সম্পাদকীয় তোমরা যদি প্রকৃত মুমেন হও তবে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। -আল কুরআন

‘গ্রামমুখী’ জনস্রোত

প্রকাশিত হয়েছে: ২২-০৭-২০২০ ইং ০৩:০২:৪৮ | সংবাদটি ১৭৫ বার পঠিত
Image

শহরমুখী জনস্রোত থেমে গেছে। বরং স্রোত বইছে উল্টো দিকে। মানে মানুষ শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছে গ্রামে। এতোদিন মানুষের কাজের সন্ধানে জীবিকার সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে পাড়ি জমাতো শহরে। এখন শহরে কাজ হারিয়ে মানুষ ফিরছে গ্রামে। গ্রাম-জন্মভূমি আপন ঠিকানা। কিন্তু গ্রামেও সুখে নেই তারা, যে কাজের জন্য তারা শহর ছেড়েছে সেই কাজ নেই গ্রামেও। কারণ করোনা সবকিছু তছনছ করে দিয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে চলছে এক রকম স্থবিরতা। কাজ হারিয়ে মানুষ শহর ছেড়ে যাচ্ছে গ্রামে। অথচ গ্রামেও নেই কাজ। প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে অনেকের আয়। এতোদিনে যা কিছু সঞ্চয় ছিলো তাও শেষ হয়ে গেছে। তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। যে কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্যের আশানুরূপ বিপণন হচ্ছে না। ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকেরা।
চলমান বৈশ্বিক মহামারি করোনায় আমাদের অর্থনীতি, সমাজ ব্যবস্থা, জীবন জীবিকা সবকিছুই লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষেরা চাকরি হারাচ্ছে। প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ বেকারের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। তারা বাধ্য হচ্ছে শহর ছেড়ে যেতে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও টিকতে পারছে না শহরে। অনেকে পেশা পরিবর্তন করেও ভাগ্য ফেরাতে পারছে না। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জরিপে জানা যায়, দেশে করোনা পরিস্থিতির কারণে লকডাউন শুরু হওয়ায় প্রথম দুই মাসেই তিন কোটি ৬০ লাখ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। এই সময়ে প্রায় ছয় কোটি মানুষের শ্রেণি কাঠামোর পরিবর্তন হয়েছে। আর নতুন করে আড়াই কোটির বেশি মানুষ হতদরিদ্রে পরিণত হয়েছেন। লকডাউনের আগে অতি ধনী যে এক কোটি ৭০ লাখ ছিলো তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। তবে উচ্চ মধ্যবিত্তে থাকা তিন কোটি ৪০ লাখ থেকে এক কোটি ২০ লাখে নেমে এসেছে মধ্যবিত্তে। আর মধ্যবিত্তে থাকা তিন কোটি ৪০ লাখ থেকে এক কোটি হয়েছে নিম্ন মধ্যবিত্ত। এভাবে বিপুল জনগোষ্ঠী নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্রে এবং দরিদ্র থেকে হতদরিদ্রে পরিণত হচ্ছে। অর্থাৎ প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে এক ধাপ কিংবা দুই ধাপ নিচে নেমে যাচ্ছে।
শহর ছেড়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ যেমন গ্রামে ফিরছে, তেমনি বিদেশ থেকেও লাখ লাখ শ্রমিক চাকরি হারিয়ে আসছে দেশে। আর আক্ষরিক অর্থে এরাও ফিরছে নিজেদের গ্রামে। সেই হিসেবে করোনার কারণে সৃষ্টি হওয়া বেকার জনগোষ্ঠী এখন ভীড় জমিয়েছে গ্রামীণ জনপদে। কিন্তু সেখানে কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়নি। ইতোপূর্বে শত চেষ্টা করেও চাঙ্গা করা সম্ভব হয়নি গ্রামীণ অর্থনীতি। যা-ও কিছুটা অর্থের প্রবাহ তৈরি হয়েছিলো, সেটাও স্তব্ধ করে দিয়েছে করোনা। গ্রামীণ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে করোনার কারণে। এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলোও এক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রমকে সম্প্রসারিত করার পরিবর্তে সংকোচিত করে ফেলেছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সরকারও প্রণোদনাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে তা-ও ভেস্তে যেতে বসেছে। তবে আসল কথা হচ্ছে, প্রথমেই বাস্তবতাকে মেনে নিতে হবে; দ্বিতীয়ত প্রয়োজন সরকারের আন্তরিক, সময়োপযোগী উদ্যোগ এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে তার বাস্তবায়ন।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT