শেষের পাতা

পাখিবাড়ি

আব্দুল বাতিন ফয়সল ॥ প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৭-২০২০ ইং ০৩:২৪:৩৫ | সংবাদটি ২৪১ বার পঠিত
Image

সিলেট নগরী থেকে মাত্র ১৩ কিলোমিটার দূরের একটি গ্রাম ছালিয়া। বাড়িটির কাছে গেলেই প্রত্যক্ষ করা যায় পাখির কলকাকলি। কিচিরমিচির ডাক। চারপাশে পানিবেষ্টিত বাড়িটি দেখতে অনেকটা লেকের মতো। বাড়ির পানিতে সবুজ কচুরিপানা শোভা পাচ্ছে। চারপাশ বাঁশ ঝাড় ও সবুজ গাছগাছালিতে ঘেরা। এসব গাছ-গাছালিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে পাখির নিড়। মনোরম প্রাকৃতিক শোভামন্ডিত এই বাড়িটির নাম নূর-আনোয়ারাবাদ। গ্রামে অবস্থান হলেও বাড়িটিতে রয়েছে আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা। বাড়িটি এখন ‘নুর উদ্দিন পাখিবাড়ি হিসাবে খ্যাত’। বাড়িতে রয়েছে প্রায় তিন একর জমি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের সামনে বড় একটি পুকুর সান বাধানো ঘাট। পাখির বসবাসের বিষয়টি মাথায় রেখেই যেন বাড়ির পুরো পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। পুকুরের মধ্যে লম্বা লম্বা বাঁশ পানিতে পোঁতা। এটা দেখে বোঝা যায় পাখি বসার স্থান। ব্যক্তি উদ্যোগে পাখিদের এমন অসাধারণ অভয়ারণ্য-সেটা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। যারা পাখি ভালোবাসেন, ভালোবাসেন নিরিবিলি পরিবেশ কিংবা বুনো জগত, তাদের জন্য এটি একটি আদর্শ বাড়ি।
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, বাড়ির প্রধান ফটকের ডান পাশে পায়চারি করছে কয়েকটি হরিণ।
নিরাপদ আবাসনে আপন মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে হরিণগুলো। বাড়িটির যেদিকে চোখ যায় শুধু পাখি আর পাখি। সাদা বক আর পানকৌড়ির উড়াউড়ি। গাছগাছালির সবটিতেই পাখির বাসা। নীচ থেকে দেখা যায় পাখির বাসা। কোনটিতে ডিম নিয়ে , কোনটিতে বাচ্চা নিয়ে বসে আছে মা পাখিরা। বড়ো একটি গাছে ঝুলে রয়েছে অসংখ্য বাদূর। বেশ কিছু সুপারি গাছে রয়েছে বাবুই পাখির বাসা। পাখি ছাড়াও বাড়িতে তিতির পাখি, কবুতর ও দেশী মোরগের সমারোহও দেখা যায়।
বাড়িতে ঢোকার মুহূর্তে সাক্ষাৎ হয় বাড়ির মালিক মো: এমদাদুল হকের সাথে। জানান, ১৮/২০ বছর আগে এই বাড়িটিকে পাখির অভায়রণ্য হিসাবে গড়ে তুলেন তার পিতা মো. নুরুদ্দিন। তিনি বাজারে গেলেই পাখি কিনে আনতেন। বাড়িতে এনে সেই সব পাখি ছেড়ে দিতেন। বাড়ির সকলকে বলতেন, ‘পাখির জায়গা খাঁচায় না, আকাশে’। মুক্ত করে দেয়া সেই সব পাখির কিছু কিছু উড়ে মিলিয়ে যেত আকাশে, আর কিছু পাখি থেকে যেত নুরুদ্দিনের বাড়ির গাছগাছালিতে। সেইসব পাখির দেখাদেখি বাইরে থেকে আরো পাখি আসতে শুরু করে। নিরাপদ আবাসস্থল হিসাবে পাখিগুলো এখানে গড়ে তুলে আবাস। ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফোটায়। ক্রমশ বাড়তে থাকে পাখির সংখ্যা। পাখিদের নিরাপত্তায় নজর দেন নুরুদ্দিন। পাখি চুরি ঠেকাতে নুরুদ্দিন বসান পাহারাও।
২০০৪ সালে পাখিপ্রেমী নুরুদ্দিন মারা যাবার পর পাখিগুলো দেখাশোনার দায়িত্ব নেন তার ছেলে এমদাদুল হক। বাড়িতে বক জাতীয় পাখির সংখ্যাই বেশী। অনেক সময় এখানে শীতের পাখিরাও বসতি গাড়ে। এসব পাখি দিনভর সর্বত্র ঘুরে বেড়ায়। আর সন্ধ্যায় ফিরে ‘আপন নীড়ে’। পাখির দেখভাল করে বেশ আনন্দ উপভোগ করেন বলে জানান এমদাদুল হক। বললেন, তিন সন্তান নিয়ে তিনি বাড়িতেই বসবাস করেন। তারা নগরীর বিভিন্ন ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়াশোনা করে।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • হাকালুকি হাওরে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে পর্যটকের ঢল
  • কোডিভ, নন কোভিড রোগী পরিবহনে শেইড ট্রাস্টে যুক্ত হলো আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স
  • দক্ষিণ সুরমায় ৭ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেফতার
  • করোনা আক্রান্ত মৌলভীবাজার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ঢাকা নেয়া হয়েছে
  • ছাতকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দরগাহ মাদ্রাসা ছাত্রের মৃত্যু
  • শায়েস্তাগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১
  • গোলাপগঞ্জে সাবেক ফরেস্ট রেঞ্জার ফজলু চৌধুরীর ইন্তেকাল
  • জৈন্তাপুরে শিক্ষক ও রাজনীতিবিদ ফয়েজ আহমদ বাবর গুরুতর অসুস্থ
  • পলাতক এক ডাকাতসহ ৩ আসামী গ্রেফতার
  • আম্বরখানায় চামড়া ডাম্পিং নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ
  • গোয়াইনঘাটে শ্বশুর বাড়িতে জামাই খুন ॥ আটক ৮
  • প্রাইজবন্ডের ১০০তম ড্র অনুষ্ঠিত
  • সিলেট বিভাগে আক্রান্ত ৭২ জন, সুস্থ ৭৬ জন
  • শেখ কামাল বেঁচে থাকলে দেশের জন্য অনেক কিছুই করতে পারতেন : প্রধানমন্ত্রী
  • সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় দুই বাহিনীর মধ্যে চিড় ধরবে না
  • আস্ত একটি শেয়াল সাবাড় করে আরেকটি ধরে
  • নবীগঞ্জে কবরস্থান নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৬
  • জগন্নাথপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কারের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রীর নির্দেশ
  • ছাতকে রেলওয়ে নিরাপত্তা প্রহরী হত্যা ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত আরেক আসামী গ্রেফতার
  • ছাতকে বেফাঁস মন্তব্য করে বেকায়দায় পুলিশ কর্মকর্তা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT