বিশেষ সংখ্যা

তরুমনি, জন্মদিনে যাচ্ছি

ব্রজেন্দ্র কুমার দাস প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৭-২০২০ ইং ১৭:০১:১৮ | সংবাদটি ১১৩ বার পঠিত
Image

আমাদের ছোট্ট তরুমনি তার মা বাবার মুখ থেকে শুনে জন্মদিনের মাস-দিন-ক্ষণ কন্ঠস্থ করে ফেলেছে। তার জন্ম-মাস এলেই মোবাইলে ঝড় তোলে।
বলে, দাদু ভাই-দিদি ভাই, আমার জন্মদিন কিন্তু এসে গেছে! আর বেশি কিছু বলে না। তার জন্মদিনটি আসার আগ পর্যন্ত শুধুই জানান দিয়ে যায় ‘আমার জন্মদিন, জন্মদিন, জন্মদিন।’ যদিও এর পর আর কিছুই বলে না তবু মনে হয়- কি যেন বলতে চায়- বলতে পারে না, বলা হয় না। অনেক না- বলা কথা যেন বারবার হাসায় কাঁদায়।
তরুর এই না-বলা কথার বিন্দুবিসর্গ যে আমরা বুঝি না তাও কিন্তু নয়। তাই তো তার শুভজন্মদিন এলেই ক্ষণিকের তরে হলেও তার পাশে গিয়ে একটু দাঁড়াই।
এই জন্মদিন যে শুধুই শিশুর থাকে তাতো নয়। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবারই থাকে। আর শুধু মানুষের থাকে তাও নয়। থাকে মানব সৃষ্ট অনেক প্রতিষ্ঠানের। থাকে বই-পুস্তক-পত্র পত্রিকার আর এক দিক দিয়ে বলা চলে- পত্রিকা তো মানুষের মতোই কথা বলে। যদিও বাস্তবে ধরন অন্য। ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’ তো এর ব্যতিক্রম নয় এরও জন্মদিন আছে। এরও আছে আবেগ-অনুভূতি। তফাৎ শুধুই জন্মদিনের স্থলে ‘প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী’। এর বেশি তো কিছু নয়?
জন্মদিনে যেমন থাকে অনেক আবেগ ঘন প্রত্যাশা, হৃদয় নিংড়ানো দোয়া আশীর্বাদ স্মৃতিময় ভালোবাসা যে কোন প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতেও তাই। ‘সিলেটের ডাক’ এর জন্মদিন এলেও আমার স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে হাজারো স্মৃতি কথা, ঘটনা। আমাদের অদূরে তরুর মতোই কানে কানে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয় ‘আমার জন্মদিন কিন্তু এসে গেছে।’
কতো স্মৃতি, বলে কি শেষ করা যায়? কতো স্মৃতি, কতো কথা। তেমনি একটি স্মৃতি বলে দেয়। ‘সিলেটের ডাক’ এর চিন্তা-চেতনা-গভীরতা। মনে পড়ে আশির দশকের কথা। কিছু কিছু লেখালেখি করতাম। বলা চলে কাগজ কলমের অপচয় মাত্র। এর বেশি কিছু নয়। তারপরও যে লিখে সে মনে করে পত্রিকার পাতায় ছাপা হলে বোধ হয় একটা কিছু হওয়া যেতো! লেখকের খাতায় বুঝি নামটি স্থান পেতো! কিন্তু এই ছাই ভস্ম ছাপাতে কারই বা এতো ঠেকা পড়েছে। তারপর একদিন তো ঘটনা ঘটেই গেলো। সে যেন এক অসম্ভবের সম্ভব। সিলেটের এক ‘সাপ্তাহিক’ এ আমার লেখা ছাপা হয়ে গেল। আমার আনন্দ আর দেখে কে! যেন বিশ্বজয় করেই ফেলেছি। সে সময় আমার চাকরী জীবনে একান্ত আপনজন ছিলেন এক ভট্টাচার্য মহাশয়। গর্ব আর আত্মতৃপ্তিতে ঋদ্ধ মন নিয়ে পত্রিকার কপি সহ হাজির হলাম তার কাছে। প্রশংসাসূচক মন্তব্যের আশায় যখন তীর্থের কাকের মতো ভদ্রলোকের বদন খানি দর্শন করে যাচ্ছিলাম তখন তিনি যে মন্তব্য করলেন তাতে যেন হরিষে-বিষাদ অবস্থা।
সাপ্তাহিকীটির নাম করে কুটিল হাসিমাখা মুখে উচ্চারণ তার ‘এটাও একটা পত্রিকা আর তেলচোরাও একটা পাইক্কা (পাখি) গামছাও একটা কাপড়।’
সেদিনের মনের অবস্থা যে কি হয়েছিলো তাতো সহজেই অনুমেয়। কিন্তু হাল ছাড়িনি। এটা-ওটা লিখেই চলছি। পত্র পত্রিকায় লেখা পাঠাচ্ছি। কেউ ছাপেনি। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ গীতার মর্মবাণী- ‘ফলের আশা করো না, কর্ম করে যাও।’ এমনটি মনে প্রাণে পোষণ করেই পথ চলা। তারপর হঠাৎ একদিন টেলিফোন এলো, সেই ভট্টাচার্য মহাশয় আমাকে কি জানি কি ভেবে বলে যেতে লাগলেন ‘সিলেটের ডাক’- এ আপনার লিখাগুলো নিয়মিত পড়ে যাচ্ছি। চালিয়ে যান।’
আজ ‘সিলেটের ডাক’ এর জন্মদিন। জন্মদিনে যাবার আনন্দ ভাগাভাগি করার বিষয় নয়। বড়ো ইচ্ছে করছে বলতে- ‘তরুমনি, আজ জন্মদিনে যাচ্ছি।’
লেখক : মুক্তিযোদ্ধা, কলামিস্ট

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

বিশেষ সংখ্যা এর আরো সংবাদ
  • আদর্শ সাংবাদিকতার ধারক
  • শুভ কামনা দৈনিক সিলেটের ডাক
  • শুভ জন্মদিনে আলোকপাত
  • তরুমনি, জন্মদিনে যাচ্ছি
  • সিলেটের ডাক : সিলেটের সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
  • জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  • সাঁইত্রিশের তারুণ্যে উদ্দীপ্ত আমরা
  • পাঠক-প্রত্যাশার সবটুকুই পূরণ করতে চাই
  • বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সিলেটের ডাক
  • জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  • সিলেটের ডাক : সময়ের সাথে প্রাসঙ্গিক একটি সংবাদপত্র
  • সিলেটের ডাক : আমাদের সংবাদপত্র
  • পাঠকের নির্ভরযোগ্য বন্ধু
  • সিলেটের ডাক এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিছু কথা
  • সিলেট অঞ্চলের শীর্ষ দৈনিক
  • দৈনিক সিলেটের ডাকের জন্মদিনে
  • বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি নজরুল
  • বঙ্গবন্ধুর জীবনালোচনায় কিছু কথা ও কাহিনী
  • বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখার টুকরো স্মৃতি
  • মুজিববর্ষের তাৎপর্য
  • Image

    Developed by:Sparkle IT