সম্পাদকীয় তোমরা যদি প্রকৃত মুমেন হও, তবে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখো। -আল কুরআন

সর্পদংশনে মৃত্যু বাড়ছে

প্রকাশিত হয়েছে: ২৪-০৭-২০২০ ইং ০৩:১৪:৪৮ | সংবাদটি ১৯১ বার পঠিত
Image

করোনা আর বন্যার মাঝে আরেকটি উপদ্রব হচ্ছে সাপ। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইদানিং বেড়েছে সাপের উপদ্রব। গত প্রায় দুই মাসে দেশের বিভিন্ন স্থানে কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে সর্পদংশনে। বাংলা সাহিত্যে অসংখ্য গান, গল্প, উপন্যাস রচিত হয়েছে বেদে ও বেদেনীদের নিয়ে। বেদে-বেদেনীদের সাপের ঝাপি মাথায় নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানো কিংবা খোলা স্থানে অস্থায়ী তাবু খাটিয়ে বেদে পরিবারের বসবাসের দৃশ্য এখনও চোখে পড়ে। তারা সাপের খেলা দেখিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। এরা পোষ মানিয়েছে হিং¯্র প্রাণীকে। সাপ সচরাচর তার প্রভুকে দংশন করেনা। তবে ক্বদাচিৎ সাপের কামড়ে সাপুড়ের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। বেশ কয়েক বছর আগে দেশে প্রথমবারের মতো প্রতিষ্ঠিত সাপের খামারের মালিকের মৃত্যু হয়েছে তারই খামারের পোষা সাপের কামড়ে। তবে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে সাপের কামড়ে। বছরে গড়ে ছয় হাজারের বেশী মানুষের মৃত্যু হচ্ছে সর্পদংশনে। কিন্তু সাপেকাটা রোগীদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই দেশে।
সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে সাড়া বছরই। তবে বর্ষা মওসুমে বেড়ে যায় এই মৃত্যুর ঘটনা। একটি জরিপের তথ্য হচ্ছে, প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ২০ জনকে সাপে কামড় দেয়। এই মৃত্যুর হার দেশে বর্তমান মাতৃ মৃত্যুর হার থেকে বেশী। জানাগেছে বছরে প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে সাপের কামড়ের শিকার হয় ছয়শ’ ২৩ জন। সেই হিসেবে দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ছয় লাখ মানুষ সর্পদংশনের শিকার হচ্ছে। আর সর্পদংশনের পর ৮৬ ভাগ মানুষই চিকিৎসার জন্য ওঝার কাছে যায়। এছাড়া, গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে যায় ছয় ভাগ মানুষ। আর হাসপাতাল ও রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে যায় মাত্র ছয় ভাগ মানুষ। আমাদের দেশে আছে প্রায় ৮০ প্রজাতির সাপ। এর মধ্যে ২২ প্রজাতির সাপ হচ্ছে বিষাক্ত। এর মধ্যে ভয়ংকর বিষাক্ত কয়েকটি সাপ হচ্ছে-গোখরা, দুমোখো, গেছোসাপ সহ আরও কয়েকটি প্রজাতি। এগুলোর কামড়ে মানুষের মৃত্যু ঘটে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে। তবে বিষধর সাপে কামড়ালে পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টার মধ্যে উন্নত চিকিৎসা দেয়া গেলে রোগী বেঁচে যায়। অবশ্য এজন্য সচেতনতা খুবই জরুরী। আমাদের দেশে সচেতনতার অভাবে সাপেকাটা অনেক রোগীই উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেনা। ওঝার ঝাড়ফুক আর হাতুড়ে চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসার কারণে অসংখ্য রোগীর অকাল মৃত্যু হচ্ছে।
সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে সাপে কামড়ানো রোধ, প্রতিকার ও চিকিৎসার গুরুত্বপূর্ণ কোন কর্মসূচী নেই দেশে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপেকাটে দরিদ্র এলাকার মানুষদের, মারা যায় গরীবেরাই বেশী। সাপেকাটা রোগীর জন্য অপরিহার্য ওষুধ ‘এন্টিভেনাম’ সরকারী হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত মজুদ থাকেনা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া এন্টিভেনাম সিভিল সার্জনের কাছ থেকে চাহিদা পাওয়ার ভিত্তিতে জেলা সদরে সরবরাহ করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময়ই ওষুধ সরবরাহ হয়না হাসপাতালগুলোতে। খোলা বাজারেও এগুলো খুব একটা পাওয়া যায় না। বিক্রি কম মনে করে এগুলো রাখা হয় না দোকানে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে এই ওষুধের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সাপের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে সকলকে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT