উপ সম্পাদকীয়

কৃষিতে আমাদের অগ্রযাত্রা

রঞ্জিত কুমার দে প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৭-২০২০ ইং ০৩:৩০:২৮ | সংবাদটি ৬৩ বার পঠিত
Image

স্বাধীনতার পর থেকেই নানা ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। কৃষিক্ষেত্রে সাফল্য আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। শ্যামল বাংলার অর্থনীতির প্রধান উৎস কৃষি। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির সাথে সম্পৃক্ত। কৃষকদের সীমাহীন শ্রম আর আত্মত্যাগের বিনিময়ে গড়ে উঠেছে এদেশের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ। বাংলাদেশের কৃষি আর কৃষকদের কথা বাদ দিলে এদেশের অর্থনীতিকে অস্বীকার করা হয়। শুধু দেশীয় অর্থনীতিতেই কৃষকদের ভূমিকা সমাপ্ত নয়, জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতিতেও আছে কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান। ১৯৭১ সালে বিজয়ের সময় যেখানে আমাদের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি। আজ আমাদের জনসংখ্যা ১৭ কোটি। এক সময় আমাদের সেই সাড়ে সাত কোটি মানুষের খাদ্য উৎপাদন করতেই হিমশিম খেতে হয়েছে দেশকে। তখন আমদানি করে চাহিদা মেটানো হতো। অথচ ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গকিলোমিটার আয়তনে আমাদের দেশটিতে কৃষি জমি একশতাংশও বাড়েনি। বরং কৃষি জমিতে স্থাপনা, কারখানা ও রাস্তাঘাট তৈরি হচ্ছে। তারপরও ক্ষয়িষ্ণু আবাদি জমি থেকে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উদাহরণ। এক কথায় কৃষিখাতে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এ অগ্রযাত্রার অনুঘটক হচ্ছে দেশের অর্থনীতির বুনিয়াদি শক্তি কৃষি অর্থনীতিতে ধারাবাহিক সাফল্য। কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তি, বীজ, সার এবং যন্ত্রের ব্যবহার উৎপাদন বাড়ার পেছনে প্রধান উজ্জীবক শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তার সঙ্গে বিশেষ অবদান রয়েছে কৃষি বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর নিবিষ্ট গবেষণায় নতুন নতুন উচ্চ ফলনশীল, কম সময়ে ঘরে তোলা যায় এমন জাতের কৃষি বীজ উদ্ভাবন। সহজ কিস্তিতে ঋণ ব্যবস্থার কারণে কৃষিতে কাক্সিক্ষত সাফল্য এসেছে। এছাড়া, সরকারের কৃষি বান্ধব নীতি প্রণয়ন ও সময়োপযোগী বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিতের পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে কৃষিতে আজ বিশ্ব পরিমন্ডলে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে জ্বলছে।
এ উজ্জ্বল নক্ষত্র জ্বলার প্রধান কারিগর হচ্ছে এ দেশের কৃষক। কৃষক প্রতিদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করে যেমন দেশবাসীর খাদ্য চাহিদা পূরণ করছে, তেমনি নিজেদের ভাগ্যেরও বদল ঘটাচ্ছে। অর্জন করছে অর্থনৈতিক সচ্ছলতা। প্রধান ফসলের পাশাপাশি নানা বিকল্প ফসল উৎপাদনেও তারা সফলতা দেখাচ্ছে। ধান উৎপাদন বৃদ্ধির মধ্য দিয়ে খাদ্যে স্বয়ং সম্পূর্ণতা যেমন অর্জন হয়েছে, তার পাশাপাশি মৎস্য, পোল্ট্রি, গরু-ছাগল, আলু, গম, ভুট্টা ও নানারকম সবজি উৎপাদনে দেশের কৃষি উদ্যোক্তাদের অভাবনীয় সাফল্য জাতিকে নতুন দিশা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের ধানের উৎপাদন তিন গুণেরও বেশি, গম দ্বিগুণ, সবজি পাঁচগুণ এবং ভুট্টার উৎপাদন বেড়েছে দশ গুণ। বর্তমানে দেশে বছরে গড়ে দুটি ফসল হচ্ছে। স্বাধীনতার পর দেশে প্রতি হেক্টর জমিতে দেড় টন চাল উৎপাদিত হতো। এখন হেক্টর প্রতি উৎপাদন হচ্ছে চারটনেরও বেশি। আর এভাবেই প্রধান খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশ্বের শীর্ষস্থানী দেশের তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। মাছ রপ্তানি বেড়েছে ১৩৫ গুণ। এফএও পূর্বাভাস দিয়েছে, ২০২২ সাল নাগাদ বিশ্বের যে চারটি দেশ মাছ চাষে বিপুল সাফল্য অর্জন করবে, তার মধ্যে প্রথম দেশটি হচ্ছে বাংলাদেশ। এরপর থাইল্যান্ড, ভারত ও চীন। আম উৎপাদনে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অবস্থানে।
বাংলাদেশ থেকে আলু সবজি আম রফতানি হচ্ছে বিদেশে। একই জমিতে বছরে একাধিক ফসল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ এখন বিশ্বের জন্য উদাহরণ। জাতিসংঘ সহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় বাংলাদেশের সাফল্যকে বিশ্বের জন্য উদাহরণ হিসেবে প্রচার করছে। সরকারের ডিমওয়ালা ইলিশ সংরক্ষণ এবং জাটকা নিধন নিষিদ্ধকরণের নীতিমালা বাস্তবায়নের ফলে এখন ইলিশের উৎপাদন বহুল পরিমাণে বেড়েছে। চিংড়ি রপ্তানি থেকে প্রতি বছর আমাদের আয় ক্রমাগতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এক সময় বলা হতো ‘দুধে ভাতে বাঙালি’ কিংবা বলা হতো ‘মাছে ভাতে বাঙালি’। বর্তমান সরকার সুপ্রসারিত কৃষি নীতিতে শুধু দুধে ভাতে বা মাছে ভাতে সীমিত নয় পুষ্টিতেও বাঙালিকে সমৃদ্ধ জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিত করাতে চান। সে লক্ষ্যে বর্তমান সরকার এগিয়ে চলছে। গ্রহণ করছে নানা পদক্ষেপ। এর মধ্যে কৃষির উন্নয়ন ও কৃষকের কল্যাণ সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে রূপকল্প ২০২১ এবং রূপকল্প ২০৪১ গ্রহণ করা হয়েছে। এর আলোকে জাতীয় কৃষিনীতি সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন ডেল্টাপ্লান-২১০০ সহ বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহোদয়ের নানা পদক্ষেপের ফলে কৃষি এখন বাণিজ্যিক কৃষিতে পরিণত হয়েছে। এর ফলে খাদ্যপণ্য উৎপাদনে বিশ্বে এদেশের অবস্থান এখন দশম। জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান এখন ১৪ দশমিক ২৩ শতাংশ।
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • করোনা, ঈদ এবং ইসলামে মানবতাবোধ
  • ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর ঈদুল আযহা
  • করোনাকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
  • আনন্দযজ্ঞে আমন্ত্রণ
  • ত্যাগের মহিমায় কুরবানির ঈদ
  • চাই পথের দিশা
  • ভাটি অঞ্চলের দুর্দশা লাঘব হবে কি?
  • মুক্ত পানির মাছ সুরক্ষায় যা প্রয়োজন
  • উন্নত দেশে মসজিদে গৃহহীনদের আশ্রয়
  • তাইওয়ান সংকট
  • কোরবানী : ঈমানের পরীক্ষা
  • বন্যা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা
  • শিক্ষা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের রক্ষা করতে হবে
  • বিসিএস এবং অন্যান্য আলোচনা
  • হজ্ব বাতিলের ইতিহাস
  • মহামারী করোনা ও সেবার মানসিকতা
  • জিলহজ্জের প্রথম দশকে করণীয়
  • জিলহজ্জের প্রথম দশক : ইবাদতের শ্রেষ্ঠ সময়
  • প্রসঙ্গ : শিশুদের নিরাপত্তা
  • চেনাজানা বিশ্বকে পাল্টে দিয়েছে করোনা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT