সম্পাদকীয় ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী লোকেরা ধ্বংস হয়েছে। -আল হাদিস।

করোনায় নতুন দরিদ্ররা পাবেন সহায়তা

প্রকাশিত হয়েছে: ১৬-০৭-২০২০ ইং ০১:৫৮:৩৫ | সংবাদটি ১৫৩ বার পঠিত
Image

করোনায় নতুন দরিদ্ররা পাবেন বিকল্প সহায়তা। সরকারের ধারণা করোনার প্রাদুর্ভাবে নতুন করে দুই কোটি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে এসেছে। যা মোট জনসংখ্যার ২৫ শতাংশ। আয় উপার্জন না থাকায় এদের জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। যারা নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে এসেছে, তাদের সহায়তা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এই সহায়তা আর্থিক না অন্য কোনভাবে হতে পারে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে হয় নি। সরকারের বক্তব্য হচ্ছে- জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ ছিলো দরিদ্র। যা তিন কোটির বেশী। কিন্তু করোনার আঘাতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দুই কোটি। অর্থাৎ বর্তমানে দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা পাঁচ কোটি। খবরটি প্রকাশিত হয়েছে একটি জাতীয় দৈনিকে সম্প্রতি।
বৈশ্বিক মহাদুর্যোগ করোনা লন্ডভন্ড করে দিয়েছে সবকিছু। করোনা যেমন কেড়ে নিচ্ছে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ তেমনি মানুষের জীবিকার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে প্রতিদিনই বেকারের তালিকায় নতুন নতুন মানুষের নাম যুক্ত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে দরিদ্রের সংখ্যা। সরকারি হিসেবেই পুরনো আর নতুন মিলিয়ে দেশে দরিদ্রের সংখ্যা পাঁচ কোটি। এই কর্মহীন আর দরিদ্রদের কারণে সমাজে বাড়ছে অস্থিরতা। তাই অর্থনীতিবিদেরা উল্লিখিত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। সেই প্রেক্ষিতেই সরকার দুই কোটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সেটা কীভাবে, তা ঠিক হয়নি। ইতোপূর্বে দশ টাকা দামে দরিদ্রদের মধ্যে চাল বিতরণের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। গত মাসের ৩০ তারিখে সমাপ্ত এই কর্মসূচীতে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এছাড়া, সামাজিক সুরক্ষা দিতে ইতোমধ্যেই ৫০ লাখ দুস্থ পরিবারকে এককালীন আড়াই হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। এই টাকা প্রদানেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। অর্থাৎ সরকারের সকল কর্মসূচীতেই অনিয়ম-দুর্নীতি একটি ‘স্বাভাবিক’ বিষয়ে পরিণত হয়ে গেছে।
দেশে কর্মহীন লোকের সংখ্যা বাড়ছে; বাড়ছে দরিদ্রের সংখ্যা। সরকারি হিসাবে এই সংখ্যা পাঁচ কোটি হলেও বেসরকারী হিসেবে সেটা আরও বেশী হবে বলে অনেকের অভিমত। কারণ মধ্যবিত্ত শ্রেণীর বিপুল জনগোষ্ঠী চাকরি, ব্যবসা হারিয়ে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। অথচ এদের অনেকেই ‘লোকলজ্জায়’ তাদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে পারছে না। এই ধরণের লাখ লাখ পরিবার রয়েছে, যারা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। অথচ এরা সরকারের কোন ধরণের সহায়তা-তালিকায় আসছে না। এদেরকে খুঁজে বের করারও কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের। এই জনগোষ্ঠীকেই খুঁজে বের করতে হবে। নিয়ে আসতে হবে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচীর আওতায়। সেই সঙ্গে সামাজিক সুরক্ষাসহ করোনাকালীন বিশেষ সহায়তা কর্মসূচীর অর্থসম্পদ চোর বাটপারদের কবল থেকে মুক্ত করতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT