সম্পাদকীয় বিচার ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণকারী এবং ঘুষ প্রদানকারীর ওপর আল্লাহর অভিশাপ। -মুনতাকা।

কমছে জমির নিবন্ধন ফি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৭-২০২০ ইং ১৩:০৭:২০ | সংবাদটি ২২৮ বার পঠিত
Image

অবশেষে কমছে প্লট ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ব্যয়। দীর্ঘদিন ধরে এ ব্যাপারে দাবী ওঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। প্লট ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি মাত্রাতিরিক্ত থাকায় বর্তমানে আবাসন ব্যবসায় ধস নেমেছে। প্লট ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি বর্তমানে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। এই উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতাই ফ্ল্যাট বা প্লট নিবন্ধনের আগ্রহ দেখান না। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। মূলত আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবীর প্রেক্ষিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন ফি কমানোসহ কয়েকটি বিষয়ে সুপারিশ করেছে। ইতোমধ্যেই একাধিক বৈঠক করে খসড়া সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে এই ওয়ার্কিং কমিটি। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন নিবন্ধন ফি কমানো হলে ঝিমিয়ে পড়া আবাসন ব্যবসা চাঙ্গা হয়ে উঠবে এবং সমৃদ্ধ হবে সার্বিক অর্থনীতি।
এদেশে আবাসন ব্যবসায় স্থবিরতা চলছে বেশ কয়েক বছর ধরে। এর প্রধান কারণই হচ্ছে অতিরিক্ত নিবন্ধন ফি। ইতোপূর্বে জমির সরকারি দাম পুনঃনির্ধারণ করা হয়। কিন্তু রেজিস্ট্রেশনের উচ্চ ফি থাকায় জমি বিকিকিনিতে গতি ফিরছেনা। বিশেষ করে বিগত ২০১২ সাল থেকেই সারাদেশে জমি ও ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশনের পরিমাণ আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেক কমে গেছে। বর্তমানে যা-ও জমি বিকিকিনি হচ্ছে, তাতে ক্রয়মূল্যের অনেক কম দাম দেখিয়ে জমির দলিল করছে ক্রেতারা। এই অবস্থায় বৈধভাবে আয় করা অনেক অর্থসম্পদই অবৈধ হয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। শুধু তাই নয়, উচ্চ হারে রেজিস্ট্রেশন ফি ও সরকার নির্ধারিত জমির ‘আজগুবি’ মূল্য নির্ধারণের জন্য অনেকে জমি কিনে রেজিস্ট্রেশন করছে না। অনেক ক্ষেত্রে দেখাগেছে, ক্রেতা যে দামে জমি কিনেছে, সরকার নির্ধারিত মূল্য এর চেয়ে অনেক বেশী। ফলে জমির দামের প্রায় কাছাকাছি পরিমাণে অর্থ এই ক্রেতাকে ব্যয় করতে হয় রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ। আবার অনেক এলাকায় জমির সরকারি দাম এতো কম ধরা হয়েছে, যার দ্বিগুণ তিনগুল দামেই জমি বিকিকিনি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জমি রেজিস্ট্রেশন করতে দলিল মূল্যের ১৯ শতাংশ পর্যন্ত রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হচ্ছে ক্রেতাকে।
আবাসন ব্যবসায় বন্ধ্যাত্ব কাটিয়ে উঠতে দরকার সময়োপযোগী উদ্যোগ। জমির মূল্য নির্ধারণ করে দিচ্ছে সরকার ১৯৯১ সাল থেকে। সর্বশেষ দাম নির্ধারণ হয় ২০১১ সালে। কিন্তু এই দাম নির্ধারণ অনেক এলাকায়ই যুক্তিসঙ্গত হয়নি বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। সেই সঙ্গে রয়েছে জমি ও ফ্ল্যাটের মাত্রাতিরিক্ত রেজিস্ট্রেশন ফি। এই ফি কমিয়ে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নিয়ে আসার পাশাপাশি জমি বিকিকিনির ক্ষেত্রে সৃষ্ট নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, নিরসনেও এগিয়ে আসতে হবে। অনেক নিরীহ মানুষ জমি রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে ভূমি বিভাগের অসৎ কর্মচারীদের কবলে পড়ে হয়রানীর শিকার হচ্ছেন অহরহ। অনেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ দিয়েও বৈধ জমির রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরী।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT