সম্পাদকীয় দুষ্ট লোকেরা তাদের তৈরি নরকেই বাস করে। -টমাস ফুলার

অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্র

প্রকাশিত হয়েছে: ১৫-০৭-২০২০ ইং ০২:২৪:২৩ | সংবাদটি ১৪১ বার পঠিত
Image

অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্রের ছড়াছড়ি। দেশের সর্বত্র গড়ে ওঠেছে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, প্যাথলজি। এর সংখ্যা লক্ষাধিক। কিন্তু বেশির ভাগই অবৈধ; মানে সরকারের অনুমোদন নেই অথবা অনুমোদন থাকলেও এর মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে, লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি। আর এই অবস্থায়ই এসব প্রতিষ্ঠান চিকিৎসাসেবার নামে তাদের রমরমা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। শহরের আবাসিক বাড়িঘর, হাটবাজার, অলিগলিতে রয়েছে অসংখ্য হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বিধি অনুযায়ী প্রতি বছর বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়ন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এর মধ্যে অনেকগুলোই সেই বিধান মানছে না। তারা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিবর্গকে নানাভাবে ম্যানেজ করে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। সর্বোপরি এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানে প্রায় সময়ই চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসার অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে ভুয়া করোনা- পরীক্ষা রিপোর্ট তৈরির ব্যবসার ঘটনা ধরা পড়ায় অবৈধ হাসপাতাল-ক্লিনিকের বিষয়টি জনসমক্ষে নতুন করে প্রকাশিত হয়েছে। দেশে সরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একদিকে রোগীদের প্রচ- ভীড়, অপরদিকে যথাযথ চিকিৎসা হয় না বলে রয়েছে অভিযোগ। এই সুযোগে বেসরকারি পর্যায়ে গড়ে ওঠেছে হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বিভিন্ন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য হচ্ছে- গড়ে ৫০ শতাংশ বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে অনেক নামী দামী বেসরকারী প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। জানা যায়, সরকারি লাইসেন্স নিয়ে ১৭ হাজার দুশটি হাসপাতাল ক্লিনিক ব্যবসা শুরু করে। এর মধ্যে ১২ হাজারেরই লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে তিন চার বছর আগে। কেউ তা নবায়ন করেনি। অনেকে কোন লাইসেন্সই করেনি; শুধু একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে ব্যবসা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে দালাল নির্ভর এসব ক্লিনিক, হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠেছে বেশির ভাগই সরকারি হাসপাতালের কাছাকাছি। অভিযোগ ওঠেছে, একশ্রেণির দালাল ও সরকারি হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, চিকিৎসক মিলে সি-িকেট করেই এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছে। আর প্রতিনিয়ত এইসব প্রতিষ্ঠানে এসে রোগী সাধারণ প্রতারণা ও অপচিকিৎসার শিকার হচ্ছে। শুধু তাই নয় এইসব হাসপাতাল-ক্লিনিকের মধ্যে ৩০ শতাংশেরই পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। ফলে পরিশোধন ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠান যত্রতত্র ফেলে দিচ্ছে মেডিকেল বর্জ্য। যা দূষিত করছে পরিবেশ।
আমাদের চিকিৎসা ক্ষেত্রে সার্বিক দৈন্যদশায় এটা একটা নমুনা। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে দেশে সরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেই সবচেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে। অনেক সময় মানুষ উন্নত সেবার আশায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শরণাপন্ন হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই কাড়ি কাড়ি অর্থ ব্যয় করেও কাংখিত সেবা পাচ্ছে না। অনেকের ভাগ্যে জুটছে ভুল চিকিৎসা। আর সত্যি বলতে কি লাইসেন্সবিহীন অবৈধ প্রতিষ্ঠানের কাছে তো প্রতারণা অপচিকিৎসা ছাড়া আর কিছুই আশা করা যায় না। করোনা মহামারির মতো ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের পরেও যে অবৈধ ব্যবসায়ীদের মধ্যে বোধোদয় হয়নি, তাদেরকে কঠোর আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এছাড়া, কোন বিকল্প নেই।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT