সম্পাদকীয় কর্মদক্ষতাই মানুষের সর্বাপেক্ষা বড় বন্ধু। -দাওয়ানী

নকল সুরক্ষা সামগ্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৭-২০২০ ইং ০২:২০:০৪ | সংবাদটি ১৪১ বার পঠিত
Image

নকল সুরক্ষা সামগ্রীতে বাজার সয়লাব। করোনার আতংকে কাবু হয়ে পড়া মানুষদের জন্য এটি আরেক দুঃসংবাদ। বাজারে এখন বেশ জমজমাট ব্যবসা। অন্যান্য যেকোন পণ্যের ব্যবসা যেমনই হোক, স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবসা দিন দিন ফুলে ফেঁপে উঠছে। অভিজাত বিপণী বিতানে যেমন, তেমনি ফুটপাত-রাস্তায় কিংবা ভেনগাড়িতে করে বিকিকিনি হচ্ছে নকল সুরক্ষা সামগ্রী। ক্রেতারা বুঝে না বুঝেই কিনে নিচ্ছেন এগুলো। মূলত করোনা থেকে বাঁচার জন্য এইসব সামগ্রী ব্যবহার করবে সাধারণ মানুষ। এতে তারা সুরক্ষিত নয়, বরং অরক্ষিতই হচ্ছে। এই ব্যাপারটি নিয়ে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় ভুগছেন সচেতন মহল। নকল সুরক্ষা সামগ্রীর পাশাপাশি ব্যবহৃত সামগ্রী যেখানে সেখানে ফেলে দেয়ার ফলে সার্বিকভাবে করোনা পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বত্র সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবহার বাড়তে থাকে। বিশেষ করে মাস্ক, স্যানিটাইজার, হ্যা-গ্লাভস, পিপিই, অক্সিমিটার, পোর্টেবল ভেন্টিলেটর, ফেসশিল্ড প্রভৃতি পণ্যের ব্যবহার বাড়ছে প্রতিনিয়ত। প্রতিদিনই মানুষ বাসাবাড়ি, অফিসসহ নিজের ব্যবহারের জন্য এগুলো কিনছেন। কিন্তু ক্রেতারা বুঝতে পারছেন না কোনটা আসল আর কোনটা নকল। সত্যি বলতে কি, মানুষের মধ্যে এখন যে অস্থিরতা চলছে, তাতে আসল নকল যাচাইয়ের ফুরসত থাকে না বললেই চলে। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে, বাজারের ৯০ ভাগ ওষুধের দোকানেই নকল হ্যা- স্যানিটাইজার, মাস্ক, ডেটল স্যাভলন বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে আশ্চর্য্যরে বিষয় হলো এইসব নকল সামগ্রী এমনভাবে বোতলজাত ও মোড়কজাত করা হয়, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে চিহ্নিত করা প্রায় মুশকিল। এগুলো দেখতে হুবহু আসলের মতোই; যা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ না করলে বোঝা যায় না। বিশেষজ্ঞদের মতে নকল সুরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি মানুষ হত্যার শামিল। তাই যারা এই কাজে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া দরকার। জানা গেছে, করোনার কারণে অন্যান্য ব্যবসা বন্ধ হয়ে পড়ায় অনেক ব্যবসায়ী সুরক্ষা সামগ্রীর বিক্রির কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এই ব্যবসা পরিচালনায় তারা সরকারি কোন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুমতিও নেয়নি।
করোনার মতো ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে যেখানে সারা বিশ্বের মানুষের মধ্যেই মানবিক মূল্যবোধ সবার আগেই গুরুত্ব পাচ্ছে, সেখানে আমাদের দেশের একশ্রেণির মানুষের মধ্যে মানবতা ধংস করার হীন মানসিকতা প্রবল হয়ে ওঠেছে। এখানে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নকল সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে কিংবা করোনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের জন্য বরাদ্দ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী আত্মসাত হচ্ছে লুটপাট হচ্ছে। যারা এসব অপকর্ম করছে এদেরকে কী পরিচয়ে অভিহিত করা হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। আমরা চাই সরকার অচিরেই বাজারে নকল সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT