উপ সম্পাদকীয়

মুক্ত পানির মাছ সুরক্ষায় যা প্রয়োজন

পিযুষ চক্রবর্তী প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৭-২০২০ ইং ০২:৩৯:০৭ | সংবাদটি ১৪৯ বার পঠিত
Image

বিশ্বব্রহ্মান্ডে তিনভাগ জল একভাগ স্থল। পানির উৎস নদী। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া পর্যন্ত অসংখ্য নদী রয়েছে বাংলাদেশে। এ দেশকে নদী মাতৃক দেশ বলা হয়। নদী ছাড়াও রয়েছে হাওর-বাওর, বিল-ঝিল, খাল পুকুর ও ডোবা। দেশের প্রতিটি জলাশয়ে রয়েছে নানা প্রজাতির মাছ।
মাছে ভাতে বাঙালি। মাছ ছাড়া বাংলার মানুষের খাদ্য কল্পনা করা যায় না। নদী-নালা ও হাওর-বাওরের সুরক্ষা সহ দেশীয় প্রজাতির মুক্ত পানির মাছ রক্ষা ও বৃদ্ধির জন্য। সরকার তথা সকল শ্রেণির জনগণকে সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। দেশের প্রধান প্রধান নদ-নদী- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, সুরমা এগুলোর উৎপত্তিস্থল ভারতের গঙ্গা নদী, বরাক নদী প্রভৃতি। আমাদের দেশের প্রধান প্রধান নদীগুলোর রয়েছে শাখা ও উপনদী। কোন না কোনভাবে নদ নদীগুলো আবার বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে।
সামুদ্রিক মাছ তো অপেক্ষাকৃত স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর। এছাড়া পদ্মা নদীর ইলিশ ও চাঁদপুরী ইলিশের কদর বেশি। বাংলাদেশের জাতীয় মাছ ইলিশ। ইলিশ সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানী হচ্ছে যা বাংলাদেশের জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। দুঃখজনক হলেও সত্য যে কলকারখানার বর্জ্য ও অবৈধ দখল ও উজানের ঢলে আসা পলি ও বালিতে প্রতি বছর নদীর নাব্যতা নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের জাল দিয়ে মুক্ত পানির মাছ শিকার হচ্ছে অবাধে। এমনকি মাছের পোনা পর্যন্ত রেহাই পাচ্ছে না পেশাদার ও অপেশাদার জেলেদের হাত থেকে। নদী হচ্ছে দেশের প্রাণ।
নদী বাঁচলে মাছ ও দেশ বাঁচবে। যোগাযোগের ক্ষেত্রেও নৌপথের যোগাযোগ প্রত্যন্ত অঞ্চলে একমাত্র উপায়। আর হাওর অঞ্চলে তো কথাই নাই জনজীবনে বর্ষায় নাও, হেমন্তে পাও। দুর্গম হাওর অঞ্চলে বর্ষায় জেলেরা ভাসা পানিতে মাছ শিকার করে এবং হেমন্তে নদী নালা ও বিল ঝিল থেকে মাছ ধরে। কালের আবর্তে নদী, হাওর, বিল, ঝিল সমতল কান্দায় ভরাট হয়ে যাচ্ছে যা একটু খোঁজ নিলেই জানা যাবে।
নদী ও হাওর স্থানীয় এবং জাতীয় সম্পদ। এগুলো রক্ষায় ও যথাযথ ব্যবস্থায় সরকারের ভূমিকা অতীব জরুরি। নল-খাগড়া, হিজল-করচ, বালু-পাথর, ধান ও মাছ হাওর এলাকার মানুষের প্রাণ। ভাটির দেশ, গানের দেশ, ধানের দেশ, মাছের দেশ মোদের গর্ব বাংলাদেশ।
নদী ভরাট ও হাওরের বিল ভরাট জনিত কারণে আগের মত মাছ পাওয়া যায় না। মানুষজন বিভিন্ন জায়গায় নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে মাছ ধরছে। বিল-ঝিল তো কথা নেই, পানি কম হওয়াতেও লম্বা পাইপ এর পাওয়ার পাম্প দিয়ে শুকিয়ে ফেলে এমনকি মাটি খোদে বাইম মাছ ধরে। মাছ কিভাবে থাকবে। অচিরেই সরকার যদি দেশের সবকটি নদী খনন করে তাহলে পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়বে অকাল বন্যা দেখা দিবে না। নদী ফিরে পাবে নাব্যতা। নৌপথে যোগাযোগ ও আর্থ সামাজিক উন্নতি সহজ হবে। নদী ও মুক্ত পানিতে মাছের সুরক্ষাও একান্ত প্রয়োজন। নদী ও মাছ আমাদের জাতীয় সম্পদ, এগুলো সুরক্ষায় সরকার তথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ জনগণকে আগে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে।
লেখক: কলামিস্ট

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির নব্য রূপকার
  • স্মরণ:ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল
  • কোভিড-১৯ এর সম্মুখ সমরে লড়ছে জিন প্রকৌশলীরা
  • মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব
  • বৃদ্বাশ্রম
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • সত্য যখন উক্তি হয়ে ফিরে আসে
  • প্রসঙ্গ : মহামারিতে ধৈর্য ধারণ
  • মা-বাবার সাথে থাকি
  • নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে কিছু কথা
  • মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  • বাউল সম্রাট ও গ্রামীণ সংস্কৃতি
  • সমাজসেবা ও দেশপ্রেম
  • ক্ষণজন্মা সৈয়দ মহসীন আলী
  • শিক্ষার সাথে চরিত্র গঠনও প্রয়োজন
  • জাতীয় প্রবীণ নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
  • ম. আ. মুক্তাদির : বিপ্লবীর স্বপ্নের দেশ
  • স্মরণ: শেখ তজমুল আলী চেয়ারম্যান
  • করোনাকালে সঙ্কটে প্রবাসীরা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT