বিশেষ সংখ্যা

দৈনিক সিলেটের ডাকের জন্মদিনে

অ্যাডভোকেট আনসার খান প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৭-২০২০ ইং ১২:৫১:১১ | সংবাদটি ১২৩ বার পঠিত
Image

পত্রিকা হচ্ছে আমাদের জীবনের একটি অংশ। বিশ্বকে জানার, কোথায়, কী এবং কেন ঘটছে সেগুলো প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় তুলে ধরে মানুষের জানার চাহিদা পূরণ করার পাশাপাশি, মানুষের জ্ঞানভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করে থাকে পত্রিকা।
এক-একটি সূর্যোদয় যেমন মানবসভ্যতার জন্য নতুন সম্ভাবনার বার্তাবাহক হয়ে নতুন দিনের দ্বার উম্মোচন করে, তেমনি ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে পত্রিকাও মানব সভ্যতার জন্য বিশ্বের নানা প্রান্তে ঘটে যাওয়া সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সমস্যা-সংকট ইত্যাদি বিষয়গুলো তুলে ধরে মানুষকে আগামীদিনের মানব সভ্যতার উৎকর্ষতার এবং নিরাপদ বিশ্ব গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে।
পত্রিকা মানুষকে ভবিষ্যতের জন্য আশাবাদী করে তোলে, জীবনকে সুন্দর ও উজ্জ্বলতর করে তোলার জন্য পথ দেখায়। তাই পত্রিকার পাঠকরা ভোরের সূর্যোদয়ের সাথে অপেক্ষায় থাকেন দিনের একখানা পত্রিকার জন্য (অনেকে অবশ্য একাধিক পত্রিকার পাঠক)। পত্রিকা হাতে না পাওয়া পর্যন্ত যেন দিনের অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজটা শুরু করায় ব্যত্যয় ঘটে। তাই শত দুঃখ-বেদনার মাঝেও পাঠক ভোরের সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় থাকে কখন দিনের পত্রিকা পৌঁছুবে হাতে।
ভোরের চায়ের পেয়ালায় এককাপ গরম ধূমায়িত চায়ে চুমুক দিয়ে পত্রিকার পাঠক পত্রিকায় চোখ বুলিয়ে নিজেকে সতেজ করে তোলার পাশাপাশি নিজের জীবনকে খোঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে বিশ্বের অগুনতি মানুষের মাঝে। পাঠক মিশে যায় মানুষের সুখ-দুঃখ, বেদনার সাথে।
পত্রিকা পাঠককে নিয়ে যায় পৃথিবীর একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে। সারা বিশ্বের ছবি-প্রতিচ্ছবি ভেসে ওঠে পাঠকের দৃষ্টি সীমায়। এভাবে গোটা বিশ্বের মানুষের সাথে একাত্ম হয় পত্রিকার পাঠক। অন্যদিকে পাঠক তার জ্ঞানভাণ্ডারকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলে, জানার আকাঙ্খা পূরণে পত্রিকা সহায়ক হয়ে ওঠে। তাই পত্রিকার সাথে পাঠকের গড়ে ওঠে আত্মিক এক সম্পর্ক, পত্রিকা হয়ে ওঠে পাঠকের জীবনের একটি অংশ। ভোরের সূর্যোদয়ে তাই পাঠকের জন্য পত্রিকা অপরিহার্য হয়ে দেখা দেয়।
পত্রিকা বা সংবাদপত্র হলো গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীনতম সংবাদ ও গণযোগাযোগের গ্রহণযোগ্য সংবাদ মাধ্যম। স্থানীয়, আঞ্চলিক, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক-সকল পর্যায়ে প্রতিদিন ঘটে যাওয়া নানাবিধ ঘটনা, দুর্ঘটনা, যুদ্ধ, সন্ত্রাস, ভালো-মন্দ, ইত্যাদি বিষয়গুলো পত্রিকার পাঠকদের নিকটে পৌঁছে দিতে পত্রিকা পালন করে চলেছে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা। এদিক থেকে পত্রিকা হলো সমাজের অন্যতম বার্তাবাহক।
সমাজের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের চিন্তাধারা ও চাওয়া-পাওয়া ও জানার আগ্রহের পরিধিও বেড়ে চলেছে। এগুলোর সাথে সঙ্গতি রেখে পত্রিকাও নিজেদের সময়োপযোগী করে পাঠক, সমাজ ও রাষ্ট্রের চাহিদা পূরণের চেষ্টা করে চলেছে, পাশাপাশি ব্যক্তির রূপান্তর, সমাজ ও রাষ্ট্রের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও বিকাশ সাধনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে পত্রিকাগুলো।
আধুনিক এ যুগে পত্রিকা অতি বিস্ময়কর ভূমিকা পালন করছে। প্রতিদিন একই কাগজের ভেতরে পৃথিবীর নানা প্রান্তের ঘটে যাওয়া হরেক রকম ঘটনাবলি পাঠকের সামনে তুলে ধরছে, আবার মানুষের সুখ-দুঃখ, দুর্দশার বিষয়গুলোও তুলে আনছে পত্রিকার পাতায়। খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রযুক্তিগত আবিষ্কার ও উন্নয়ন, সিনেমা-নাটক, সংস্কৃতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাকার বহু বৈচিত্যপূর্ণ বিষয়ও প্রতিদিনের পত্রিকার পৃষ্ঠায় তুলে ধরে পাঠকমÐলীর চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। অর্থাৎ পাঠকের চাহিদা ও আগ্রহের সাথে মিল রেখে পত্রিকাও বদলে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এভাবেই পত্রিকা পাঠকের জানার অসীমতা পূরণের চেষ্টা করে চলেছে সেই ঐতিহাসিককাল থেকে। পত্রিকার মাধ্যমে সারা বিশ্বের সাথে সংযোগ ও পরিচয় হচ্ছে পাঠকের। এসব কারণে, পত্রিকাকে বলা হয়ে থাকে, ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বের দর্পণ।
এ জগতে প্রকাশিত যত পত্রিকা আছে এর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে- দৈনিক সিলেটের ডাক। এই পত্রিকার আজ জন্মদিন। অর্থাৎ আজ ১৮ জুলাইয়ে ডাকের জন্মের ছত্রিশ বছর পূর্ণ হয়ে সাইত্রিশ বছরে পা রাখছে পত্রিকাটি। অনেক ফুল যেমন জন্মের ভোরেই ঝরে পড়ে যায়, তেমনি অনেক পত্রিকাও জন্মের সকাল বেলাতেই ঝরে পড়তে দেখা গেছে। কিন্তু সিলেটের ডাক ঝরে পড়েনি, বরং বিকশিত হয়েছে, উত্তরণ ঘটেছে এবং পাঠকপ্রিয়তা নিয়ে সাইত্রিশ বছরে পা রাখলো, এটি বিস্ময়কর। মফস্বল শহর থেকে দৈনিক পত্রিকার প্রকাশ, সত্যিই সাহসিক কাজ। পত্রিকার কর্তৃপক্ষের জন্য বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উড়তেছে মালিকপক্ষ কেবল পাঠকদের কারণে। পাঠক লুফে নিয়েছে দৈনিক সিলেটের ডাককে। ডাক তাই শক্তিশালী হচ্ছে, পাঠকের সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। সিলেটের সীমানা ছাড়িয়ে সর্বত্র বিচরণ করছে পত্রিকাটি।
ফলে ডাক আঞ্চলিক পত্রিকা হওয়া সত্তে¡ও জাতীয় পত্রিকার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর গ্রহণযোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা অনন্য দৃষ্টান্তস্বরূপ হিসেবে আদৃত হচ্ছে।
দৈনিক সিলেটের ডাক পাঠকপ্রিয়তা নিয়ে টিকে আছে,এর প্রকাশনার সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারণটা কী, প্রশ্নটা এখানেই। ডাকের এই ক্রমবৃদ্ধির জন্য তিন পক্ষের সময়োপযোগী অবদান রয়েছে বলে মেনে নিতে হচ্ছে। ১. পত্রিকার মালিকপক্ষ, ২. পত্রিকায় কর্মরত নির্বাহিক, তথা সম্পাদকমÐলী, বিভাগীয় সম্পাদকগণ, মুদ্রাকর বিভাগের দায়িত্ববানরা, সাংবাদিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরাসহ পত্রিকার প্রকাশনার সাথে জড়িত সবাই এবং ৩. পত্রিকার পাঠকগণ।
তিন পক্ষের মতাদর্শ যখন একই মোহনায় মিলিত হয়ে যায় তখন একটি পত্রিকা প্রবল গতিতে বেগবান হয়। দৈনিক ডাকের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। প্রথম দুটি পক্ষ সবসময় তৎপর ও সচেতন ছিলো পাঠকের চাহিদা বোঝে নেওয়া ও সে অনুযায়ী পত্রিকাটিকে সাজানো। তাঁদের সচেতনতার কারণে ডাকের সেটআপ, গেটআপ, মুদ্রণ, প্রতিদিনের মুদ্রিত সব বিষয়গুলো পাঠককে আকৃষ্ট করেছে নিঃসন্দেহে। পাঠক একটি পত্রিকার পাতায় যা পড়তে চায় তার সবকিছু প্রতিদিনের ডাকে প্রকাশিত হয় বলেই ডাক পাঠকদের নিকটে গ্রহণীয় ও আদৃত হয়ে উঠেছে। যে কারণে, প্রতিদিনের ভোরে পাঠকগণ অপেক্ষায় থাকেন কখন হাতে পাবেন প্রিয় পত্রিকা দৈনিক সিলেটের ডাক।
নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ সত্তে¡ও ফেলে আসা ছত্রিশ বছরে মানুষের সুখ-দুঃখ, বেদনার সাথি হয়ে মানুষের তথ্য জানার ও পাওয়ার অধিকার সমুন্নত রেখে পাঠকের নিকটে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে প্রয়োজনীয়, অথচ না জানা সব দৈনন্দিন খবর ও সংবাদের পেছনের সব খবরাখবর, যা ডাককে এনে দিয়েছে পাঠকপ্রিয়তা।
পাঠকদেরকে অধিকতর তথ্য দিয়ে সচেতন করা, সরকারি-বেসরকারি সব কাজকর্মের অপ্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা, শাসন পদ্বতি হিসেবে গণতন্ত্রের বিকাশে সহযোগিতা করা, রাষ্ট্র ও সমাজের নানা সমস্যা-সংকট এবং এসবের প্রতিকারের সম্ভাব্য উপায়, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতির ঘটমান সব বিষয়াদি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিদিনের সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয়গুলো সিলেটের ডাক পত্রিকার মানকে জাতীয় পত্রিকার মানের সক্ষমতা এনে দিয়েছে।
রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে একটি পত্রিকার যেমন ভূমিকা পালন করা আবশ্যক সিলেটের ডাক তেমন ভূমিকা পালনে সদা সচেষ্ট রয়েছে। পরিশেষে বলা যায়,বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল একটি দেশে অনেকগুলো সংবাদ মাধ্যমের ভিড়ে পত্রিকা প্রকাশ করা এবং তার প্রচার-প্রকাশনা টিকিয়ে রাখা, পাঠকদের নিকটে এর নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখা সত্যিই ঝক্কিঝামেলার বিষয়। তা সত্তে¡ও অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সিলেটের ডাক সগৌরবে টিকে আছে পাঠকপ্রিয়তা নিয়ে। একটি সুস্থধারার রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে জনগণকে শামিল রাখতে ও সচেতন করে তোলার ক্ষেত্রে দৈনিক সিলেটের ডাক অনবদ্য ভূমিকা পালন করে চলেছে এবং আগামী দিনগুলোতে ডাকের ভূমিকা আরো উজ্জ্বল হবে মর্মে আশাবাদী রইলাম।
লেখক : কলামিস্ট

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

বিশেষ সংখ্যা এর আরো সংবাদ
  • আদর্শ সাংবাদিকতার ধারক
  • শুভ কামনা দৈনিক সিলেটের ডাক
  • শুভ জন্মদিনে আলোকপাত
  • তরুমনি, জন্মদিনে যাচ্ছি
  • সিলেটের ডাক : সিলেটের সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
  • জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  • সাঁইত্রিশের তারুণ্যে উদ্দীপ্ত আমরা
  • পাঠক-প্রত্যাশার সবটুকুই পূরণ করতে চাই
  • বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সিলেটের ডাক
  • জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  • সিলেটের ডাক : সময়ের সাথে প্রাসঙ্গিক একটি সংবাদপত্র
  • সিলেটের ডাক : আমাদের সংবাদপত্র
  • পাঠকের নির্ভরযোগ্য বন্ধু
  • সিলেটের ডাক এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিছু কথা
  • সিলেট অঞ্চলের শীর্ষ দৈনিক
  • দৈনিক সিলেটের ডাকের জন্মদিনে
  • বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি নজরুল
  • বঙ্গবন্ধুর জীবনালোচনায় কিছু কথা ও কাহিনী
  • বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখার টুকরো স্মৃতি
  • মুজিববর্ষের তাৎপর্য
  • Image

    Developed by:Sparkle IT