সম্পাদকীয় মানুষ যখন তার মর্যাদা হারিয়ে ফেলে, তখন সে যেখানে ইচ্ছা সেখানে যেতে পারে। - শেখ সাদী খান (র.)

ডাক-এর তিন যুগ পূর্তি

প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৭-২০২০ ইং ০২:৪৮:২৭ | সংবাদটি ৩৪৯ বার পঠিত
Image

দৈনিক সিলেটের ডাক পত্রিকার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। এই সুরমা-কুশিয়ারা বিধৌত অঞ্চলের কোটি মানুষের মুখপত্র দৈনিক সিলেটের ডাক-এর ৩৬ বছর পূর্ণ হয়েছে। আজ থেকে ৩৭ বছরে পা দিলো সকল মহলের মানুষের কাছে অতি প্রিয় ও বিশ্বস্ত এই পত্রিকাটি। এমনি এক মাহেন্দ্রক্ষণে আমাদের স্মৃতির আয়নায় ভেসে ওঠে ছয়ত্রিশ বছর আগে যেদিন দৈনিক সিলেটের ডাক-এর আত্মপ্রকাশ ঘটে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, রাষ্ট্র, জাতি, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, সর্বোপরি বিশ্বস্ততার প্রতিশ্রæতি নিয়ে ১৯৮৪ সালের ১৮ই জুলাই হজরত শাহজালাল (রহ.) এর স্মৃতিধন্য ভূমিতে যাত্রা শুরু করে দৈনিক সিলেটের ডাক। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজকের অবস্থানে আসতে হয়েছে এই পত্রিকাকে। প্রথমে ছোট কাগজে চার পৃষ্ঠার পত্রিকা প্রকাশিত হতো লেটার প্রেসে পুরনো পদ্ধতিতে। কিন্তু এখন পত্রিকাটি নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে আট পৃষ্ঠার রঙিন হয়ে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে।
দৈনিক সিলেটের ডাক-এর এই অগ্রযাত্রার পেছনে রয়েছে শুধুমাত্র সর্বস্তরের পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা আর শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা-অনুপ্রেরণা। আমাদের এই যাত্রাপথে আছে বাধা-বিঘœ, ঘাত-প্রতিঘাত। এই সবকিছুকে অতিক্রম করে সম্মুখ যাত্রায় যারা সাহস দিয়েছেন, শক্তি দিয়েছেন, যারা ছিলেন এবং আছেন আমাদের পাশে সহকর্মী হয়ে, আমরা তাদের জানাচ্ছি অভিনন্দন। আমাদের প্রত্যাশা রয়েছে আগামী দিনগুলোতেও সকলের এই সহযোগিতা একাত্মতা অটুট থাকবে। বিভিন্ন কারণে একটি দৈনিক পত্রিকার নিয়মিত প্রকাশনা রীতিমতো চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়ে গেছে। আমাদের দেশে প্রায় সময়ই প্রকাশিত হচ্ছে নতুন নতুন পত্রিকা। কিন্তু তার অনেকগুলোই স্থায়ী হচ্ছে না। নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক পত্রিকার প্রকাশনা। দৈনিক সিলেটের ডাকও মোকাবেলা করছে প্রতিদিন নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিকে। সেই সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হচ্ছে পত্রিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলের দৃঢ় মনোবল আর প্রবল ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে। যখন অহরহ ঝুঁকি বাড়ছে এই পেশায়, যখন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নির্যাতন, নিপীড়ন এমন কি খুনের শিকার হতে হচ্ছে সাংবাদিকদের, তখনই এই ধরনের দৃঢ় মনোবল টিকে থাকার একমাত্র পুঁজি। সত্যি বলতে কি, পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্টদের দৃঢ় মনোবলের শক্তিতেই আমাদের আগামী অভিযাত্রা। পত্রিকা এবং সাংবাদিক দমন, পীড়ন, নির্যাতন, খুন ইত্যাদি বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মিডিয়া জগৎকে আতঙ্কের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। সেই সঙ্গে সাম্প্রতিক করোনা মহামারিতে শুধু সিলেট নয়, সারা দেশেরই-এমনকি বিশ্বের প্রিন্টমিডিয়ার জন্য একটা মহা বিপর্যয় নেমে এসেছে। এটা বলতেই হয়। বিপর্যয়ে পরেছেন এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সংবাদকর্মী, প্রকাশক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্টরা। সব মিলিয়ে ঐতিহ্যবাহী অনেক পত্রিকার সাবলিল প্রকাশনাও এখন ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এই অবস্থা থেকেও উত্তরণের নিরন্তর প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের।
সবকিছু মিলিয়ে আর্থসামাজিক দৈন্যতা আর অবকাঠামোগত সমস্যা প্রভৃতি নানা প্রতিকূলতা তো আছেই। তবুও সময়ের সঙ্গে পাল্লা দেয়ার নিরন্তর প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের। এ দেশের জনগোষ্ঠীর বড় অংশই অবহেলিত, অশিক্ষিত, দরিদ্র, অসচেতন। তাদের নিত্যদিনের কার্যতালিকায় প্রথমেই রয়েছে জীবন ও জীবিকার সংগ্রাম। সেই সঙ্গে আছে সামাজিক অস্থিরতা, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ইত্যাদি নানা সমস্যা। সমাজের অবহেলিত মানুষের কথা কিংবা সামাজিক-রাজনৈতিক অস্থিরতার কথা প্রতিফলিত হয় পত্রিকার পাতায়। ওঠে আসে ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্রের সফলতা-ব্যর্থতা। এভাবেই মানুষের নিত্যদিনের জীবনযুদ্ধের সহযোদ্ধা হিসেবে আমরা অতীতেও ছিলাম, আছি এখনও। আগামীতেও তাদের সুখ-দুঃখের কথা বলে যাবো আমরা। আমাদের প্রত্যাশা পূরণে সকল স্তরের মানুষের সহযোগিতা অব্যাহত থাকুক অতীতের মতো; নতুন বর্ষে পদার্পণের শুভলগ্নে আমরা এই কামনাই করছি। পাঠক, বিজ্ঞাপনদাতা, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাচ্ছি অভিনন্দন। অনাবিল সুখ-আনন্দে ভরে উঠুক সকলের বর্তমান-ভবিষ্যৎ। অফুরন্ত শুভেচ্ছা সবাইকে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT