সম্পাদকীয় যে তোমার নিকট পরনিন্দা করে, সে নিশ্চয়ই অন্যের সাক্ষাতেও তোমার নিন্দা করে। -আল হাদিস।

কৃষির আধুনিকায়ন

প্রকাশিত হয়েছে: ২০-০৭-২০২০ ইং ০২:৪৩:৪৮ | সংবাদটি ১৪২ বার পঠিত
Image

কৃষির আধুনিকায়নের বড় প্রকল্প গ্রহণ করছে সরকার। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ’ শীর্ষক এই প্রকল্পে ব্যয় হবে তিন হাজার ২০ কোটি টাকা। দেশের সব উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। ফলে ফসল উৎপাদন বাড়বে, ব্যবসায়িকভাবে অধিকতর লাভজনক ও বাণিজ্যিকভাবে কৃষিকে টেকসই করে তোলা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার। এ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য হচ্ছে-বিভিন্ন মওসুমে কৃষিতে শ্রমিক সংকট দিন দিন প্রকট আকার হচ্ছে; যে কারণে বেড়ে যাচ্ছে উৎপাদন ব্যয়। এসব কিছু বিবেচনা করেই আমরা কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের দিকে নিয়ে যেতে চাই। তাছাড়া, এটি যুগের চাহিদা। এতে উৎপাদন ব্যয় যেমন কমবে, তেমনি সংগ্রহ পর্যায়ে শস্যের অপচয়ও কমে আসবে। করোনা মহামারির কারণে দেশের অর্থনীতি যখন হুমকির মুখে তখনই এই ধরণের একটি উদ্যোগ কৃষির উন্নয়নে সার্বিক ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেই আমরা মনে করি।
কৃষি নির্ভর দেশে কৃষিই মানুষের প্রধান পেশা। অর্থনীতির চালিকাশক্তিও এই কৃষি। এ দেশের মানুষের আদি পেশা এই কৃষির অগ্রগতির জন্য উদ্যোগ নিতে হবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। গবাদি পশু, লাঙ্গল-মই দিয়ে যুগ যুগ ধরে চাষ করা হতো যে জমি, সেখানে এখন চাষাবাদ হচ্ছে যন্ত্রের মাধ্যমে। ফসল কাটা ও মাড়াই হচ্ছে যন্ত্র দিয়ে। এতে কৃষি শ্রমিকেরও বেশী প্রয়োজন হচ্ছে না। তবে কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহার আশানুরূপ বাড়ছেনা। বেশীর ভাগ কৃষকই সনাতন পদ্ধতিতেই চাষাবাদ করছে। এতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে শ্রমিক সংকট। প্রায় প্রতি মওসুমেই শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে বিলম্ব হয়; পাকা ধান বিনষ্ট হয় মাঠেই। আর শ্রমিক যা-ও পাওয়া যায়, তার মজুরী দিতে হয় বেশী। যে কারণে ফসলের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় মাত্রাতিরিক্ত। এই প্রেক্ষপটে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ সময়ের দাবী। এই খাতে ইতোপূর্বে কিছু কিছু প্রকল্প গ্রহণ করাও হয়েছে। কিন্তু আমাদের কৃষিকে যন্ত্রনির্ভর করে তুলতে সেই সব প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে। প্রথমত কৃষিতে ব্যবহৃত আধুনিক টেকসই যন্ত্রের অভাব রয়েছে। দ্বিতীয়ত যন্ত্র যেগুলোও রয়েছে বাজারে তার মূল্য বেশী; যা কৃষকদের পক্ষে কেনা সম্ভব হয় না। তৃতীয়ত কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে অনেক কৃষকই আগ্রহী নয়। এ জন্য সরকার এবার কৃষি যান্ত্রিকীকরণের যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে, সেটা বাস্তবায়ন করা খুবই জরুরী। সরকার আশা করছে প্রকল্পটি ২০২৫ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত হবে এবং এতে ফসলের অপচয় রোধ হবে ১০ থেকে ২৫ শতাংশ। এছাড়া চাষাবাদে ৫০ শতাংশ সময় এবং ২০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় হবে।
করোনা মহামারিতে দেশের শিল্প ও সেবা খাত প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। কিন্তু কৃষি উৎপাদন থেমে থাকেনি। উৎপাদনশীল খাত হিসেবে কৃষি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই এই কৃষির অগ্রগতি অব্যাহত রাখতেই হবে। কৃষির উন্নয়নের জন্যই এই মুহূর্তে একে যান্ত্রিকীকরণের বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। সর্বোপরি শিক্ষিত বেকার তরুণদের এই খাতে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এদেশের কৃষি উৎপাদন যেভাবে অব্যাহত রেখেছেন কৃষকেরা তার ধারাবাহিকতায় যান্ত্রিকীকরণের মাধ্যমে কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণেও সফলতা আসবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT