সম্পাদকীয় নীরবতা মঙ্গল না করতে পারে, কিন্তু ক্ষতি করে না। -জর্জ রিচার্ড

গো-খাদ্যের সংকট

প্রকাশিত হয়েছে: ২৩-০৭-২০২০ ইং ০২:৪০:৩৬ | সংবাদটি ১৩১ বার পঠিত
Image

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের সংকট। বিশেষ করে, করোনা আর বন্যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে গবাদি পশুর খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন গৃহস্থসহ খামারীরা। বন্যায় অসংখ্য গবাদি পশু হাঁস মুরগী, মৎস্য খামার আক্রান্ত হয়েছে। তলিয়ে গেছে চারণ ভূমি। খড় ঘাসসহ গো-খাদ্য বিনষ্ট হওয়ায়, না খেতে পেরে গবাদিপশু নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও খাদ্য সংকটে গবাদিপশু মারা যাওয়ার খবরও আসছে। আবার গো-খাদ্য যা-ও পাওয়া যাচ্ছে তার দাম মাত্রাতিরিক্ত। ফলে খামারিরা এবার ঈদে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হবেন বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইদানিং এই সংক্রান্ত খবরা খবর প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন পত্রিকায়।
সরকারি পরিসংখ্যানের তথ্য হচ্ছে সারাদেশে কমপক্ষে নয় কোটি মেট্রিকটন গো-খাদ্যের ঘাটতি রয়েছে। আর অপুষ্টিজনিত কারণে প্রতি বছর ২৩ লাখের বেশি গবাদি পশু মারা যাচ্ছে। ফলে দেশে গবাদি পশুর সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এতে চাষাবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে বাড়ছে মাংস ও দুধের দাম। দেশের চাহিদা অনুযায়ী গবাদিপশুর সংখ্যা বাড়ছে না। একদিকে অপুষ্টিজনিত কারণে মরছে, অন্যদিকে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক গবাদিপশু জবাই করা হচ্ছে। তাছাড়া, প্রতি বছর কুরবানীর ঈদে দেশে এক কোটির বেশি গবাদি পশু জবাই করা হয়। গত বছর কুরবানীতে এক কোটি ছয় লাখ গবাদি পশু জবাই করা হয় সারাদেশে। সরকারি পরিসংখ্যানের তথ্য হচ্ছে, দেশে গবাদি পশুর সংখ্যা প্রায় তিন কোটি। আর এইসব গবাদি পশুর ২৫ শতাংশই খাদ্যের অভাবে অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে। বছরে ১৩ কোটি মেট্রিকটন খড়, কাঁচা ঘাস, খৈল, ধান ও গমের ভুসি, চিটাগুড় ও ভুট্টার প্রয়োজন। কিন্তু এর মধ্যে ঘাটতি রয়েছে প্রায় নয় কোটি মেট্রিকটন। অথচ এই খাদ্য ঘাটতির ব্যাপারে তেমন একটা গুরুত্বই দেয়া হচ্ছে না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পশুখাদ্যকে মানুষের বিভিন্ন কাজে ব্যবহারের পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। খৈল, ধান ও গমের ভুসি, চিটাগুড় ও ভুট্টা মানুষের দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঘাস চাষের ক্ষেত্রও দিন দিন সংকোচিত হচ্ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ তথা বন্যা, খরা ইত্যাদি কারণে গো-খাদ্যের সংকট তো হয়ই; এমনকি, সারা বছরই গো-খাদ্যের সংকট লেগে থাকে। এই বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে গুরুত্বের সঙ্গে। ইতোপূর্বে সারাদেশে পাঁচ হাজার একর জমিতে উন্নতজাতের ঘাস চাষ হতো। বর্তমানে তা কমে নেমে এসেছে অর্ধেকের নিচে। প্রতিনিয়ত কমছে গো-চারণ ভূমি। প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বা সম্ভব হলে প্রতিটি গ্রামে একটি করে উন্নতজাতের ঘাসসহ দেশীয় ঘাস চাষের ক্ষেত্র তৈরি করা যায়। গবাদি পশুর চিকিৎসার ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত। উপজেলা পর্যায়ে পশু হাসপাতালগুলোতে গবাদিপশুর যথাযথ চিকিৎসা হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের এদিকে নজর দেয়া জরুরি।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT