উপ সম্পাদকীয়

ভাটি অঞ্চলের দুর্দশা লাঘব হবে কি?

আফতাব চৌধুরী প্রকাশিত হয়েছে: ২৭-০৭-২০২০ ইং ০২:৪১:০৪ | সংবাদটি ১৫৩ বার পঠিত
Image

হযরত শাহ জালাল (র.) এবং হযরত শাহ পরাণ (র.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার মাজার সমৃদ্ধ পুণ্যভূমি অপরূপ নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি, হাওর, বাওর, ছোট বড় টিলা, পাহাড়, চা বাগান, দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ এই চারটি জেলা নিয়ে সিলেট বিভাগ। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলাসমূহ ছাড়া প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যরে এমন নান্দনিক দৃশ্য বাংলাদেশের আর কোথাও দেখা যায় না। হাওর-বাওর সিলেট বিভাগের প্রকৃতিক সৌন্দর্যকে অধিকতর সুষমামন্ডিত ও শ্রীবৃদ্ধি করেছে। এবার আকস্মিক বৃষ্টিতে এবং অকাল বন্যায় সিলেট বিভাগ ও পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জ এবং নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চলে ফসল এবং মাছের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় হাওরবাসীর জনজীবনে নিদারুণ দুর্ভোগ নেমে এসেছে। এর প্রভাব বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উপর পড়ায় বর্তমানে এই বিপর্যয় দেশব্যাপী আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশের অনেকগুলো পরিবেশ অঞ্চলের মাঝে হাওর একটি। যারা হাওর দেখেননি তারা বুঝতে পারবেন না হাওর কেমন। শুকনো মৌসুমে হাওরে পানি থাকে না। তখন দিগন্ত বিস্তৃত ধান ক্ষেত এবং হাওরের বিলে মাছ ধরা হয়। বর্ষাকালে চারিদিকে থৈ থৈ পানি কষনও শান্ত আবার কখনও বাতাসে অশান্ত হলে সাগরের মতো বিরাট বিরাট ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়। হাওরে ধান, মাছ এবং জনবসতি ছাড়াও প্রাকৃতিক উপায়ে হয়ে উঠা হিজল, করছ এবং অন্যান্য জংলী গাছের বাগান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেছে। হাওরের জমির মাপ ঝোপ ও সমতল ভূমির জমি হতে সম্পূর্ণ আলাদা। হাওর অনেকটা চ্যাপ্টা বাটির মতো। চারদিকে উঁচু পাহাড় ক্রমশ ঢালু হয়ে জলাশয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমানায় এষে শেষ হয়েছে। হাওরের জলাশয়ের এই অংশে সারা বছর পানি থাকে এবং এটাকে বিল বলা হয়। পাহাড় থেকে বিলের সীমানা পর্যন্ত হাওরের এই জমিতে শুকনো মৌসুমে পানি থাকেনা। এখানে বোরো ধান চাষ করা হয়। ধানি জমির ভিতর অনেক উঁচু উঁচু মাটির ভিটির উপর অনেক দূরে দূরে একেকটি গ্রাম। শুকনো মৌসুমে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে আঁইলের উপর দিয়ে পায়ে হেটে যাতায়াত করতে হয় এছাড়া যাতায়াত ব্যবস্থার এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। বর্ষাকালে চারদিকে অথৈ পানির মাঝে একেকটি গ্রাম দেখতে একেকটি দ্বীপের মতো মনে হয়। নৌকা কিংবা অন্য কোন জলযান ছাড়া এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে যাওয়ার উপায় নেই। বিভিন্ন তথ্য হতে জানা যায় বাংলাদেশে ৪০০ এর উপর ছোট বড় হাওর আছে। এর মাঝে শুধু সুনামগঞ্জ জেলায় ২০০ টির মতো হাওর রয়েছে যার মধ্যে এবার ১৮০ টির মতো হাওরের ফসলহানি হয়েছে। সুনামগঞ্জ ছাড়া আর কোন জেলায় এত হাওর না থাকায় সুনামগঞ্জকে হাওর কন্যা বলা হয়। সুনামগঞ্জের হাওরে প্রচুর ধান হয় বিধায় পাকিস্তান আমলে সুনামগঞ্জকে পূর্ব পাকিস্তানের শস্য ভান্ডার বলা হতো। ধান ছাড়াও হাওর ও বিলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ সারা বছর পাওয়া যায়। তাই মৎস্য ভান্ডার হিসাবে সুনামগঞ্জের যথেষ্ট সুখ্যাতি রয়েছে। শীতকালে সুদূর সাইবেরিয়াসহ অন্যান্য শীতপ্রধান অঞ্চল হতে প্রায় ২০০ প্রজাতির অতিথি পাখির আগমন এবং কলতানে হাওর অঞ্চলের বিলগুলো মুখরিত থাকে।
সুনামগঞ্জ জেলার হাওরে প্রায় ১ হাজারের উপর বিল বা জলমহাল আছে। ২০ একর এর উপর বিল ৩ বছরের জন্য জেলা প্রশাসন হতে এবং ৩ বছরের উপর ৬ বছর পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয় হতে ইজারা দেওয়া হয়। ২০ একরের নীচে জলমহাল উপজেলা প্রশাসন হতে ইজারা দেওয়া হয়। কিছু কিছু উন্মুক্ত জলাধার এই জেলায় আছে, যা ইজারা দেওয়া হয় না। এইসব জলাধার হাওর অঞ্চলে বসবাসরত মৎস্যজীবীদের মাছ ধরার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। কাগজে কলমে মৎস্যজীবীদের জন্য রাখা হলেও তারা কষনও জলমহাল ইজারা পেয়েছে এমন নজির আছে বলে মনে হয় না। বিত্তশালী এবং রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত প্রভাবশালীরা নামে বে-নামে এসব জলমহালের ইজারাদার। হাওর পাড়ের কৃষিজীবীদের অধিকাংশ ইজারাদারদের লাঠিয়াল এবং জলমহালের পাহারাদার। মৎস্যজীবীদের ইজারাদারেরা মাছের খলায় শ্রমজীবী হিসাবে মাছ ধরা এবং মাছ ব্যবসার সাথে জড়িত। ইদানিং অবস্থাপন্ন অনেক কৃষিজীবী সন্তানদের লেখা পড়া এবং উন্নত জীবন যাপনের জন্য জেলা ও উপজেলা সদরে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। গরিব মৎস্যজীবীরা কিন্তু গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে বসবাস করছে এমন নজির খুবই কম।
উল্লেখ্য বৃহত্তর সিলেটে হিন্দু সম্প্রদায়ের মৎস্যজীবীদের সিলেটি ভাষায় ‘কৈবর্ত’ এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মৎস্যজীবীদের ‘মাইমুল’ বলা হয়। সিলেট সদর, সুনামগঞ্জ তাহেরপুর, আজমিরীগঞ্জ এবং বানিয়াচং উপজেলায় অনেক বিত্তশালী মাইমুল পরিবার আছে যারা সরাসরি মৎস্য ব্যবসার সাথে জড়িত এবং জলমহালের ইজারাদার। অভিজাত শ্রেণীর সিলেটি মুসলমানরা এক সময় মৎস্য ব্যবসাকে ঘৃণা করতো। মৎস্য ব্যবসা একটি লাভজনক ব্যবসা হওয়ায় এখন অভিজাত শ্রেণীর অনেকেই এই ব্যবসার সাথে জড়িত হয়েছে। কালের বিবর্তনে সিলেটে বিত্তের কাছে আভিজাত্য হার মানতে বাধ্য হয়েছে। প্রতি বছর নভেম্বরে হাওরের পানি কমার সাথে সাথে হাওর অঞ্চলের কৃষিজীবীরা কৃষি কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। নভেম্বর হতে এপ্রিল এই ৬ মাস তাদের কর্মব্যস্ত সময় কাটাতে হয়। এই সময় তারা কাক ডাকা ভোরে জমিতে হাল দেয়। এখন হাওরে গরু দিয়ে চাষের বদলে আধুনিক পদ্ধতিতে হাল-চাষ করা হয়। চাষের পর জমিতে বীজ বপণ এবং রোপণ করা হয়। রোপণের পর ধান না পাকা পর্যন্ত কৃষিজীবীরা সোনালী আঁশের পরিচর্যা করে থাকে। কৃষি জমিতে কাজের ফাঁকে ফাঁকে হাওরবাসীরা হিজল, করছ এবং নানা জংলী গাছের ডালপালার সাহায্যে বেড়া দিয়ে বর্ষায় হাওরের ঢেউয়ের আঘাত হতে বসত ভিটা রক্ষার ব্যবস্থা করে। হাওরে ধানপাকার পর ধান কাটার জন্য বৃহত্তর ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা এবং অন্যান্য মঙ্গা পীড়িত এলাকার শ্রমজীবী মানুষেরা চুক্তিতে ধান কাটতে আসতো। ধান কাটার পর তারা কৃষকের গোলায় ধান তুলে দিয়ে তাদের প্রাপ্য ধান নৌকা করে নিয়ে চলে যেতো। সময়ের বিবর্তনে এখন সর্বত্র কম বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় আগের মতো শ্রমজীবী মানুষেরা ধান কাটতে আসে না। বৃহত্তর সিলেটের জৈন্তাপুর, কানাইঘাট এবং গোয়াইনঘাট এলাকার লোকজন এখন ধান কাটতে আসে। বর্ষায় হাওরবাসী অনেকটা আয়েশী জীবনযাপন করে। হাওর এলাকায় বিয়ে সাদীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান সাধারণত এই সময়ে হয়ে থাকে।
বিলের ইজারাদারেরা শুকনো মৌসুমে বিলে মাছ ধরে। মাছ ধরার জন্য তারা বিলে অস্থায়ী বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে। এটাকে তাদের ভাষায় ‘খলা’ বলা হয়। মৎস্যজীবী নারী-পুরুষ এবং শিশু শ্রমিকদের ইজারাদারেরা বিলে মাছ ধরার কাজে নিয়োগ করে। পুরুষরা মাছ ধরে এবং বিক্রির ব্যবস্থা করে। নারী ও শিশু শ্রমিকরা মাছ কেটে রোদে শুকিয়ে শুটকী বানায়। বর্ষা আসার পূর্বেই হাওরে পাকা ধান কাটা এবং বিলের মাছ ধরা শেষ করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে সব হাওর পানিতে ডুবে একাকার হয়ে গেলে কোন হাওরের সীমারেখা থাকে না। হাওরবাসী বর্ষা মৌসুমে উন্মুক্ত হাওরের পানিতে মাছ শিকারসহ অনেকটা আয়েশী জীবন কাটায়।
হাওর সমৃদ্ধ সুনামগঞ্জ জেলার পৃথিবীর সবচেয়ে বৃষ্টি বহুল পাহাড়ি এলাকা চেরাপুঞ্জি এলাকার সন্নিকটে এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সুউচ্চ খাসিয়া জৈয়ন্তিয়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত হওয়ায় বাংলাদেশে সুনামগঞ্জ জেলায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত হয়। বজ্রপাতসহ শিলাবৃষ্টিও অন্যান্য জেলার তুলনায় এখানে বেশি। বৈরী আবহাওয়া এবং প্রতিকূল পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এখানকার কৃষিজীবীরা বৃটিশ আমলে হাওরের জমিতে আউশ ধান চাষ করতো বলে জানা যায়। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল আসার সাথে সাথে আউশ ধান পাকা আরম্ভ হতো। বৃষ্টিতে জমি তলিয়ে গেলেও ধান নষ্ট হতো না। কৃষকরা পানিতে নেমে পাকা ধান কেটে এবং পরে শুকিয়ে গোলায় তুলতে পারতো। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে আউশ ধান বাদ দিয়ে কম ফলনশীল কিন্তু বর্ষা আসার আগে আগে পাকে এমন বোরো ধান চাষ আরম্ভ হয়। এই জাতীয় ধানও কৃষকরা বর্ষা আসার আগে গোলায় তুলতে পারতো। এতে কৃষিজীবীদের মহাজন এবং বিভিন্ন অর্থলগ্নী প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া ঋণের টাকা যথা সময়ে সুদসমেত পরিশোধ করতে অসুবিধা হতো না। কৃষকদের মুখে তখন হাসি ছিল। ৬০ দশকের শেষ দিকে এবং বাংলাদেশের জন্মের পর হতে স্থানীয় কৃষি অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন এনজিও সংস্থার পরামর্শে দেরিতে পাকা অধিক ফলনশীল ইরি বোরো দান চাষে কৃষকদের উদ্বুুদ্ধ করা হয়। অধিক ফলনশীল দেরিতে পাকা ইরি বোরো ধান চাষের পর হতে কৃষকদের কপাল পুড়তে আরম্ভ করে। অতি বৃষ্টি এবং আগাম বন্যার পানিতে এখন ধান তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতি বছর হাওরের ধান মারা যাচ্ছে। এতে অনেক কৃষক এখন জায়গা জমি বিক্রী করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বলে শোনা যায়। চাষ মারা যাওয়াতে কৃষকরা চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে এমনও শোনা যাচ্ছে।
মার্চ এপ্রিল হতে সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জসহ হাওর সমৃদ্ধ এই ৬টি জেলায় একত্রে বন্যা শুরু হয়। বিভিন্ন তথ্য হতে জানা যায় ফসল, মাছ, ঘরবাড়ি এবং রাস্তাঘাটসহ আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। এবারের ভয়াবহ দুর্যোগে হাওর অঞ্চলে কম বেশি সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাজার মণ ধান পায় এমন গেরস্তর শূন্যহাতে ফিরতে হয়েছে। এমনও অনেক পরিবার আছে, কোনদিন লাইনে দাঁড়াবে বলে কল্পনা করতে পারেনি, তারাও ত্রাণের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে।
মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জসহ সারা দেশের বন্যা পরিস্থতির খবারাখবর রাখছেন এবং যেখানে প্রয়োজন সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণের ব্যবস্থা ও রয়েছে বলে বন্যাপিড়ীতদের জানান দিয়ে যাচ্ছেন। আমরা আশা করি বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি এবং পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকার দৃঢ় মনোবল নিয়ে এগিয়ে আসবেন। আমরা এও বিশ্বাস করি সমাজের বিত্তশালী ধনাঢ্য ব্যক্তিবর্গ এ মহা সংকটে সরকারের পাশে এসে দাড়াবেন।
লেখক : সাংবাদিক-কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির নব্য রূপকার
  • স্মরণ:ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল
  • কোভিড-১৯ এর সম্মুখ সমরে লড়ছে জিন প্রকৌশলীরা
  • মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব
  • বৃদ্বাশ্রম
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • সত্য যখন উক্তি হয়ে ফিরে আসে
  • প্রসঙ্গ : মহামারিতে ধৈর্য ধারণ
  • মা-বাবার সাথে থাকি
  • নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে কিছু কথা
  • মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  • বাউল সম্রাট ও গ্রামীণ সংস্কৃতি
  • সমাজসেবা ও দেশপ্রেম
  • ক্ষণজন্মা সৈয়দ মহসীন আলী
  • শিক্ষার সাথে চরিত্র গঠনও প্রয়োজন
  • জাতীয় প্রবীণ নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
  • ম. আ. মুক্তাদির : বিপ্লবীর স্বপ্নের দেশ
  • স্মরণ: শেখ তজমুল আলী চেয়ারম্যান
  • করোনাকালে সঙ্কটে প্রবাসীরা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT