শেষের পাতা পানি নামতে না নামতেই ফের বন্যার পদধ্বনি>>নদনদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

সিলেট-সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ॥ দুর্ভোগ চরমে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৭-২০২০ ইং ০২:২৯:০১ | সংবাদটি ২০২ বার পঠিত
Image

বাড়িঘর, রাস্তাঘাট থেকে বন্যার পানি নামতে না নামতে ফের বন্যার পদধ্বনি সিলেট-সুনামগঞ্জে। উজানে প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ি ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা, সারিনদীসহ বিভিন্ন নদনদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাড়িঘর রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে প্লাবিত হচ্ছে। গত সপ্তাহে বন্যার পানি বাড়ি ঘর থেকে নামতে না নামতে ফের বন্যায় দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। বাড়ি ঘরে আশ্রয় নেওয়ার আগেই ফের বন্যার পদধ্বনি দুর্গত মানুষকে চরম বিপদে ফেলেছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানা যায়, গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় সিলেটে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি ৩টি পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে সুরমা কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমা হচ্ছে ১২.৭৫ সন্ধ্যা ৬টায় এ পয়েন্টে সুরমার পানি ১৩.৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সারি নদী সারিঘাট পয়েন্টে বিপদসীমা হচ্ছে ১২.৩৫ সেন্টিমিটার, সন্ধ্যা ৬টায় এই পয়েন্টে ১২.৫৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে নদীর পানি প্রবাহিত হয়েছে। কুশিয়ার নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা হচ্ছে ৯.৪৫ সেন্টিমিটার। সন্ধ্যা ৬টায় এই পয়েন্টে নদীর পানি ৯.৫২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এদিকে, সিলেট আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, গতকাল শুক্রবার সিলেট নগরীতে ২৪ ঘণ্টায় ১৫.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে আর ১২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ১১.৮ মিলিমিটার।
আমাদের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানান, দ্বিতীয় দফা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩ টায় সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮ দশমিক ২ সেন্টিমিটার রেকর্ড করেছে। যা বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শহরতলীর নি¤œাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। এদিকে গতকাল সকাল ৯ টায় সুনামগঞ্জে ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৗশলী মো. সবিবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত হলে ওই বৃষ্টির পানি সুরমা নদীতে এসে পড়ে। চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাওরের ফসল রক্ষার জন্য সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা ছিল ৬ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার এবং ১৫ মে-এর পরে বিপদসীমা হলো ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। ৭ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার অতিক্রম করলেই বর্ষাকালে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমা ধরা হয়।
গত বৃহস্পতিবার বন্যাপূর্বাবাস কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ স্বাক্ষরিত বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, প্রথম দফা বন্যায় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার নি¤œাঞ্চল এখনও প্লাবিত রয়েছে। বন্যার পানি কমতে শুরু করার সপ্তাহকাল না পেরুতেই আবারও গত দু’দিনের টানা বর্ষণ ও মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। প্রথম দফা বন্যায় ভাঙন, ফাটল, ব্রিজের অ্যাপ্রোচসহ বিভিন্ন সমস্যায় উপজেলা সদরের সাথে বিভিন্ন ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও সচল হয়নি। বন্যার পানিতে মাঠ ও গোচারণ ভূমির ঘাস মরে যাওয়ায় গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে কৃষিজীবীরা। অপরদিকে বানভাসিরাও অন্তহীন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এসব শঙ্কা কেটে উঠার আগেই আবারও সুরমা, চেলা, চলতি, মরা চেলা, চিলাই, খাসিয়ামারা, কালিউরি, ধূমখালী ও ছাগলচোরাসহ উপজেলার সবক’টি হাওর, খালবিলে হু হু করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে বুকভরা আশা নিয়ে উঁচু জমিসহ আংশিক নিচু জমিতে দ্বিতীয় ধাপে সদ্য বপন করা আমনের বীজতলা আবারও তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কৃষকরা দিশেহারা। অপরদিকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বর্গা চাষিরা চড়া সুদে আনা দাদন ব্যবসায়ীদের ঋণ পরিশোধের চিন্তায় চোখে সর্ষেফুল দেখছেন।
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভারি বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে আবার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত সপ্তাহের বন্যার পানি কিছুটা কমলেও গত বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে আবার ভারী বর্ষণের সঙ্গে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দ্রুত বন্যার পানি বৃদ্ধির ফলে মানুষের দূর্ভোগও বাড়ছে।
হাওর এলাকার বসতবাড়ি ঢেউয়ের আঘাতে তচনচ করে দিচ্ছে। দুর্গত মানুষগুলো আশপাশের উচু স্থান, বিদ্যালয় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছে। হাওর এলাকার অধিকাংশ ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। তাহিরপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পানি ঢুকে কার্যক্রম ব্যাঘাত ঘটছে। গতকাল শুক্রবার উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে এসব দৃশ্য দেখা গেছে।
শুক্রবার জেলার প্রধান নদী সুরমা, যাদুকাটা, রক্তি ও পাটলাই নদীর পানি বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টায় ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
উপজেলার শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩টি, শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে ৩টি, বালিজুড়ি ইউনিয়নে ১টি ও বাদাঘাট ইউনিয়নের সোহালা গ্রামে ১টি বন্যাশ্রয় কেন্দ্রে মানুষ উঠতে শুরু করেছে।
জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোদ্দাচ্ছির আলম সবুল জানান, স্কুলের বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রটি খোলা রাখা হয়েছে। হাওর এলাকার অনেকেই ফোন করে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • ঢাকাদক্ষিণে সমাজসেবক রকিব উদ্দিন স্মরণ সভা ও অনুদান বিতরণ
  • ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ভর্তি নীতিমালার প্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন
  • আজ থেকে ঈদের ছুটি
  • ঈদুল আযহার দিন সিলেট বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা
  • সিলেট বিভাগে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত ৭৫, মৃত্যু ৫
  • লিডিং ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত
  • জকিগঞ্জে ৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার ॥ মা-মেয়েসহ গ্রেফতার ৫
  • সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়কে বিআরটিসি দোতলা বাস সার্ভিস ফের চালু
  • ইঞ্জিনিয়ার শাহজাহান কবির ডালিমের স্ত্রীর অকাল মৃত্যু
  • করোনায় মারা গেলেন কাজিটুলা বিহঙ্গ তরুণ সংঘের সভাপতি মিঠু
  • লাক্কাতুরা চা-বাগান স্কুল মাঠ থেকে পশুর হাট সরালো প্রশাসন
  • পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণ, তিনজন ১৪ দিনের রিমান্ডে
  • এই ঈদেও পর্যটক শূন্য থাকবে ‘প্রকৃতি কন্যা’ সিলেট
  • সিলেটে জমেনি মসলার বাজার
  • ঈদের পর করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা
  • স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সাজ্জাদের ভাইয়ের ৯ কোটি টাকা অবরুদ্ধ করলো দুদক
  • শেরপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা
  • বিয়ানীবাজারে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে তিন সিএনজিতে আগুন
  • মৌলভীবাজারে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযানে জরিমানা
  • ছাতকে বন্যায় কবরস্থানের উন্নয়ন কাজ বন্ধ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT