সম্পাদকীয় লজ্জাজনক কাজের জন্য অনুতাপ করা জীবনের পরিত্রাণ স্বরূপ। - ডেমোক্রিটাস

হিমালয়ের বরফ গলছে

প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৭-২০২০ ইং ০২:৫৫:৫৯ | সংবাদটি ২০১ বার পঠিত
Image

উত্তাপে গলছে বরফ। হিমালয়ের বরফের স্তর বছরে গড়ে দশ থেকে ১৫ মিটার করে নিচে নামছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে ২১০০ সাল নাগাদ এই বরফের অর্ধেক গলে নিঃশেষ হবে। ফলে এর ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্ভরশীল একশ’ ৬৫ কোটি মানুষের জীবন ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। প্রথমে প্রবল বন্যা, তারপর অন্তহীন খরা,-পুরো হিমালয়ের প্রভাব বলয়ে থাকা মানুষের জীবনে এটিই ভবিষ্যৎ সঙ্গী হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। জলবায়ু বিজ্ঞানীগণ এই আশংকার কথা বলেছেন। তাদের মতে, বিশ্বে কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ দ্রুত কমানো না গেলে হিমালয় হিমবাহের দুই-তৃতীয়াংশ বরফ গলে নিঃশেষ হয়ে যেতে পারে। অথচ এই হিমবাহ পৃথিবীর অন্যতম পানির উৎস। এই অঞ্চলের আটটি দেশের ২৫ কোটি মানুষের জীবন সরাসরি এর ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও।
বিশ্বের পরিবেশ বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ দিন ধরেই এ ব্যাপারে সতর্ক করে আসছেন। খুব দ্রুত বরফ গলে যাচ্ছে হিমালয়ের পাহাড়, পর্বতে। দ্রুত গলে যাচ্ছে সেখানকার বড় বড় হিমবাহগুলো। গলছে এভারেস্ট, কারাকোয়ামের মতো পৃথিবীর দু’টি সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। উল্লেখ করা যেতে পারে, এন্টার্কটিকা এবং আর্কটিক অর্থাৎ সুমেরু ও কুমেরুর পর হিমালয়কেই বলা হয় পৃথিবীর তৃতীয় মেরু। এই হিমালয়ে বরফ গলা প্রক্রিয়া এতো দ্রুত গতিতে হচ্ছে যে, আগামী ৮০ বছরের মধ্যেই এক তৃতীয়াংশ বরফ পুরোপুরি গলে যাবে। আর বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রার বৃদ্ধি যদি দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আটকে রাখা যায়, তাহলেও অর্ধেক বরফ গলে যাবে হিমালয় পর্বতমালার। আবার চার ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লেই গলে যাবে দুই তৃতীয়াংশ বরফ। সবচেয়ে ভয়াবহ সতর্কবাণী হচ্ছে- বরফ গলার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চলের গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, মেকং, সিন্ধু, সালওয়েন, ইয়াংজি ও ইয়েলোসহ দশটি নদীর অববাহিকা ভেসে যাবে। ফলে বিপন্ন হয়ে পড়বে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, আফগানিস্তান, নেপাল, ভূটান সহ আটটি দেশের প্রায় দু’শ কোটি মানুষ। এক পর্যায়ে হিমবাহগুলোর বরফ শেষ হয়ে যাবে এবং সেখানে এক ধরণের পাথরের সৃষ্টি হবে। আর তখন সেই সব উৎস থেকে বেরিয়ে আসা নদীগুলো পুরোপুরি শুকিয়ে যাবে। অপরদিকে, ১৯৭০ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৫০ বছরে হিমালয়ের ১৫ শতাংশ বরফ গলে পানি হয়ে গেছে। যার ফলে ২০৬০ সাল নাগাদ পরিস্থিতি এমন হবে যে, বারবার ভয়াবহ বন্যা হবে ওই এলাকা ও সেখান থেকে বেরিয়ে আসা নদীগুলোর অববাহিকা অঞ্চলে।
প্রায় সারে তিন হাজার কিলোমিটার বা দুই হাজার একশ’ ৭৫ মাইল বিস্তৃত হিমালয় পার্বত্য এলাকার মধ্যে রয়েছে আটটি দেশ; আর এই সব দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কমপক্ষে দশটি নদীর উৎপত্তিস্থল এই হিমালয়। তাই স্বাভাবিক ভাবেই হিমালয়ের আচার আচারণের ওপর নির্ভর করছে এইসব দেশের অধিবাসীদের অস্তিত্ব, বেঁচে থাকা।
হিমালয়ের বরফ গলছে। ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া স্বরূপ সৃষ্টি হবে মানবিক বিপর্যয়। সুদূর ভবিষ্যতে অনেক নদী শুকিয়েও যেতে পারে। দেখা গেছে ১৯০০ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত হিমালয়ের বরফ গলতে শুরু করে দ্রুত। কিন্তু পরবর্তী ৩০ বছর ঠা-া হতে থাকে হিমালয়। এরপর থেকে আবার শুরু হয় বরফ গলা। তার মানে গত অর্ধ শতাব্দী ধরে বরফ গলে যাচ্ছে। এর মধ্যে অবশ্য হিমালয়ে আবার কখনও ঠা-া হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় কোন পূর্বাভাস নেই কোন মহল থেকে। সুতরাং যে উষ্ণায়নের কারণে হিমালয় গলে পানি হচ্ছে, সেই উষ্ণায়ন যাতে কমে সেদিকেই নজর দিতে হবে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT