প্রথম পাতা জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী বরাবরে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর ডিও ॥ জ্বালানী উপদেষ্টার কাছেও আবেদন

১৫ বছর ধরে বন্ধ টেংরাটিলায় উৎপাদনে যেতে চায় এসজিএফএল

মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম ॥ প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৭-২০২০ ইং ০০:৪৮:০৯ | সংবাদটি ৪৬৭ বার পঠিত
Image

পর পর দু’দফা ব্লো আউট (বিস্ফোরণ) এবং কানাডিয়ান কোম্পানী নাইকো’র সাথে মামলাজনিত কারণে গত প্রায় ১৫ বছর ধরে বন্ধ থাকা সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডে উৎপাদনে যেতে চায় সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লি:(এসজিএফএল)। এ গ্যাস ফিল্ডের অপারেটিং রাইটস মূল কোম্পানী এসজিএফএল এর নিকট ফেরত দিতে সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বরাবরে একটি ডিও লেটার (ডেমি অফিস লেটার-আধা সরকারি পত্র) দিয়েছেন। এছাড়া, গ্যাস ফিল্ড কর্মচারী লীগ ও সিবিএ’র পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী ও জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী বীর বিক্রমেরও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
জ্বালানী সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ছাতক গ্যাস ফিল্ড মূলত টেংরাটিলা ফিল্ড হিসাবে পরিচিত। এটি একটি প্রসপেকটিভ সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্র। তাদের মতে, এ গ্যাসক্ষেত্রের ইস্ট (পূর্ব) ফিল্ডে প্রায় ১ টিসিএফ (ট্রিলিয়ন কিউবিক ফিট) গ্যাস মজুদ রয়েছে।
এসজিএফএল-এর একটি সূত্র জানায়, টেংরাটিলার ইনহেরিটেন্ট (উত্তরাধিকার) মালিকানা হচ্ছে তাদের। এ গ্যাস ফিল্ডের দুটি অংশ রয়েছে। এটি ওয়েস্ট ও ইস্ট পার্ট নামে পরিচিত। বিস্ফোরণের ফলে ওয়েস্ট ফিল্ডের অনেক গ্যাস পুড়ে গেলেও ইস্ট ফিল্ড একটি প্রসপেকটিভ ফিল্ড।
এ প্রতিবেদক কিছুদিন পূর্বে সরেজমিনে টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ড পরিদর্শন করেন। সেখানে দেখা যায়, টেংরাটিলা বাজার সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসক্ষেত্রের ওয়েস্ট ফিল্ডের অবস্থান। আর সেখান থেকে প্রায় দুই থেকে আড়াই কিলোমিটার দূরে আজবপুর এলাকায় ইস্ট ফিল্ডের অবস্থান। সবমিলিয়ে টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডের মোট আয়তন প্রায় ৫৮.১৬ একর। এর মধ্যে ইস্ট ফিল্ডের আয়তন প্রায় ২২ একর। দোয়ারাবাজার থেকে টেংরাটিলা পর্যন্ত সরাসরি সড়ক যোগাযোগ থাকলেও আজবপুরের সাথে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনো স্থাপিত হয়নি। টেংরাটিলা যাবার মূল সড়ক থেকে আজবপুর প্রায় ২০ মিনিট পায়ে হেঁটে যেতে হয়। কয়েক বছর আগে নাইকোর পক্ষ থেকে সেখানে একটি ব্রীজ নির্মাণের পদক্ষেপ নেয়া হলেও সেটি এখনো চালু হয়নি। এমনকি ব্রীজের লোহা-লক্কড়ও কে বা কারা চুরি করে নিয়ে গেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
সরেজমিনে আরো দেখা যায়, গ্যাসক্ষেত্রের যে অংশে ‘ব্লো আউট’ হয়েছিল-সে অংশ বালি এবং পাথর দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। স্থানটি অনেকটা জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে পড়েছে।
জ্বালানী প্রতিমন্ত্রীকে প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর ডিও ॥ ছাতক গ্যাস ফিল্ডের অপারেটিং রাইটস মূল কোম্পানী এসজিএফএল এর নিকট ফেরত দিতে গত ২৮ জুন জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের কাছে একটি ডিও দেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ। এতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘সিলেট জেলাধীন সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড (এসজিএফএল) কোম্পানীর মালিকানাধীন ছাতক ফিল্ড হতে গ্যাস উৎপাদনের জন্য বাপেক্স ও নাইকো রিসোর্সেস লিমিটেডকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। কূপ খননকালে ২০০৫ সালে দুইবার অগ্নি দুর্ঘটনার ফলে এ ফিল্ডের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায় এবং অদ্যাবধি নতুন কোন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আপনার মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় তৎপরতার ফলে নাইকোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা মামলায় বাংলাদেশকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় পাওয়া যায়।’
ডিওতে মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, ছাতক গ্যাস ফিল্ডের কার্যক্রম স্থগিত থাকার পাশাপাশি বর্তমানে এসজিএফএল এর উৎপাদনরত কূপগুলো হতেও গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ কমে আসছে। দেশের মানুষের কাছে নিয়মিত ভিত্তিতে গ্যাসের চাহিদা সরবরাহ করার জন্য এবং দেশে যাতে গ্যাসের শূন্যতা তৈরি না হয়-সে জন্য অবিলম্বে ছাতক গ্যাস ফিল্ডকে সক্রিয় করা দরকার। এ লক্ষ্যে ছাতক গ্যাস ফিল্ডের অপারেটিং রাইটস মূল কোম্পানী এসজিএফএল এর নিকট ফেরত দেওয়া প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি। এ বিষয়ে সাহায্য চেয়ে সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ) ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিঃ কর্মচারী লীগ নামীয় দু’টি সংগঠন আমার নিকট আলাদা আলাদা আবেদন করেছে, যা আমি এ পত্রের সাথে সংযুক্ত করেছি। আবেদনগুলিতে বর্ণিত বিষয়াদি আপনার সদয় বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’
মালিকানা পেতে সক্রিয় এসজিএফএল: আন্তর্জাতিক আদালতে মামলার ফায়সালা হওয়ার পর নিজেদের সম্পত্তি রক্ষা এবং ‘অপারেশন রাইটস’ দাবি করে সক্রিয় হয়েছে সিলেট গ্যাসফিল্ড লি.। বিষয়টি নিয়ে গত ১৭ জুন সিলেট গ্যাসফিল্ডস লি. কর্মচারী লীগের তরফ থেকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানী উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই এলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম বরাবর অনুরুপ একটি আবেদন করা হয়।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, লন্ডনস্থ ইকসিডের রায় অনুযায়ী ছাতক (টেংরাটিলা) বিস্ফোরণের জন্য নাইকো দায়ী এবং এ জন্য নাইকোকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে মর্মে এ আদালত এ বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি এক যুগান্তকারী রায় প্রদান করেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী গত ৩ মে অন লাইন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতিকে বিষয়টি অবহিত করেন।
আবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আদালতের রায় বিবেচনা করলে এখন টেংরাটিলায় বাপেক্স কিংবা নাইকো কারো কোনো কার্যকারিতা নেই। ওই গ্যাসক্ষেত্রটি মূল মালিক সিলেট গ্যাসফিল্ডকে ফেরত পেতে আর আইনগত কোনো বাধা নেই। উভয়কে তারা অবগত করেন- বর্তমানে এসজিএফএল’র ১০টি উৎপাদিত কূপের মধ্যে ৫টি কূপ থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি উত্তোলিত হচ্ছে। গ্যাস চাপ ও পরিমাণ কমে আসছে। এ সকল গ্যাস কূপের উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়লে দৈনিক ৪০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন কম হবে। এতে দেশের মোট উৎপাদন নেমে দাঁড়াবে ৭০ মিলিয়ন ঘনফুটে। অথচ ২০০২ সালে দেশে দৈনিক গড়ে ২০০ মিলিয়ন গ্যাস উৎপাদিত হতো। আবেদনে তারা আরো উল্লেখ করেছেন, টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড এসজিএফএল’র অধীন করা না হলে কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়বে। ইতিমধ্যে কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। এ কারণে টেংলাটিলা গ্যাসফিল্ডে অপারেশনাল রাইট ফিরে পাওয়া এসজিএফএল’র জন্য খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ড লি. কর্মচারী লীগের সভাপতি আলহাজ মো. হারুন জানিয়েছেন, সরকারের অনুমতি পেলে টেংরাটিলায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে বলে তারা মনে করেন। প্রথম পর্যায়ে একটি কূপ খননের পাশাপাশি ৩টি সাইসমিক জরিপ পরিচালনা এবং পরবর্তীতে দুটি কূপের খননসহ যাবতীয় উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা যাবে। এজন্য তারা উদ্যোগী হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন। এদিকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবির সঙ্গে একমত সিলেট গ্যাসফিল্ড লি. কর্তৃপক্ষও ।
সিলেট গ্যাসফিল্ড লি. এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ নুর উল্লাহ গতরাতে সিলেটের ডাককে জানিয়েছেন, সিলেট গ্যাসফিল্ড লি. তার সম্পত্তি ফেরত চাইবে, এটাই তো স্বাভাবিক। বিষয়টি তিনি মন্ত্রণালয়ের আগামী বোর্ড সভায় উত্থাপন করবেন বলে জানান।
প্রসঙ্গত, ২০০৩ সালে কানাডিয়ান কোম্পানী নাইকো এ ফিল্ডের ইস্ট অংশ থেকে গ্যাস উত্তোলনের জন্য পেট্রোবাংলার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে এ ফিল্ডে পর পর দুদফা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি(বেলা)-এর পক্ষ থেকে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করা হয়। এছাড়া, বাপেক্স ১৩৭.৪ মিলিয়ন ইউএস ডলার এবং পেট্রোবাংলা ১.০৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে নাইকোর কাছে। ২০১৬ সালের ৯ মে হাইকোর্ট নাইকোর সাথে পেট্রোবাংলার চুক্তি স্থগিত করেন।
এসজিএফএল সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০০৫ সালের অগ্নিকান্ডের পর থেকে গ্যাস ফিল্ডটি আর সচল হয়নি। সেখানে এসজিএফএল-এর পক্ষ থেকে একজন কর্মকর্তা এবং একজন সিকিউরিটি গার্ড অ্যাসাইনড (নিযুক্ত) করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

প্রথম পাতা এর আরো সংবাদ
  • ভাদ্র মাসে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার শঙ্কা, প্রস্তুতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
  • জাতীয় শোক দিবসে জেলা আ’লীগের কর্মসূচি
  • ভার্চুয়াল ও শারীরিক উপস্থিতি দু’ভাবেই চলবে হাইকোর্ট
  • মাস্ক পরা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত
  • লন্ডন থেকে ফের বিমানের সরাসরি ফ্লাইট সিলেটে
  • ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উৎসব শুরু আজ
  • বিশ্বনাথে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রবেশের পথে এমপি মোকাব্বির খানের গাড়িতে হামলা
  • আয়তন বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
  • আয়তন বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
  • আয়তন বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
  • আয়তন বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
  • আয়তন বাড়ছে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের
  • ৬ মাসের মধ্যে কাজ শুরুর আশাবাদ
  • ওসমানীনগরের দু’ইউনিয়নে নিকাহ রেজিস্ট্রার দু’বছরেও নিয়োগ হয়নি ॥ অর্ধশত প্রার্থী বিপাকে
  • সুরকার আলাউদ্দিন আলী মারা গেছেন
  • ১৫ অগাস্টের পর ‘পর্যায়ক্রমে চালু হবে’ সব আন্ত:নগর ট্রেন
  • জাতির পিতার রচনা পাঠ কার্যক্রমকে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া হবে : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী
  • ওসি প্রদীপের ২২ মাসে ১৪৪ ক্রসফায়ার
  • শিল্পী এসএম সুলতানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী আজ
  • মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী মামলার আসামি সুনামগঞ্জের জোবায়ের মনিরের জামিন বাতিল
  • Image

    Developed by:Sparkle IT