উপ সম্পাদকীয়

পাখি, মশা, ভাইরাস, অতঃপর আরো কিছু!

হিফজুর রহমান প্রকাশিত হয়েছে: ১১-০৭-২০২০ ইং ০২:৫২:৩৭ | সংবাদটি ১২৮ বার পঠিত
Image

মানুষ বা অন্য কোনো বড় প্রাণী বধ বা কুপোকাত করবার প্রথম অস্ত্র ছিলো সম্ভবত প্রস্তর তথা শিলাখ-। তারপর মানুষ ভোঁতা লোহা ও অন্যান্য ধাতব বস্তুর নাগাল পায় এবং তাতে শান দিতে শুরু করে। সে শান দেয়া অদ্যাবধি চলছে। কারণ, বন্দুকের কার্তুজ থেকে আণবিক বোমা পর্যন্ত রয়ে গেছে সে ধারালো ধাতব বস্তুর সংশ্লেষ। যদিও হাইড্রোজেন ও অন্যান্য গ্যাসীয় বোমা এবং জীবানু অস্ত্র তৈরি ও মজুদকরণ চলছে, তথাপি লোহার ব্যবহারই অগ্রগণ্য।
বিশ্বব্যাপী অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি, এসবের ব্যবসা এবং সংগ্রহ চলছে বিরামহীনভাবে পাল্লা দিয়ে। এ সবই হচ্ছে শত্রু নামের মানুষদের মারার জন্য এবং তাদের অর্জন ধ্বংস করার জন্য। অবশ্য কখনো কখনো অস্ত্র সংগ্রহ চলে নিজেদের আত্মরক্ষার নামে। তা ও তো মানুষই মারার জন্য। একটা মানুষ আমরা সারা বিশ্ব মিলে বানাতে পারিনা, কিন্তু সে মানুষ আমরা লাখে লাখে মেরে ফেলতে পারি নিমিষে। মানুষ মারার জন্য পৃথিবীব্যাপী কী পরিমাণ অর্থ, মেধা ও সময় বিলীন হচ্ছে তার কোনো ইয়ত্তা নেই। কিন্তু মানুষকে বাঁচাবার জন্য এর কিয়দংশ প্রয়াস কি আমাদের আছে? সম্ভবত বলা যায়-নেই।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে- সেটা আমরা সবাই বলি। কিন্তু সেটা তো রোগীকে বাঁচাবার একটা চেষ্টা মাত্র। মানুষ মারার অস্ত্র তৈরির যে প্রতিযোগিতা, যদি সেটাকে রোধ করার উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা যেতো তবে তাকে বলা যেতো মানুষ বাঁচাবার একটা প্রয়াস। সে আশা তো আর করা যাচ্ছে না! কাজেই একসাথে লাখো লাখো মানুষ মারার প্রতিযোগিতাই বোধ হয় আমাদের সভ্যতার পরাকাষ্ঠা।
তো মানুষের এ নিধনযজ্ঞে ধাতব ছোট অস্ত্র থেকে বড় অস্ত্রের ব্যবহার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে আমরা দেখছি এবং আগামীতে হয়তো আরো বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু এসবের বাইরে ভিন্নতর কোনো কিছু, বিশেষ করে কোনো প্রাণী তাও আবার আকারে ছোট- সেটা দিয়ে কি দলে দলে মানুষ নিধন করা যায়? পাখি, মশা এসব প্রাণী কোনো কালে কোনো মানবগোষ্ঠীকে নিপাত করে দিয়েছে- এটা কি ভাবা যায়! এটা শুনলেই তো পত্রপাঠ উড়িয়ে দিতে হয়। কিন্তু নির্মম সত্য হলো- ইতিহাস বলছে- তা খুবই সম্ভব। সাম্প্রতিক করোনা নামক ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এক ভাইরাস ব্যাপারটি আরো ভালোভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছে। যা হোক, পাখি এবং মশার অভিযান অনেকেরই জানা। তবু আরেকবার স্মরণ করার সময় এসেছে। ইতিহাসের পাতা সাক্ষ্য দিচ্ছে আবিসিনিয়া (বর্তমান ইথিওপিয়া) অঞ্চলের দুর্দ- শাসক আবরাহা ক্বা’বা ঘর কেন্দ্রিক মক্কায় হজ্ব পালন মেনে নিতে পারছিল না। তার ইচ্ছে হলো মক্কার মর্যাদা চূর্ণ করে তার দেশে হজ্ব হোক, লোক সমাগম শুরু হোক এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে ও রাজস্বে রাজকোষ পূর্ণ হোক। সে মানসে তথায় সে ক্বা’বার অনুরূপ একটি গৃহ নির্মাণ করে এবং বিশ্ববাসীকে তার নির্মিত ক্বা’বাকে তাওয়াফের মাধ্যমে এখানে হজ্বব্রত পালনের আহবান জানায়। কিন্তু দীর্ঘ দিনেও এতে কোনো সাড়া না পাওয়ায় সে মক্কার ক্বা’বাগৃহ ধ্বংস করার এবং হিজাজ এলাকা দখল করার মনঃস্থির করে। সে উদ্দেশ্যে হাতি, ঘোড়া, উট এবং অন্যান্য বাহনসহ বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে মক্কার পথে যাত্রা করে। এ খবর শুনে মক্কার লোকেরা ভয়ে দিগি¦দিক পালাতে থাকে। আবরাহা যখন বাহিনী নিয়ে মক্কার অনেকটা কাছাকাছি চলে আসে, তখন এক মজার ব্যাপার ঘটে। আবরাহা যে রাজকীয় হস্তীর পিঠে উপবিষ্ট ছিল সেটি তাকে মাটিতে ফেলে দেয় এবং অন্যান্য হস্তীগুলোও আর সম্মুখে অগ্রসর হওয়া থেকে বিরত থাকে। শত চেষ্টা করেও যখন রাজকীয় হস্তীটিকে সচল করা গেলো না, তখন চরম রাগান্বিত আবরাহা অন্য একটি হস্তীতে আরোহণপূর্বক অগ্রসর হতে চাইলে সেটিও বসে পড়লো। তাকেও কোনমতেই দাঁড় করানো গেলো না। এমতাবস্থায় আবরাহা যখন আস্ফালনে অস্থির, তখন ঘটনাস্থলে আবাবীল নামে এক ঝাঁক ছোট পাখি এসে হাজির। তাদের মুখে ছিল মটরদানা আকৃতির ছোট ছোট কংকর। পক্ষীসমূহ সে কংকর হস্তীবাহিনী ও আগত সারা বাহিনীর উপর নিক্ষেপ করে। এ সামান্য কংকরের আঘাতেই পরাক্রমশালী আবরাহাসহ তার সম্পূর্ণ বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়। ঘটনাটি খুব বেশি দিনের পুরনো নয়। হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জন্মের মাস দুয়েক পূর্বের ঘটনা মাত্র। ঘটনাটি ইতিহাসে থাকা ছাড়াও আল্লাহ তার রাসুলকে পবিত্র কুর’আনের সুরা “ফীলের” মাধ্যমে বিস্তারিত স্মরণ করিয়ে দেন।
দ্বিতীয় ঘটনাটি মশককূলের। তবে খুবই চমকপ্রদ ও বেশ পুরনো। মশা- সে তো খুবই ছোট প্রাণী, যাকে ইচ্ছে হলে হাতে পিষে মেরে ফেলা যায়। সে নগন্য মশা এককালের রাজাধিরাজের বাহিনীকে পরাস্ত করে তাদের মাংস-হাড্ডি পর্যন্ত খেয়ে ফেলেছিলো বলে ইতিহাস জানান দিচ্ছে। সময়টা ছিলো হযরত ইবরাহীম (আঃ) এর দায়িত্ব পালনকাল অর্থাৎ লোকদেরকে সৃষ্টিকর্তার পথে আহবান জানানোর সময়কাল। তখন তার এলাকায় রোম, শ্যাম (সিরিয়া), মিশর, তুরস্ক, আরবকেন্দ্রিক অত্যন্ত প্রতাপশালী রাজা ছিল নমরূদ। তাকে দুনিয়ার রাষ্ট্রক্ষমতার মালিকও বলা হতো। আল্লাহর নির্দেশে হযরত ইবরাহীম (আঃ) অন্যান্য লোকের মত বাদশাহ্ নমরূদকেও আল্লাহর আনুগত্য করতে এবং তাঁকে নবী বলে স্বীকার করতে আহবান জানাতেন। এতে সে ভীষণ ক্ষিপ্ত হতো; এমনকি নিজেকেই প্রতিপালক বলে দাবী করতো। এতে নবী দমেন নি; তিনি তাঁর কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন শত বাধা, নির্যাতনের মুখেও। নমরূদ কোনোমতেই হযরত ইবরাহীম (আঃ) কে তার কাজ থেকে বিরত রাখতে পারছিলো না। তাঁকে বাগে আনতে না পেরে শেষতক বিশাল অগ্নিকু-ে ফেলে দিয়েও মেরে ফেলতে ব্যর্থ হয়। পরিশেষে সে ইবরাহীম (আঃ) এর খোদার সৈন্যবাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে তাকে পরাজিত ও বিতাড়িত করতে মনঃস্থির করে। সে উদ্দেশ্যে নিজের বিশাল সৈন্যবাহিনী ছাড়াও আশ-পাশের দেশসমূহ থেকে সৈন্য এনে বিশাল এক মাঠে সমবেত করে এবং হযরত ইবরাহীম (আঃ) কে তাঁর খোদার সৈন্যবাহিনী নিয়ে আসতে হুংকার ছাড়তে থাকে। আর তখনই আকাশ প্রায় অন্ধকার করে ঝাঁকে ঝাঁকে মশকবাহিনী এসে নমরূদের বাহনীকে আক্রমণ করে। মশককূলের কোনো অস্ত্র থাকার কথা নয়। তারা নেমেই পুরো বাহিনীর রক্ত চুষে খায়; এমন কি মাংস সহ কিছুই বাদ যায়নি। ওই মশককূলের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল অর্থাৎ অন্ধ ও খোঁড়া মশাটি নমরূদের দায়িত্ব নেয়। সে তার নাসারন্ধ্র দিয়ে ঢুকে মস্তিষ্কে অবস্থান নেয় এবং মগজে দংশন শুরু করে। এ জ্বালায় উপায়ান্তর না দেখে নমরূদ ষষ্টি দিয়ে মাথায় ক্রমাগত আঘাত করার জন্য এক কর্মচারী নিয়োগ করে। মাথায় ষষ্টির আঘাত পড়লে মশাটি কিছু বিরতি দিত এবং বাদশাহ্ স্বস্তি পেতো। কর্মচারীটি এ কাজে গলদগর্ম হয়ে এক পর্যায়ে মাথায় শক্ত আঘাত করলে পরাক্রমশালী নমরূদের জীবন সাঙ্গ হয়ে যায়। ঘটনাটি ইতিহাস ছাড়াও প্রখ্যাত সাহাবী হযরত যায়েদ ইবনে আসলান (রাঃ) এর রেওয়ায়েতে রয়েছে। এ দুটি ঐতিহাসিক ঘটনা ছাড়াও এরূপ আরও ছোটোখাটো ঘটনা বা তার ইঙ্গিত নিশ্চয়ই অন্যান্য ঐশী গ্রন্থেও আছে।
এখন প্রশ্ন হতে পারে পাখি এবং মশার আক্রমণের সাথে কি বর্তমান করোনা ভাইরাসের আক্রমণকেও একাকার করা হচ্ছে? ঠিক তাই; হ্যা করা হচ্ছে। এরূপ মনে করার প্রথম ভিত্তি হলো- করোনা বিশ্বকে তছনছ করার পাশাপাশি মানব জাতিকে জ্ঞানশুন্য করে ফেলেছে বলা যায়। কত লোক এ আঘাতে প্রাণ হারাবে, কত লোক পথে বসবে, কত সম্পদ ধ্বংস হবে, কবে এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে কেউ এর কিনারার ঠিকানা দিতে পারছেন না। বরং সবাই অনুভব করছেন মৃত্যু যেন তার ঘাড়ের অতি নিকটে; যে কোনো মুহূর্তে দম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই দেখা যায় সারা জীবন যারা খোদা-ভগবানে এলার্জি বোধ করতেন তারাও মাথা ঝুলাচ্ছেন, ইয়া নফসি- ইয়া নফসি আওড়াচ্ছেন। বিশ্বমোড়ল বাইবেল হাতে নিয়ে এ মহামারি থেকে মুক্তি প্রার্থণা করছেন। সকল ধর্মের লোক নিজ নিজ উপাসনালয়ে গিয়ে বা ঘরে বসে সৃষ্টিকর্তার কাছে ধরণা দিচ্ছেন; তার কাছেই কায়মনোবাক্যে উপশম আশা করছেন। অর্থাৎ সবাই মরমে মরমে উপলব্ধি করছেন যে, এ মহাবিপদ হয়তো আমাদেরই ভুল পথে চলা বা অপরাধের আধিক্যের কারণে সৃষ্টিকর্তার নির্দেশে আমাদের উপর একটা প্রতীকী শাস্তি এবং আমাদের সম্বিৎ ফিরে পাওয়ার একটা পন্থা হিসেবে নাজিলকৃত। আমরা মোটামুটি বুঝে নিয়েছি চিকিৎসা চলুক আর না-ই চলুক তিনিই কেবল মানব জাতিকে এ মহাদুর্যোগ থেকে উদ্ধার করতে পারেন।
দ্বিতীয় ভিত্তি হলো- পবিত্র কুর’আনের বিভিন্ন জায়গায় আল্লাহ্ উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছেন- যেসব জনগোষ্ঠী সতর্ক করার পরও আল্লাহ অবাধ্য হয়ে পড়েছে, নবী-রাসুলগণকে অস্বীকার করেছে, তাদেরকে অপমান-নির্যাতন-নির্বাসন করেছে, পাপাচারে নিমজ্জিত হয়েছে, সত্যবাদীদেরকে অত্যাচার করেছে তাদেরকে তিনি নানা ভাবে শাস্তি দিয়েছেন। তিনি কখনো তাদের উপর শহর উল্টিয়ে দিয়েছেন, কখনো বায়ু,পানি, পঙ্গপাল, ব্যাঙ, উকুন ইত্যাদি দিয়ে নাজেহাল করেছেন। “সুরা হুদ” এর ১০২নং আয়াতে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “এরূপই তোমার রবের আঘাত! তিনি আঘাত করেন জনপদসমূহকে যখন ওরা জুলুম করে থাকে, তার আঘাত মর্মন্তুদ, কঠিন”। বর্তমান করোনা মহামারির আঘাত কি কম মর্মন্তুদ, কম কঠিন? কাজেই এ মহামারিও সেরূপ একটি কঠিন শাস্তি ও আগাম বার্তা হওয়া বিচিত্র নয়। এছাড়া আল্লাহ্ বলেছেন- “কোনো বিপদ আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত আসেনা” ( সুরা-তাগাবুন : ১১)
কথা হতে পারে ইতিহাসের বা কুর’আনের যেসব ঘটনার কথা উল্লেখ করা হলো, সেসব তো ঘটেছিল বা প্রয়োগ হয়েছিল জালিম এবং পাপাচারীদের বিরুদ্ধে। বর্তমানে পৃথিবীতে যতলোক মারা গেছেন, আক্রান্ত হয়ে কাতরাচ্ছেন, চরম আতঙ্কে আছেন তারা সবাই কি খারাপ বা দোষী। না, সেটা না-ও হতে পারে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সারা পৃথিবীটা তো নানা দিকে একেবারে পঁচে গেছে, আমরা সবাই তো কম-বেশি নষ্ট হয়ে গেছি। সৃষ্টিকর্তার স্মরণে চরম উদাসীন হয়ে পড়েছি। এ অবস্থায় যদি তুফানের হুকুম হয়, তাতে বড় গাছ যেমনি উপড়ে পড়তে পারে, ছোট গাছের ডালও তেমনি ভেঙ্গে পড়তে পারে, ক্ষেতের চাষীও মারা যেতে পারে। সার্বিক ভাঙ-চুরের মাধ্যমে তুফান সবাইকে জানান দিয়ে যাবে।
আবারো কথা হতে পারে- যদি ধরেও নিই পাখি, মশা, করোনা ভাইরাস ইত্যাদি অদৃশ্য মহাশক্তি থেকে প্রেরিত, তাহলে ভবিষ্যতে আর কখনো কি আরো কোনো বাহিনী এসে আমাদের নাজেহাল করে দিতে পারে! আর এলেই বা তার রূপ কি হতে পারে যা জেনে-বুঝে পূর্ব থেকে আমরা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি! আসলে ভবিষ্যত সম্পর্কে আমাদের কারো কোন জ্ঞান নেই। এ বিশ্বের বৈচিত্র সম্পর্কেই বা আমরা কতটুকু জানতে পেরেছি। এই যে মহাঘাতক করোনা ভাইরাস- এটি কি চীনের কোনো গবেষণাগার থেকে এসেছে, নাকি বাদুঁড়ের বিষ্ঠা থেকে এসেছে, নাকি শুকর থেকে এসেছে, নাকি মেরু অঞ্চলের বরফ গলন থেকে এসেছে- তা আমরা বলতে পারছি না। তেমনি পৃথিবীতে কত ধরণের জীব-প্রাণী আছে তাও আমরা জানিনা। হাতি বা তিমির চেয়ে বড় কোনো প্রাণী এবং করোনা ভাইরাস থেকে আরও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কোনো প্রাণী বা জীবসত্তা যে নেই তা-ও জোর দিয়ে বলতে পারিনা। কাজেই বিশ্বচরাচরে এসবের অস্তিত্ব যদি থেকে থাকে এবং তার প্রয়োজন আমাদের নাও থাকে, কিন্তু তাকে প্রেরণ যদি অনিবার্য হয়ে পড়ে তাহলে তার আগমণ এবং লংকাকা- ঘটানো আমরা কেউ ঠেকাতে পারবো না। এটা আমাদের বর্তমান অবস্থা থেকেও খুবই পরিষ্কার। জীব-প্রাণী ছাড়া অন্য কোন মাধ্যম দ্বারাও অপ্রতিরোধ্য বিপদ আসা অস্বাভাবিক নয়।
প্রসঙ্গত স্মরণ রাখা ভালো- মহান আল্লাহ তার পবিত্র বাণীতে বহুবার জানিয়েছেন যে , যাদের কাছে সতর্ককারী আসার পরও তাঁর অবাধ্যতা করে, পথচ্যুত হয় , প্রকৃতির নিয়মাচার কে ভেঙ্গে ফেলতে চায় তাদেরকে তিনি নানাভাবে শাস্তি দিয়ে থাকেন। এ শাস্তির মধ্যে মহামারি অন্যতম। আরও স্মরণযোগ্য যে আল্লাহ কিন্তু জানিয়ে দিয়েছেন- তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও বড়ই কঠিন- ইন্না বাত্বশা রাব্বিকা লাশাদীদ”। আমরা এসব কথা বিশ্বাস করি বা না করি, বুঝতে পারি বা না পারি, বিশ্বব্যাপী হয়তো সে ঘটনাই ঘটে যাচ্ছে।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • করোনার ছোবলে জীবন-জীবিকা
  • মানুষ কেন নিমর্ম হয়
  • করোনায় আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা
  • প্রসঙ্গ : ব্যাংকিং খাতে সুদহার এবং খেলাপি ঋণ
  • করোনা, ঈদ এবং ইসলামে মানবতাবোধ
  • ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর ঈদুল আযহা
  • করোনাকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
  • আনন্দযজ্ঞে আমন্ত্রণ
  • ত্যাগের মহিমায় কুরবানির ঈদ
  • চাই পথের দিশা
  • ভাটি অঞ্চলের দুর্দশা লাঘব হবে কি?
  • মুক্ত পানির মাছ সুরক্ষায় যা প্রয়োজন
  • উন্নত দেশে মসজিদে গৃহহীনদের আশ্রয়
  • তাইওয়ান সংকট
  • কোরবানী : ঈমানের পরীক্ষা
  • বন্যা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা
  • শিক্ষা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের রক্ষা করতে হবে
  • বিসিএস এবং অন্যান্য আলোচনা
  • হজ্ব বাতিলের ইতিহাস
  • মহামারী করোনা ও সেবার মানসিকতা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT