উপ সম্পাদকীয়

করোনা ও মানবিক সহযোগিতা

পিযুষ চক্রবর্তী প্রকাশিত হয়েছে: ০৩-০৭-২০২০ ইং ০২:০১:৩৬ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত
Image

মানব জাতি এখন সংকটাপন্ন। বৈশ্বিক প্রাণঘাতী ভাইরাস নোভেল করোনা শুধুমাত্র চীনের উহান শহরে সংক্রমিত করে থেমে নেই, বর্তমানে বিশ্বের ২১৫ টি দেশে কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ। আক্রান্ত হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ লোক।
¯্রষ্টার লীলাময় জগতে প্রকৃতিনির্ভর বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন শ্রেষ্ঠজীব মানুষ আজ দিশেহারা। জ্ঞান-বিজ্ঞান ও কৃত্রিমতা সম্পন্ন ক্ষমতাধর-ধনাঢ্য রাষ্ট্রগুলোর মানুষজন ও রেহাই পাচ্ছে না করোনাভাইরাসের প্রাণঘাতী সংক্রমণ থেকে। বরং পৃথিবীর শক্তিশালী দেশ আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী ও মৃত্যুর হার।
করোনা উৎপত্তিস্থল বিশ্বের জনবহুল চীন দেশ। এছাড়া ইংল্যান্ড, রাশিয়া, ইটালী, ফ্রান্স ও ভারত সহ বাংলাদেশ বিশ্বের ২০তম পর্যায়ে রয়েছে করোনা আক্রান্ত ও সংক্রমণের দিক দিয়ে। যেখানে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা সহ সকল দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা দিশেহারা। তবে বিশ্বের সকল দেশের নোভেল করোনাভাইরাস প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ও সতর্কীকরণে কিছু নিয়ম মেনে চলার কথা বলছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ।
সকল মানুষকে মাস্ক পড়তে হবে। সাবান দিয়ে দিনে কয়েকবার হাত ধুতে হবে। একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বাহির হওয়া যাবে না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। খাবার দাবার খেতে হবে বুঝে শুনে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় এমন পুষ্টিমান মৌসুমী ফল খেতে হবে।
করোনাভাইরাস একটি অদৃশ্য ও নীরবঘাতক। কখনও এর লক্ষণ হাঁচি-কাশি ও সর্দির ন্যায়, আবার কখনও এর লক্ষণ বুঝা যায় না, এমনটি ধারণা করা হয়। তাই করোনা থেকে রক্ষা পেতে হলে ¯্রষ্টাকে ডাকতে হবে।
মানুষে মানুষে সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। প্রকৃতির উপর চরম আঘাত আসে এমন কৃত্রিমতা নিয়ন্ত্রিত করতে হবে। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, আর এই বিশ্বের মানুষের উপর নোভেল করোনাভাইরাস কর্তৃক নেমে আসার অমানিশা, যা ভাবতেই অবাক লাগে।
আমরা বাংলাদেশীরা একাত্তরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে শত্রুমুক্ত করে দেশ স্বাধীন করেছি। করোনাভাইরাসকে যেদিন মনে করি প্রাণঘাতী শত্রু, তাকেও প্রতিহত করতে হবে প্রতিরোধমূলক নিয়ম মেনে। সরকার তথা দেশবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে। প্রত্যেকেই জানি চৎবাবহঃরড়হ রং নবঃঃবৎ ঃযধহ পঁৎব. সরকারের স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কবাণী মেনে চলব। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখব। করোনা সন্দেহ প্রমাণিত হলে চিকিৎসার জন্য যথাস্থানে সংক্রমিত ব্যক্তিকে পৌঁছে দেবার ব্যবস্থা করব।
যার যার ধর্মীয় রীতিতে ¯্রষ্টার নিকট প্রার্থনা করব এবং করোনা মুক্তি কামনা করব।
বিশেষ করে লক্ষ্য রাখতে হবে মানুষ যেন মানুষের করুণার পাত্র না হয়, মানবিক সহযোগিতা পায় সকলে সকলের নিকট। করোনায় সংক্রমণ হওয়ার আতংকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা লকডাউন দেওয়ায় মানুষজন নানাভবে সমস্যার সম্মুখীন হন। কেউ চাকুরী হারায়, কেউ ব্যবসা বন্ধ করে দেয়, কেউবা ভাড়া করা বাসার ভাড়া দিতে পারছেন না, কেউ বা নিত্য দ্রব্যের অধিক দামের কারণে খাদ্য দ্রব্য ক্রয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। সকল সমস্যা মানুষের জন্য। আর মানুষই পারেন যার যার অবস্থান থেকে মানুষকে সহযোগিতা করতে।
সরকার তো জনগণের জন্য কল্যাণকর সার্বিক সহযোগিতা করবেন-ই। এছাড়া ধনাঢ্য ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংস্থার মানুষজনও অসহায় মানুষদের প্রতি সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করবেন নানা উপায়ে। সবকিছুরই শুরু ও শেষ রয়েছে। করোনাও অচিরেই শেষ হবে, মানুষ ফিরে পাবে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা, এমনটাই প্রত্যাশা।
লেখক : কবি

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • করোনা, ঈদ এবং ইসলামে মানবতাবোধ
  • ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর ঈদুল আযহা
  • করোনাকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
  • আনন্দযজ্ঞে আমন্ত্রণ
  • ত্যাগের মহিমায় কুরবানির ঈদ
  • চাই পথের দিশা
  • ভাটি অঞ্চলের দুর্দশা লাঘব হবে কি?
  • মুক্ত পানির মাছ সুরক্ষায় যা প্রয়োজন
  • উন্নত দেশে মসজিদে গৃহহীনদের আশ্রয়
  • তাইওয়ান সংকট
  • কোরবানী : ঈমানের পরীক্ষা
  • বন্যা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা
  • শিক্ষা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের রক্ষা করতে হবে
  • বিসিএস এবং অন্যান্য আলোচনা
  • হজ্ব বাতিলের ইতিহাস
  • মহামারী করোনা ও সেবার মানসিকতা
  • জিলহজ্জের প্রথম দশকে করণীয়
  • জিলহজ্জের প্রথম দশক : ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়
  • প্রসঙ্গ : শিশুদের নিরাপত্তা
  • চেনাজানা বিশ্বকে পাল্টে দিয়েছে করোনা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT