সম্পাদকীয় তুমি তোমার প্রভুর জন্যই নামাজ পড়ো এবং তার জন্যই কুরবানী করো। -সুরা আল-ক্বাওসার

স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর রাখতে কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৭-২০২০ ইং ০২:১৯:০৬ | সংবাদটি ১০১ বার পঠিত
Image

কমছে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। সংক্রমণের ১৮তম সপ্তাহে এসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার দুটোই কমেছে বাংলাদেশে। সংক্রমণের ১৪, ১৫, ১৬ ও ১৭তম সপ্তাহে আক্রান্ত ও মৃত্যু সমান্তরালভাবে চূড়ায় ওঠেছে। আর ১৮তম সপ্তাহে এসে এই রেখাচিত্র দুটি নি¤œমুখী হতে শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টে এই তথ্য পাওয়া গেছে। এতে বলা হয়, করোনা সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে বিশ্বের ২০টি দেশ। তবে বাংলাদেশসহ আরও কয়েকটি দেশে করোনার প্রকোপ কমছে। অপরদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়, আমাদের দেশে জুন মাসেই সবচেয়ে বেশি সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে করোনা সংক্রমণের পিকটাইম আমরা পার করে এসেছি। এখন আমরা আশা করতে পারি আক্রান্তের সংখ্যা আস্তে আস্তে কমে যেতে পারে। যদিও আসন্ন কুরবানী ঈদের প্রাক্কালে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, তবে সেটা ভয়াবহ হবে না বলেই মনে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের এই প্রত্যাশাই বাস্তবায়িত হোক।
বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় মার্চ মাসের আট তারিখ। এরপর থেকে করোনা মোকাবেলায় সম্ভাব্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করে সরকার। ধীরে ধীরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে; সেই সাথে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপও দৃষ্টিগোচর হতে থাকে। এক পর্যায়ে সাধারণ ছুটি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণাসহ সারাদেশেই কার্যত লকডাউন শুরু হয়। সার্বিকভাবে পুরো পরিস্থিতিকে আত্মস্থ করতে সকলকে কিছুটা সময় ক্ষেপণ করতে হয়েছে এটা ঠিক; তবে পর্যায়ক্রমে করোনা মোকাবেলায় সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে, এটা বলাই যায়। করোনা সংক্রান্ত সরকারের নির্দেশনাবলী মেনে চলার ব্যাপারে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেকটাই অভ্যস্ততা গড়ে ওঠেছে। তবে তার ব্যতিক্রমও রয়েছে। অনেকেই সরকারের নির্দেশনার ব্যাপারে উদাসীন। অপরদিকে সরকারের মধ্যেও এই সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও একটা অস্থিরতা, অদূরদর্শীতার ছাপ লক্ষ করা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি যে খুব একটা হতাশাজনক নয়, সেটা বলাই যায়। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, আমাদের দেশে এখন এক ধরনের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বলয় তৈরি হয়েছে। তা সংক্রমণের গতিকে শক্তিশালী হতে দেবে না। তবে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে; তা না হলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। আরেকটি সুসংবাদ হলো, একটি আন্তর্জাতিক জার্নাল সম্প্রতি বলেছে করোনাভাইরাসের মিউটেশন ঘটে বর্তমানে এর শক্তি কমেছে সামান্য হলেও। ফলে এর মারণ ক্ষমতা অতোটা নেই।
করোনাভাইরাস নিজেকে বদলাচ্ছে এবং আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে মানুষের মধ্যে বাড়ছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। দেশে-বিদেশে তৈরি হচ্ছে প্রতিষেধক। তৈরি হচ্ছে ওষুধ। সব মিলিয়ে করোনা মোকাবেলার জন্য সবরকমভাবে প্রস্তুত হচ্ছে মানুষ। সবচেয়ে বড় সুসংবাদটি হলো, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত সরকারি কমিটি চলতি মাসের তৃতীয়-চতুর্থ সপ্তাহ থেকে করোনার সংক্রমণ কমতে শুরু করবে বলে ধারণা করছে। এই সময়ে জরুরি হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি কার্যকর করতে কঠোর পদক্ষেপ অবলম্বন করা, পাশাপাশি আসন্ন ঈদুল আজহায় যাতে মানুষের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল না হয় সেটা নিশ্চিত করা।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT