠন করে একীভূত হয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালাতে থাকে। পরবর্তীতে ব্রিটিশ-ভারত ও চীনের মধ্যে সীমানা মিমাংসার জন্য বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রথমে, ১৯০৭ সালে অ্যাংলো-রাশিয়ান কনভেনশনে ব্রিটিশ সরকার প্রথম 'সিমলা চুক্তি' প্রত্যাখান করে। তারপর ১৯১৪ সালে পুনরায় 'সিমলা চুক্তি'র মাধ্যমে ম্যাকমোহন লাইন দ্বারা বর্তমান ভারত ও চীনের মধ্যে আইন স্বীকৃত সীমানা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু এতে চীনের আপত্তি থেকে যায়। তাদের দাবি দক্ষিণ-শিংজ্যাং (বর্তমান আক্সাই চিন) ও ভারতের অরুণাচল প্রদেশ দক্ষিণ তিব্বতের অংশ। চীনের হিসেব অনুযায়ী অষ্টাদশ শতাব্দীতে যে সীমান্তরেখা ছিল, তাতে অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের কিছু অংশ তৎকালীন চীন সাম্রাজ্যের অংশ ছিল। ব্রিটিশরা যখন ১৯১৩ সালে 'সিমলা চুক্তি' করে একটি সীমান্তরেখা এঁকেছিল, ম্যাকমোহন লাইন এবং অন্যান্য লাইন, সেটা চীন কখনো মানেনি। কিন্তু ব্রিটিশদের চিহ্নিত সেই সীমারেখাই ভারত বরাবার দাবি করেছে। ১৮৯৯ সালে সীমান্তবর্তী লাদাখ এলাকা কারাকোরাম পর্বত থেকে তিব্বতের কাছাকাছি অবস্থিত সিন্ধু নদ পর্যন্ত সীমানা নির্ধারণ করা হয়। ১৮৯৯ সালের আলোচনা ও নীতিমালা অনুসারে ভারতের জম্মু-কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী দেপসাং এলাকা ভারতের অংশ বলে নির্ধারণ করা হয়। সমগ্র চীন-ভারতীয় সীমান্ত (পশ্চিম লকে, কেন্দ্রের ছোট অনির্বাচিত অংশ এবং পূর্বদিকে ম্যাকমাহন লাইন সহ) ৪,০৫৬ কিলোমিটার (২৫২০ মাইল) দীর্ঘ এবং পাঁচ ভারতীয় রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে : জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তরাখ-, হিমাচল প্রদেশ , সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশ। [তথ্যসূত্র : উইকিপিডিয়া] 'আকসাই চিন' হল ভারত ও চীন এর মধ্যকার এক বিতর্কিত অঞ্চল। ভারতের মতে, এটি ভারতের জম্বু এবং কাশ্মীর রাজ্যের লাদাখের অংশ। অপর পক্ষ চীন এর মতে,'আকসাই চিন' তাদের জিংজিয়াং প্রদেশের অংশ। এই অঞ্চলটির আয়তন ৩৭,০০০ বর্গ কিলোমিটার। ১৯৬২ সালের প্রথম চীন-ভারত রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের আগে 'আকসাই চিন' ভারত এর লাদাখের অংশ ছিল। যুদ্ধের পর অরুণাচল প্রদেশ এর পশ্চিম সিয়াং জেলার একাংশ মেচুকা উপত্যকা অঞ্চলটিও চীন এর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।বর্তমান যুদ্ধাবস্থান : তিব্বত থেকে পূর্ব লাদাখের গালওয়ান উপত্যকা, নাকুলা এবং প্যাগং লেক পর্যন্ত বিরাট জায়গা জুড়ে থাকা ওই হ্রদটির দুই-তৃতীয়াংশ চীনের দখলে রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৫,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত প্যাগং লেক পৃথিবীর সবচেয়ে উঁচু লবণাক্ত লেক। এই অঞ্চল নিয়ে এখনও ভারত ও চীনের মধ্য বিবাদ রয়েছে। গালওয়ান ভ্যালি বর্তমান আক্সাই চিনের নিকটবর্তী ভারতের লাদাখ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। এ ভ্যালির পশ্চিমাংশে ভারতের চুশুলের মাঝ বরাবর চীন কর্তৃকরেড লাইন দ্বারা সীমানা নির্ধারণ করে এবং পূর্বাংশে আগের আক্সাই চিন সীমানা বরাবর ভারত কর্তৃক ব্লাক লাইন দ্বারা সীমানা নির্ধারণ করে। কিন্তু উভয় দেশ তাদের দাবি জোরদার করতে বদ্ধপরিকর। গালওয়ান উপত্যকাটা মূল লাদাখেরই অংশ। যে লাদাখের একাংশ জম্মু-কাশ্মীরের রাজা দখল করে নিয়েছিলেন ১৮৩৪-এ। সেই সূত্রেই ওই অংশ পরে ব্রিটিশদের হাতে এসেছে এবং ১৯৪৭-এর পর ভারতের নিয়ন্ত্রণে। ১৯৬২ সালের পর থেকে এ অংশেই চীন-ভারত স্নায়ুযুদ্ধ তুঙ্গে। একাধিকবার উভয় দেশের বাহিনীর মধ্যে হাতাহাতির সংঘর্ষ ঘটে। সম্প্রতি ১৫ ও ১৬ জুন ২০২০, গালওয়াল উপত্যকায় ভারত কর্তৃক রাস্তা নির্মাণ করা হলে নতুন করে সংঘর্ষ ঘটে। এতে, ২০ জন ভারতীয় জওয়ান নিহত ও উভয় দেশের আনুমানিক ৬০ জন সৈন্য গুরুতর আহত হয়।ডয়চে ভেলে পত্রিকার প্রতিবেদনে ভারতের প্রবীণ সাংবাদিক জয়ন্ত রায়চৌধুরি জানিয়েছেন, চীন আমাদের কাছ থেকে সব চেয়ে বড় সম্পদ যেটা নিয়ে নিয়েছে তা হলো আকসাই চিন। সেখান দিয়েই তিব্বত থেকে পাকিস্তানের মধ্যে রাস্তা যাচ্ছে। এরপর লাদাখ নিয়ে সিদ্ধান্তে চীন উদ্বিগ্ন।২১ জুন, ২০২০, বিবিসি বাংলা খবরে বলা হয়, ১৫ ও ১৬ই জুন এলএসিতে সংঘাতে ২০ জন ভারতীয় সৈন্য মারা যাওয়ার পর থেকে ঐ অঞ্চলের পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, পরিস্থিতি এতটাই অস্থিতিশীল যে চীন ও ভারতের সৈন্যরা যদি মুখোমুখি অবস্থান নেয়, তাহলে আবার সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন পর্যন্ত উভয় দেশ তাদের নিজ নিজ সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। বলাবাহুল্য যে, চীন-ভারত সংঘাত নতুন দিকে মোড় নিতে যাচ্ছে। তবে উভয় দেশের মাঝে আগের মতো দহরমমহরম থাকছে না সেটা স্পষ্ট। স্নায়ুযুদ্ধ: গালওয়ান উপত্যকায় চীনা সেনাদের হাতে ২০ ভারতীয় সেনা সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় সীমান্তে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রতিশোধ নিতে মরিয়া ভারত লাদাখে যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার পাঠিয়েছে। চীনও পিছু হটেনি, বরং উত্তেজনা বাড়িয়ে সেনা বৃদ্ধি করে চলেছে। গত ২৫ জুন ২০২০, তারিখে প্রকাশিত জার্মান ভিত্তিক সংবাদ Deutsche Welle (DW) জানায়, 'লে' শহরের অবস্থা যথেষ্ট থমথমে এবং আকাশ সরগরম। ভারতীয় সীমানা আকাশে সমানে যুদ্ধবিমান উড়ছে। পাক খাচ্ছে, সেনা হেলিকপ্টার। 'লে' শহর থেকে বেরলেই পুলিশ ও সেনার অসংখ্য চেক পোস্ট মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সমানে সেনার গাড়ি যাচ্ছে। সূত্র জানাচ্ছে, গালওয়ানে ভারত ও চীনের সেনা একেবারে মুখোমুখি রয়েছে। একাধিক বলয়ে সেনা রয়েছে। সবমিলিয়ে এই অঞ্চলে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। চীনও সমানসংখ্যক সেনা মোতায়েন করেছে। বাংলাদেশের প্রভাব : পৃথিবীর বৃহত্তম ব-দ্বীপ বাংলাদেশ এবং পৃথিবীর সর্ববৃহৎ উপসাগর, বঙ্গোপসাগর। সমুদ্র বাণিজ্যের সবচেয়ে আদর্শ নৌবন্দর বাংলাদেশে। বিশ্ব বাণিজ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় টিকে থাকার ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের জন্য বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি স্থান। আর সেজন্যে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান সহ ইউরোপীয় যেকোনো পরাশক্তিই বঙ্গোপসাগরকে নিজের আয়ত্তে রাখতে চাইবে। এক্ষেত্রে অবশ্য ভারতের পাশাপাশি এশিয়ার আরেক পরাশক্তি চীন বেশ এগিয়ে। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নানা ঘটনা চীন এবং ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণের মাঝে বাংলাদেশের অবস্থান প্রাকৃত।'ইস্ট এশিয়া ফোরামে, ফরেস্ট কুকসন এবং টম ফেলিক্স জোয়েনক নামে দুজন অস্ট্রেলিয়ান গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে China and India geopolitical tug of war for Bangladesh শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়, বাংলাদেশ নিয়ে চীন এবং ভারতের ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব যুদ্ধ’। এটি প্রকাশের কিছুদিন পরপরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ওয়ার্ল্ড পলিটিক্স রিভিউয়ে প্রকাশিত হয়; Why India and China Are Competing for Better Ties With Bangladesh (বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে কেন ভারত আর চীনের মধ্যে এত প্রতিদ্বন্দ্বিতা?) শীর্ষক আরেকটি মতামত। উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলারসের মাইকেল কুগেলম্যান তার এই মতামতটি প্রকাশ করেন। [সূত্র: রোর মিডিয়া] বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক : বাংলাদেশ একমাত্র প্রতিবেশী দেশ, নানা টানাপড়েন সত্ত্বেও যাদের সঙ্গে ভারতের একটা পরীক্ষিত সুসম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের তিন দিকে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, মেঘালয়, মিজোরাম এবং পশ্চিমবঙ্গ এই পাঁচটি রাজ্যের মোট ৪,১৫৬ কিমি (২,৫৮২ মাইল) লম্বা আন্তর্জাতিক সীমানাঅংশ রয়েছে যা বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম ভূমি সীমানা। ভারত সরকারের দৃষ্টিতে জাতীয় নিরাপত্তা, রাজনৈতিক এবং বাণিজ্যিক কারণে বাংলাদেশ তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ও পূর্ব-পশ্চিমাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষায় বাংলাদেশ ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথের সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করছে। তাছাড়া, বাংলাদেশে ভারতীয় বাজার দখলের জন্যও বাংলাদেশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে। তবে বিগত কয়েকবছরে সীমান্ত হত্যা বেড়ে যাওয়ায় এবং বিভিন্ন সময় ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশকে হেয় করে সংবাদ প্রকাশ করায় ভারতের প্রতি সাধারণ জনগণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অনস্বীকার্য। এজন্যই ভারত বাংলাদেশের পরমতম বন্ধু রাষ্ট্র।বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক : চীন হচ্ছে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশ্বস্ত বন্ধু। বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক সত্তর দশকের প্রথমার্ধ কিংবা তারও পূর্ব থেকে। নানা খাতের উন্নয়নে চীন বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু। এ দেশের উন্নয়নে চীন সরকার ঋণ ও অনুদান চলমান। বাংলাদেশে এবার নতুন করে যোগাযোগ, রেল, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পানি, স্যানিটেশন, আইসিটি ও শিপিং এই আট খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে চায় দেশটি। পদ্মাসেতু প্রকল্পের মত মেঘা প্রজেক্টেও চীন অনুদান দিয়েছে। সাম্প্রতিক চীনের বাজারে নতুন করে বাংলাদেশের ৫ হাজার ১৬১টি পণ্যেকে শুল্কমুক্ত প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে চীন। বাংলাদেশি পণ্য চীনে ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা পাবে। নতুন করে ৯৭ শতাংশ শুল্কমুক্ত ঘোষণা দেওয়ায় বাংলাদেশ ৮ হাজার ২৫৬টি পণ্যে এ সুবিধা পাবে। আগামী ১ জুলাই, ২০২০ থেকে এ শুল্কমুক্ত পণ্য রপ্তানি কার্যকর হবে। বাংলাদেশের বাজারে চীনের পণ্য প্রায় একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে আছে। এছাড়াও বিভিন্ন দূর্যোগে সব সময় চীনের সম্প্রসারিত হাত পেয়েছে বাংলাদেশ। চীন বাংলাদেশসহ সমগ্র এশিয়াকেই বাণিজ্য, অর্থনীতি এবং সামরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রভাবিত করতে চাচ্ছে।বাংলাদেশের প্রভাব: বাংলাদেশে ভারত ও চীন উভয়েই বাণিজ্য বিস্তারের মাধ্যমেই প্রভাব বিস্তারে আগ্রহী। চীন এবং ভারত উভয়েই চাইবে দুর্বল বাংলাদেশের ওপর প্রভাব বিস্তার করে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করতে। উভয়েরই বাংলাদেশে ব্যাপক বাণিজ্য সম্ভাবনা বিদ্যমান। লক্ষ্য করলে দেখা যায়, চীন বাংলাদেশের সাথে উদারনীতি আচরণ করলেও সেখানে ভারত অনেকটাই পিছিয়ে। এমতাবস্থায় ভারতের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলে চীনের সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্ক ভারতের জন্য দুশ্চিন্তার এবং চীনের জন্য তা কৌশলগত সাফল্যও বটে। আর তাই উভয় দেশের জন্য বাংলাদেশ এখন তুরুপের তাস পরিশেষে বলতে চাই, আমরা যুদ্ধে রক্তক্ষরা, আপনহারা মৃত্যঞ্জয়ী জাতি। যুদ্ধ-ক্ষতের যন্ত্রণা যে কী বিষাদময় তা আমাদের চেয়ে আর কেউ অনুধাবন করতে পারবে না। তাই বাংলাদেশের মানুষ যুদ্ধ চায় না। শান্তি চায়। পারস্পরিক সহনশীল আচরণ চায় এই শ্লোগানে, যুদ্ধ বন্ধ হোক, বিশ্ব শান্ত হোক।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • করোনা, ঈদ এবং ইসলামে মানবতাবোধ
  • ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর ঈদুল আযহা
  • করোনাকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
  • আনন্দযজ্ঞে আমন্ত্রণ
  • ত্যাগের মহিমায় কুরবানির ঈদ
  • চাই পথের দিশা
  • ভাটি অঞ্চলের দুর্দশা লাঘব হবে কি?
  • মুক্ত পানির মাছ সুরক্ষায় যা প্রয়োজন
  • উন্নত দেশে মসজিদে গৃহহীনদের আশ্রয়
  • তাইওয়ান সংকট
  • কোরবানী : ঈমানের পরীক্ষা
  • বন্যা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা
  • শিক্ষা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের রক্ষা করতে হবে
  • বিসিএস এবং অন্যান্য আলোচনা
  • হজ্ব বাতিলের ইতিহাস
  • মহামারী করোনা ও সেবার মানসিকতা
  • জিলহজ্জের প্রথম দশকে করণীয়
  • জিলহজ্জের প্রথম দশক : ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়
  • প্রসঙ্গ : শিশুদের নিরাপত্তা
  • চেনাজানা বিশ্বকে পাল্টে দিয়েছে করোনা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT