সম্পাদকীয় তোমরা যদি প্রকৃত মোমেন হও, তবে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। -আল হাদিস

অপ্রয়োজনীয় ‘সিজার’

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৭-২০২০ ইং ০৩:২৭:৫৬ | সংবাদটি ১৯৩ বার পঠিত
Image

করোনাকালে কমেছে প্রসূতি মায়েদের সিজার অপারেশন। চলতি সময়ে মাত্র চার শতাংশ শিশুর জন্ম হচ্ছে সিজার অপারেশনে। আর ৯৬ শতাংশের জন্ম হচ্ছে নরমাল। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এই চিত্র ছিলো ঠিক উল্টো। সে সময় ৯৬ শতাংশ শিশুরই জন্ম হতো সিজারে। নরমাল হতো মাত্র চার ভাগ শিশুর জন্ম। আর তখন ক্লিনিক-হাসপাতালগুলোতে ৯৫ শতাংশ ইনকামই হতো সিজার থেকে। প্রসূতি মায়ের মৃত্যু ঝুঁকি কমানোর জন্যই সিজার অপারেশনে যেতে হয়- সাধারণত এই ধরনের অজুহাত দাঁড় করায় চিকিৎসকেরা। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বেশির ভাগ নরমাল ডেলিভারি হলেও মা ও শিশুর মৃত্যুর হার বাড়েনি। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত এই পরিসংখ্যানে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, স্বাভাবিক সময়ে চিকিৎসকেরা বেশির ভাগ প্রসূতি মায়েরই অপ্রয়োজনীয় সিজার অপারেশন করছেন। ইতোপূর্বে এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
দেশে স্বাভাবিক সময়ে প্রসূতিদের সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় সিজারের ঘটনা বেড়ে যায়। এতে লাভবান হয় চিকিৎসক-ক্লিনিকের মালিকসহ সংশ্লিষ্টরা। আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় রোগীরা। প্রসবকালীন অস্ত্রোপচারের হার বেড়েছে ৫১ শতাংশ গত কয়েক বছরে। একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা এই তথ্য দিয়ে বলেছে- এটি অপ্রয়োজনীয় এবং এতে মা-বাবাদের সন্তান জন্মদানে ব্যাপক পরিমাণে খরচের ভার বহন করতে হচ্ছে। এই সংস্থাটির মতে ২০১৮ সালে বাংলাদেশী মা বাবারা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানে খরচ করেছেন চার কোটি টাকার বেশি। আর সিজারিয়ানের হার বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে বেশি। বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে যতো শিশুর জন্ম হয়, তার ৮০ শতাংশই হয় সিজারিয়ানের মাধ্যমে। আর ২০১৮ সালে যতো সিজারিয়ান হয়েছে, তার ৭৭ শতাংশই চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় ছিলো বলে এই সংস্থাটি মনে করে। সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে, এই অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের হার দিন দিন বেড়ে চলেছে। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দেশে প্রসবকালীন অস্ত্রোপচার বেড়েছে চার থেকে ৩১ শতাংশ। আরও দুঃখজনক হচ্ছে, এমন কাজের জন্য দায়ী কিছু অসাধু চিকিৎসক, যাদের কাছে সিজারিয়ান একটি ‘লাভজনক ব্যবসা’। এর জন্য আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থার অনিয়ম বিশৃঙ্খলাও অনেকটাই দায়ী।
অনেক সময়ই আমাদের চিকিৎসক সমাজ ভুলে যান যে, এটি একটি সেবামূলক পেশা। মানবসেবার মনোভাব নিয়ে তারা যদি এই পেশায় নিয়োজিত থাকতেন, তাহলে মানুষের এতো ভোগান্তি হতো না। সত্যি বলতে কি, অসাধু চিকিৎসকেরা সিজারিয়ানের বিষয়টিতে অযথা গুরুত্ব দিয়ে একে প্রসূতিদের কাছে অপরিহার্য করে তুলেছেন। তাই অনেকেই বিনা বাক্য ব্যয়ে সিজারিয়ানের ব্যাপারটিকে মেনে নিচ্ছে; আবার অনেকে চিকিৎসকের কথায় বাধ্য হচ্ছে সিজারিয়ানে। অথচ এই সিজারিয়ানে মা ও শিশু উভয়েরই স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। এজন্য অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান থেকে দূরে থাকতে সচেতন হতে হবে প্রসূতি, প্রসূতির পরিবার ও চিকিৎসকদের। আর চলতি করোনাকালে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, সিজার ছাড়াই বেশির ভাগ মা সুস্থ শিশু জন্ম দিতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় সিজার বন্ধে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কঠোর অবস্থানে যাবে বলেই আমরা মনে করি।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT