শেষের পাতা বিদ্যুতের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন

বন বিভাগের বাধায় বিদ্যুৎহীন কমলগঞ্জের দুই গ্রাম

কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা ঃ প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৭-২০২০ ইং ০২:১৭:১৮ | সংবাদটি ৭৬ বার পঠিত
Image

গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে বন বিভাগ ও বিদ্যুৎ বিভাগের রশি টানাটানিতে শতভাগ বিদ্যুতের আওতাভুক্ত হতে পারেনি কমলগঞ্জের আদমপুর বনবিট এলাকার কালেঞ্জি খাসিয়াপুঞ্জি ও পুঞ্জির বাইরের কালেঞ্জি গ্রাম।
নতুন করে কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামে বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু হলে গতকাল ৪ জুলাই শনিবার দুপুর ১২টায় কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জির প্রবেশপথে পুঞ্জি ও গ্রামের নারী-পুরুষ মিলে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
জানা গেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় ঘোষণা করলেও মূলত কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও সংলগ্ন একটি গ্রাম বিদ্যুতের আওতার বাইরে ছিল। এ নিয়ে গত ৪ মার্চ গণমাধ্যমে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল।
কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জির বিদ্যুতায়নে বন বিভাগের বাধা ও বিদ্যুতের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচির খবর শুনে গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সমতল ভূমি থেকে প্রায় ৫শ ফুট উপরে পাহাড়ি টিলার স্তরে স্তরে খাসিয়া সম্প্রায়ের বসতঘর। আঁকাবাঁকা পথে ১৫২টি সিড়ি বেঁয়ে টিলার উপরে পুঞ্জির হেডম্যানসহ অন্যদের বাসায় পৌঁছাতে হয়। খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫টি পরিবারে প্রায় ৬শ লোকের বসবাস। তাদের আয়ের প্রধান উৎস জুমের খাসিয়া পান ও লেবু। পুঞ্জির পার্শ্ববর্তী কালেঞ্জি গ্রামেও ৫০টি পরিবারে প্রায় অর্ধ সহস্রাধিক লোকের বসবাস। বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও বিদ্যুৎ পৌঁছেনি এই দুই গ্রামে। এছাড়া রাস্তারও বেহাল দশা।
খাসিয়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা বলেন, মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করেছে। অথচ এই দু’টি গ্রাম এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আসেনি। কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫টি পরিবার দৈনন্দিন নানা সমস্যায় জর্জরিত। বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দু’টি গ্রামে বিদ্যুতায়ন সম্ভব হচ্ছে না। পুঞ্জির নারী-পুরুষ সদস্যরা টিলার নিচের কূপ থেকে পানি সংগ্রহ করে টিলার উপরে তুলে নিয়ে আসেন। বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত হলে বৈদ্যুতিক পাম্প বসিয়ে নিচ থেকে টিলার উপরে ঘরে ঘরে পানি তোলা যেত।
পুঞ্জির হেডম্যান রিটেঙেন খেরিয়াম বলেন, বিদ্যুৎ ও রাস্তাঘাটের সমস্যার কারণে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কমলগঞ্জে লাউয়াছড়া ও মাগুরছড়া খাসিয়া পুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও বন বিভাগ অহেতুক কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জির বৈদ্যুতিক লাইন স্থাপনে ব্াধা দিয়েছে। কমলগঞ্জকে সরকারিভাবে শতভাগ বিদ্যুতায়নের ঘোষণা দিলেও কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও তৎসংলগ্ন গ্রাম বিদ্যুতায়নের বাইরে রয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর আবারও বন বিভাগ জরিপ কাজ করে। এ জরিপ কাজ শেষে আজ শনিবার সকাল থেকে আবারও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কালেঞ্জি পুঞ্জিতে নতুন করে বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু করে। আর তখনও বন বিভাগের লোকজন এ কাজে বাধা সৃষ্টি করে। আর তার প্রতিবাদে দুপুরে কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জির ৯৫টি পরিবারের সদস্য ও পাশের গ্রামের ৫০টি পরিবারের সদস্যসহ দুই শতাধিক নারী-পুরুষের অংশ গ্রহনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

পুঞ্জির হেডম্যান রিটেঙেন খেরিয়ামের সভাপত্বিতে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, পুঞ্জির সহকারী হেডম্যান ওয়ানবর সুটিং, নাইট খেরিয়াম, সামায়ের খেরিয়াম, সামুয়েল ধার, মোবারক মিয়া প্রমুখ। এ সময় বক্তারা বলেন, সম্প্রতি কমলগঞ্জ উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতায়ন ঘোষণা করা হলেও আমরা কালেঞ্জির বাসিন্দারা বিদ্যুৎ সংযোগ পাইনি। তাই অতি শিগগির আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায় আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবো।
আদমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদাল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও তার পাশের গ্রাম বিদ্যুতায়নের আওতায় আসতে হবে। গত মার্চ মাসে বন বিভাগ সর্বশেষ সরেজমিনে তদন্ত করেছে।গতকাল শনিবার বিদ্যুৎ বিভাগ আবার কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও পাশের গ্রামে বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু করলে বন বিভাগ বাধা সৃষ্টি করে। যা সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক। বনাঞ্চলে অন্যান্য খাসিয়া পুঞ্জিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ থাকলেও কেন বন বিভাগ কালেঞ্জি পুঞ্জিতে বাধা সৃষ্টি করছে তা আমি বুঝতে পারছি না।
আদমপুর বনবিট কর্মকর্তা শ্যামল রায় জানান, কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও গ্রামে বিদ্যুতায়নের জন্য ইতোপূর্বে বন বিভাগ একটি জরিপ সম্পন্ন করলেও বিদ্যুতায়ন কাজ শুরু করা সম্পর্কে তার কাছে বন বিভাগের কোনো নির্দেশনা আসেনি। তাই তিনি আপাতত কাজটি বন্ধ রাখতে বিদ্যুৎ বিভাগকে বলেছেন।
কমলগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার আশেকুল হক বলেন,প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় কমলগঞ্জে শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত হলেও কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও একটি গ্রাম বিদ্যুৎ সুবিধার বাইরে রয়েছে। বন বিভাগের বাধার বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের ডিজিএম প্রকৌশলী গণেশ চন্দ্র দাশ বলেন, কালেঞ্জি খাসিয়া পুঞ্জি ও কালেঞ্জি গ্রামকে বিদ্যুতায়নের আওতায় আনতে কাজ শুরু হয়েছিল। ঠিকাদারের লোকজন খাসিয়া পুঞ্জি এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটিও এনে রাখে। শুধুমাত্র বন বিভাগের আপত্তির কারণে এ দু’টি গ্রামকে এখনও বিদ্যুতায়নের আওতায় আনা যায়নি। এ নিয়ে তিন মাস আগে বন বিভাগ জরুরিভাবে জরিপও করেছে। তাহলে কেন তারা এখন বাধা প্রত্যাহার করছে না তা বোঝা যাচ্ছে না। শতভাগ বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে গতকাল শনিবার থেকে আবারও ঠিকাদারের লোকজন বিদ্যুতায়নের কাজ শুরু করলে বন বিভাগের লোকজন বাধা দেন।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • ঢাকাদক্ষিণে সমাজসেবক রকিব উদ্দিন স্মরণ সভা ও অনুদান বিতরণ
  • ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি নীতিমালার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন
  • আজ থেকে ঈদের ছুটি
  • ঈদুল আযহার দিন সিলেট বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা
  • সিলেট বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৭৫, মৃত্যু ৫
  • লিডিং ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত
  • জকিগঞ্জে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ॥ মা-মেয়েসহ গ্রেফতার ৫
  • সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কে বিআরটিসি দোতলা বাস সার্ভিস ফের চালু
  • ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান কবির ডালিমের স্ত্রীর অকাল মৃত্যু
  • করোনায় মারা গেলেন কাজিটুলা বিহঙ্গ তরুণ সংঘের সভাপতি মিঠু
  • লাক্কাতুরা চা-বাগান স্কুল মাঠ থেকে পশুর হাট সরালো প্রশাসন
  • পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণ, তিনজন ১৪ দিনের রিমান্ডে
  • এই ঈদেও পর্যটক শূন্য থাকবে ‘প্রকৃতি কন্যা’ সিলেট
  • সিলেটে জমেনি মসলার বাজার
  • ঈদের পর করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা
  • স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাজ্জাদের ভাইয়ের ৯ কোটি টাকা অবরুদ্ধ করলো দুদক
  • শেরপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা
  • বিয়ানীবাজারে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে তিন সিএনজিতে আগুন
  • মৌলভীবাজারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে জরিমানা
  • ছাতকে বন্যায় কবরস্থানের উন্নয়ন কাজ বন্ধ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT