বিশেষ সংখ্যা

শুভ কামনা দৈনিক সিলেটের ডাক

মাজেদা বেগম মাজু প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৭-২০২০ ইং ১৭:০৭:০৭ | সংবাদটি ৩৭৮ বার পঠিত
Image

সেকেন্ড, মিনিট, ঘণ্টা পেরিয়ে সময় ঠিকই চলে তার নিয়মের কাঁটা ধরে। দিন যায়, যায় মাস, যায় বছর। পেরোয় যুগ, কাল, মহাকাল, শতাব্দী। আর এই সময়ের ট্রেনখানি কোথাও কারো জন্য অপেক্ষা করে না, সে তার আপন গতিতেই চলমান। এরই মধ্যে বায়োস্কোপের ছবির মতো জীবনে একের পর এক ঘটে চলে কতনা ঘটনা প্রবাহ। জন্ম-মৃত্যু, সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাই সবকিছুর সংমিশ্রণের সাথে জীবনটা জড়িয়ে যায় আষ্টেপৃষ্ঠে। সৃষ্টির আদিকাল থেকে যুগ যুগ ধরে এ রকমই চলছে, চলবে। এই মুহূর্তে যা কিছু বর্তমান পরক্ষণেই সেটা অতীতে পরিণত হয় আর ভবিষ্যত সে-তো অবশ্যম্ভাবী। জন্মগতভাবেই মানুষ সংবেদনশীল। যার কারণে জীবনের কোন একটা সময় সুযোগ পেলেই সে তার অতীতের স্মৃতির ঝাঁপি খুলে সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার ঝরা পালকগুলোকে কুড়িয়ে এনে আপনমনে সেগুলোকে সাজিয়ে নিতে বিভোর থাকতে ভালবাসে। আর আগামী দিনের স্বপ্নীল আশায় বুক বেঁধে কাটিয়ে দেয় তার বাকী দিনগুলো। পাঠকের স্মৃতির দরজায় কড়ানাড়ার মতো তেমনি একটি পত্রিকা দৈনিক সিলেটের ডাক। যার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে পাঠক, লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের অনেক কথা, অনেক স্মৃতি।
‘দৈনিক সিলেটের ডাক’-সিলেটের বহুল পঠিত ও জনপ্রিয় একটি দৈনিক পত্রিকা-এক নামেই যার পরিচিতি। ‘বৃক্ষ তোমার নাম কি, ফলে পরিচয়’-এই কথাটি এখানে যেন যথাযথভাবে প্রযোজ্য। বৃহত্তর সিলেটের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ এমন কোন জায়গা নেই যেখানে এই পত্রিকার পাঠক খুঁজে পাওয়া যাবে না। সপ্তাহের প্রতিদিন নিয়মিত বিভাগের রমরমা আয়োজন, বিশেষ বিশেষ দিবসে বিশেষ সংখ্যা ও মানসম্মত লেখা প্রকাশ ইত্যাদি মূলত এর প্রধান আকর্ষণ যা খুব কম পত্রিকায় বিদ্যমান থাকে। দেশে পত্র-পত্রিকার অভাব নেই ঠিকই কিন্তু আপন সুনাম অক্ষুন্ন রেখে দীর্ঘদিন কোন পত্রিকার সগৌরবে টিকে থাকা খুবই দুর্লভ একটি বিষয়। এই ক্ষেত্রে সিলেটের ডাক খুবই ব্যতিক্রমী একটি পত্রিকার নাম। যদিও পত্রিকাটি স্থানীয় কিন্তু এর রূপজৌলুস ও মর্যাদা জাতীয় পত্রিকা থেকে কোন অংশে কম নয়। জনপ্রিয়তার দিক থেকেও সিলেটের প্রথম সারির একটি পত্রিকা সিলেটের ডাক একথা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। কোনকিছুর শীর্ষস্থানে পৌঁছাতে হলে এককভাবে হোক বা সম্মিলিতভাবে হোক কঠোর পরিশ্রমের দরকার। সিলেটের ডাকও এর ব্যতিক্রম নয়। সিলেটের ডাককে এই পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য রয়েছেন পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞ ও দক্ষ কলাকুশলী। পত্রিকাটির সাফল্যের পিছনে তাদের শ্রম ও অবদান যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সেটা নিঃসন্দেহে একটি অনস্বীকার্য বিষয়।
সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে পত্রিকাটির ভূমিকা অসাধারণ। পত্রিকাটির অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে বিভিন্ন বিভাগ। পাঠকের চাহিদা পূরণের জন্য সপ্তাহের প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন আমেজে বিভাগগুলিতে প্রকাশিত হয় চমৎকার সব লেখা, যেখানে রয়েছে নবীন-প্রবীণ লেখকের সমাহার। নতুন লেখকদের লেখা প্রকাশ করে অনুপ্রাণিত করার মাধ্যমে লেখার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে পত্রিকার আরেকটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য যা তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় একটি বিষয়। বিশ্বায়নের যুগে তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ সাধনের ফলে তরুণ সমাজ যখন অন্তর্জালে মোহাবিষ্ট হয়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন নেশায় ও অপরাধ জগতে, চারিদিকে যখন বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অপরাধ মহামারি আকার ধারণ করছে ঠিক তখন বিজ্ঞ ও বিশিষ্ট লেখকদের পাশাপাশি সাহিত্য জগতে নতুনদেরকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে পত্রিকাটির ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সপ্তাহের প্রতিদিনের বিভাগগুলো আলাদা হওয়ার কারণে প্রতিটি বিভাগগুলোতে লেখকদের ভিন্ন ভিন্নভাবে উপস্থাপনার সুযোগ রয়েছে।
বর্তমানে সারাবিশ্ব যে সময়টুকু অতিক্রম করছে সেটাকে অনেকেই ‘করোনাকাল’ বলে আখ্যায়িত করছেন। কোভিড-১৯ নামক মহামারীর কাছে নতজানু মানব সভ্যতা। চলছে মহামারী, বৃদ্ধি পাচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা, চারিদিকে শুধু মৃত্যু, মৃত্যু আর লাশের সারি। গৃহবন্দী মানুষ। সবকিছুতে নতুন নিয়মের আবর্তে পথচলা। তারপরও থেমে নেই কোনকিছু, করোনার মধ্যেই এখন ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে মানবসমাজ। ইচ্ছে করলে মানুষ সবকিছুই পারে সেটাই দেখিয়ে দিলো করোনা। করোনার করাল থাবায় বিশ্ব যখন চরম এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে ঠিক তখন কালের চাকায় ভর করে চলে এলো দৈনিক সিলেটের ডাকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটি দেশেই রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক সব কিছুর উপরই করোনার বিরূপ প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। সবকিছুর মতো আমাদের দেশের সংবাদপত্রগুলোও বিরাট হুমকীর সম্মুখীন। কিছু পত্রিকা যেমন সাময়িকভাবে তেমনি কোন কোন পত্রিকা সম্পূর্ণভাবেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় উপনীত হয়েছে। ব্যতিক্রম নয় প্রিয় পত্রিকা সিলেটের ডাকও। করোনাকালীন সময়ে প্রায় দু’মাস প্রিন্ট সংস্করণ বন্ধ থাকার পর ১ জুন ২০২০ থেকে পত্রিকাটি আবার প্রকাশিত হলেও আগের মতো যেন আর প্রাণপ্রাচুর্য্যে ভরপুর হয়ে উঠতে পারছে না। তবে অন্যান্য বিষয়াদির মতো এই অবস্থাও অবশ্যই সাময়িক। দুর্দিন কখনো চিরস্থায়ী নয়। দৈনিক সিলেটের ডাকও এই ক্রান্তিলগ্ন পেরিয়ে অতি শীঘ্রই তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবে ও যুগ যুগ ধরে তার জনপ্রিয়তা অক্ষুন্ন রেখে এগিয়ে যাবে দূর বহুদূর এবং সংবাদপত্রের ইতিহাসে স্বমহিমায় একসময় আপন স্থান দখল করে নেবে এই প্রত্যাশায় ৩৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে সিলেটের ডাক ও ডাক পরিবারের সকলের প্রতি রইলো অনেক অনেক শুভ কামনা।
লেখক : কলামিস্ট

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

বিশেষ সংখ্যা এর আরো সংবাদ
  • আদর্শ সাংবাদিকতার ধারক
  • শুভ কামনা দৈনিক সিলেটের ডাক
  • শুভ জন্মদিনে আলোকপাত
  • তরুমনি, জন্মদিনে যাচ্ছি
  • সিলেটের ডাক : সিলেটের সাংবাদিকতার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
  • জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  • সাঁইত্রিশের তারুণ্যে উদ্দীপ্ত আমরা
  • পাঠক-প্রত্যাশার সবটুকুই পূরণ করতে চাই
  • বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সিলেটের ডাক
  • জন্মদিনের শুভেচ্ছা
  • সিলেটের ডাক : সময়ের সাথে প্রাসঙ্গিক একটি সংবাদপত্র
  • সিলেটের ডাক : আমাদের সংবাদপত্র
  • পাঠকের নির্ভরযোগ্য বন্ধু
  • সিলেটের ডাক এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কিছু কথা
  • সিলেট অঞ্চলের শীর্ষ দৈনিক
  • দৈনিক সিলেটের ডাকের জন্মদিনে
  • বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় কবি নজরুল
  • বঙ্গবন্ধুর জীবনালোচনায় কিছু কথা ও কাহিনী
  • বঙ্গবন্ধুকে কাছে থেকে দেখার টুকরো স্মৃতি
  • মুজিববর্ষের তাৎপর্য
  • Image

    Developed by:Sparkle IT