সম্পাদকীয় অর্থ ও ক্ষমতালোভে মানুষ যেকোন পর্যায়ে নেমে যেতে পারে। -টমাস ফুলার।

করোনায় শিশুদের শিক্ষাজীবন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৬-০৭-২০২০ ইং ০১:৫২:৪২ | সংবাদটি ১০৫ বার পঠিত
Image

করোনায় বিপর্যস্থ জনজীবন। মানুষের জীবন-জীবিকা সবকিছুই তছনছ হয়ে গেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে শিক্ষা ক্ষেত্রে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম, শিক্ষাবর্ষ-এর কোন কিছুই এখন স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। সবই এলোমেলো। দেরীতে হলেও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে, ভর্তির কার্যক্রম শুরু হওয়ার সূচি ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু অনুষ্ঠিত হয়নি এইচএসসি পরীক্ষাসহ ¯œাতক দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা। কবে হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। চরম সেশনজটে পড়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের লাখ লাখ ছেলেমেয়ে পড়েছে চরম বিপাকে। যেসব শিশু শহর ছেড়ে গ্রামে চলে গেছে, এদের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। না এরা শহরে ফিরতে পারবে খুব তাড়াতাড়ি, না গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে।
করোনার কারণে চাকরি বা কাজ হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ শহর ছাড়ছে প্রতিদিন। ছোটবড় সব শহর থেকেই মানুষ ফিরে যাচ্ছে গ্রামে। এর কোন পরিসংখ্যান নেই। তা সম্ভবও নয়। বলা হয় রাজধানী থেকে ইতোমধ্যেই কমপক্ষে এক লাখ পরিবার গ্রামের বাড়িতে চলে গেছে। এভাবে সব শহর নগর থেকেই গ্রামে প্রত্যাবর্তন করছে মানুষ। সেই হিসাবে শহর ছেড়ে গ্রামে ফেরা পরিবারের সংখ্যা যে কয়েক লাখ হবে, এতে সন্দেহ নেই। আর এই পরিবারগুলোর সন্তানেরা স্কুল-কলেজ ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এইসব পরিবার কবে আবার শহরে ফিরবে, নিজের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙ্গিনায় পা দেবে, তার নিশ্চয়তা নেই। কিংবা আবার আদৌ এই পরিবারগুলো শহরে ফিরতে পারবে কিনা, সেটা বলা মুশকিল। কারণ যারা চাকরি বা ব্যবসা হারিয়ে শহর ছেড়েছে, তাদের সেই চাকরি ফিরে পাওয়ার কোন নিশ্চয়তা নেই। সেই হিসেবে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে, এটাই শেষ কথা। তাছাড়া, গ্রামে ফেরা পরিবারগুলো গ্রামে জীবিকা নির্বাহের কোন উপায় খুঁজে পাবে বলে মনে হয় না। এই অবস্থায় তারা সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার কথা ভাবতেই পারছে না।
তারপরেও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে খুঁজে বেড়াতে হয় প্রাণের অস্তিত্ব। এটাই সংগ্রামী মানুষের ধর্ম। করোনা ধ্বংস করেছে সাজানো বাগান। তাই বলে বসে থাকলে চলবে না। শুরু করতে হবে নতুন করে। শহরে চাকরি হারিয়ে গ্রামে ফেরা মানুষেরা নতুন করে জীবন শুরু করবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে তারা গ্রামে। তারা আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি ছোটখাটো ব্যবসা বা কৃষি কাজেও নিয়োজিত হয়ে আয়ের একটা পথ খুঁজে পেতে পারে। আর এভাবে তারা সন্তানদেরও লেখাপড়ার সুযোগ তৈরী করতে পারবে। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT