উপ সম্পাদকীয়

চাই পথের দিশা

ইনাম চৌধুরী   প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৭-২০২০ ইং ০১:৫০:৩৭ | সংবাদটি ৯০ বার পঠিত
Image

মৃত্যুভয় কমজোর মানুষকে অহরহ তাড়িত করে। আরেক দল মানুষ রয়েছেন যারা মৃত্যুকে তোড়াই পরোয়া করেন। নানা সংকট নানা মুশকিলাত কাউকে কাউকে পর্যুদস্ত যেমন করে, তেমনি অজানা ভয় আতংক তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার প্রশিক্ষণ পর্বটা সমাপ্ত করে দেয়। শুধু আমাদের দেশেই নয়, বিশ্বব্যাপি একটি মহামারীর বিস্তৃতি ঘটায় কে কোন পর্যায়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, সেটা নিয়ে রাষ্ট্রনায়করা হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন ইতিমধ্যে। আকস্মিক এই মরণব্যাধি মানব সম্পদকে বিরাট আকারের কর্মহীনতা তথা ডাল ভাত সংগ্রহের রাস্তা থেকে ছিটকে পড়তে বাধ্য করেছে। আশা তুমি কূহকীনি এই মন্ত্রবলে এই মহামারী জনিত রোগটির প্রতিষেধক আবিষ্কার আর আপন হাতে এসে পৌঁছার মতো একটি আশ্বাস বাক্য অন্তরে ধারণ করে বসে রয়েছেন অনেকে।
আমাদের দেশটির আকার, আয়তন সবকিছু মিলিয়ে দেশের যে জনসংখ্যা, সেটি একেবারে বেমানান। এতো বিরাট জনগোষ্ঠী, তাদের জন্য নিরাপত্তা সুবিধা নিশ্চিত হোক সেটা চাইবেই। বর্তমানে মহামারী থেকে রক্ষা পেতেও চাইবে। চিকিৎসা প্রাপ্তির সুবিধা লাভ একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকারগুলির একটি। রিজেন্ট হাসপাতাল সহ অনেক হাসপাতালকে এখন নানা ধরনের তত্ত্বাবধান আর তদন্তনাধীন ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। জনগণ এ জাতিয় সরকারী কর্মপন্থাসমূহের স্তুতি গাইবে এমনটি ধারনা করা হয়েছিলো। বাস্তবে ভিন্ন সুর ধ্বনি শোনা যাচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে। বিস্ময় আর হতাশার সংমিশ্রনে একটি ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়ার প্রকাশ ঘটেছে। এতোদিন থেকে হাসপাতালগুলি চালু আছে কিন্তু কর্তৃপক্ষীয় নজরদারী ছিলো ভাসা ভাসা। এ সকল হাসপাতাল অনৈতিক সকল কর্মকান্ড পরিচালনা করে বুক চিতিয়ে। এদের অনেককে (পরিচালক) বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা গেছে। অনেকেরই আবার বড় বড় সাহেব সুবোদের সাথে দহরম মহরম রয়েছে। পত্র পত্রিকায় ছাপা সংবাদ চিত্র থেকে সেটির আন্দাজ পাওয়া যায়। মহামারী মোকাবেলার সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে জানতাম এখন সেদিকে আর দৃষ্টি দিতে হয় না বরং রাঘব বোয়াল অপরাধীদের বিষয়ে ফলাও করে প্রচারণা চালা হচ্ছে অর্থাৎ সস্তায় বিনোদনমূলক একটি কাহিনী উপস্থাত হলো আর সবাই হুমড়ী খেয়ে পড়লো। প্রত্যাশা বোধ হয় এটাই।
বিশ্বব্যাপি বিস্তৃতি প্রাপ্ত মহামারিটি সবাইকে হতবাক করে দিয়েছে অন্যদিকে আমাদের সিলেট বিভাগকেও প্রাণঘাতি মহামারিটি আষ্ঠেপৃষ্ঠে যেন জড়িয়ে ধরেছে। বিশেষায়িত হাসপাতাল বানানো হয়েছে মহামারী মোকাবিলায়। অক্সিজেন সহ নানা আবশ্যকীয় চিকিৎসা সামগ্রীর সংকটও রয়েছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে কোটারী স্বার্থের কারণেন সত্তুর শতাংস চিকিৎসককে বেসরকারী খাতে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বেসরকারী খাতে ভালোমতই আছেন। আমার মনে পড়ে সাতাশ, আটাশতম বি,সি,এস উত্তীর্ণ চিকিৎসকরা আপন চাকুরীর জনসভা, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান সহ সবকিছুই করেছিলেন তারপরেও ভাগ্যে শিকে ছেড়েনি কারণ তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা তার তাবেদারদের পকেটে ছিলো অন্য তালিকা। সেই তালিকাই জয় লাভ করেছে। অন্যদিকে বঞ্চিত, হতাশ চিকিৎসকরা বেসরকারী খাতের চিকিৎসালয় সমুহের ফাঁদে পা দিয়েও নিজস্ব মেধা আর যোগ্যতা প্রমাণ করে তারা রাজার হালতেই জীবন কাটাচ্ছেন। বেসরকারী চিকিৎসালয় সমূহ যদি না থাকতো তাহলে সরকারী হাসপাতালগুলি সীমিত পরিসরে কিভাবে সারা জাতির জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতো। সেটি সম্ভব হতো না বরং ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি অবস্থার সৃষ্টি হতো। বেসরকারী চিকিৎসালয় গুলি গলাকাটা অর্থ আদায় করছে বলে শুনতে পাই। মোদ্দা কথাটি হলো আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ সমূহ বেসরকারী হাসপাতাল বা কিøনিকগুলির উপর নজরদারী চালাতেও ব্যর্থ হয়েছে। বলতে বাধ্য হচ্ছি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজেদের অকর্মন্য আর অথর্ব হিসাবে প্রমাণিত করতে সমর্থ হয়েছেন পুরোপুরিভাবে। এখনও সময় আছে বেসরকারী খাতে যে সকল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন তাদেরকে আহবান করা হোক সরকারী হাসপাতালগুলিতে তাদের মেধা আর মননের চর্চা নিশ্চিত করেন, অর্থাৎ চুক্তি ভিত্তিতে হলেও এদেরকে সরকারী চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার অধীনে আনা হোক অনতিবিলম্বে আর যে কোন মূল্যে। আমি জানি এ জাতিয় একটি মহতী উদ্যোগ গ্রহণ করার মতো যোগ্য আর সাহসী কোন কর্তা ব্যক্তি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে নাই। কাজটি করতে হবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাবা শেখ হাসিনাকেই। বেসরকারী খাতের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাদের বিলাস বহুল আর আয়েশী জীবনধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে সরকারী চাকুরীতে আসতে চাইবেন না। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে নিয়ে আসতে হবে। আলাপ করে জানলাম তাদের প্রায় সবাই বি,সি,এস উত্তীর্ণ হয়েও নগদনারায়ন দিয়ে সরকারী চাকুরীতে যোগ দিতে মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলেন না। এখনতো তাদের অবস্থা বৃহস্পতিতে তুংগে। কিছু সংখ্যক দুর্নীতিবাজদের কারণে একদা তারা বঞ্চিত হয়েছিলেন যোগ্যতার ভিত্তিতে পাওয়া চাকুরী (সরকারী) লাভ করতে।
আমাদের সিলেটেও একটি চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়েছে। আশা করবো এখানে যোগ্যতর বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের আহবান করে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে চিকিৎসা শাস্ত্রের অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগ দেয়া হবে। মুখ দেখে মুগের ডাল নীতিটি অনুসরণ করা হবে না বলে আস্থা রাখতে চান সিলেটবাসী।
আমাদের বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে এবার বন্যা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি অনুপাতে এ জাতিয় মারাত্মক বন্যা হওয়ার কথা নয় কিন্তু সন্নিহিত নদীগুলির ধারণ ক্ষমতা হারিয়ে যাওয়ায় দুকূল ছাপিয়ে বানভাসির সৃষ্টি হয়েছে। সিলেট মহানগরীর বেশ কয়েকটি এলাকা অকল্পনীয় বন্যার কবলে পতিত হয়েছে। এসব নদীগুলি বড় ধরনের খনন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে বলে শুনছি দীর্ঘদিন ধরে কিন্তু অদ্যাবদি কাজের কাজ কিছুই হয় নাই। অনেক জায়গায় নদীভরাট এমন হয়েছে যে আসল জলধারা কোথায় সেটি ঠাহর করা মুশকীল হয়ে পড়েছে। খনন যন্ত্র কেনা হয়েছে, কাজ শুরু হলো বলেÑ কিন্তু কাজ আর শুরু হয় নাই তাই বৃষ্টির পানিতে সয়লাব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে নগরীর সমুদয় বর্জ্য আর পূরীষরাশি বহন করে সুরমা নদীটি বয়ে চলেছে। নদীটি আপন রূপ হারিয়ে ¤্রীয়মান হয়ে পড়েছে। দখলদাররাও বেশ আনন্দে নদী সংলগ্ন এলাকা ভোগদখল করেই যাচ্ছেন। দেখার যেমন লোক নেই ব্যবস্থা নেবার মতো লোকও যেন হাওয়া হয়ে গিয়েছেন। বৃহত্তর সিলেটের আরেকটি নদী কুশিয়ারাও যেন পড়েছে ক্ষীণকায়া। আপন নাব্যতা অনেক জায়গায়ই নেই বললেই চলে। সুরমা কুশিয়ারা নদী দুটিকে ব্যাপক খনন প্রক্রিয়াধীন করা হোক অনতি বিলম্বে। বড় মুশকীলছে হোতা হায় চমন মে দিদাওয়ার পয়দা।
লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • করোনার ছোবলে জীবন-জীবিকা
  • মানুষ কেন নিমর্ম হয়
  • করোনায় আক্রান্ত শিক্ষা ব্যবস্থা
  • প্রসঙ্গ : ব্যাংকিং খাতে সুদহার এবং খেলাপি ঋণ
  • করোনা, ঈদ এবং ইসলামে মানবতাবোধ
  • ত্যাগের মহিমায় চিরভাস্বর ঈদুল আযহা
  • করোনাকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা
  • আনন্দযজ্ঞে আমন্ত্রণ
  • ত্যাগের মহিমায় কুরবানির ঈদ
  • চাই পথের দিশা
  • ভাটি অঞ্চলের দুর্দশা লাঘব হবে কি?
  • মুক্ত পানির মাছ সুরক্ষায় যা প্রয়োজন
  • উন্নত দেশে মসজিদে গৃহহীনদের আশ্রয়
  • তাইওয়ান সংকট
  • কোরবানী : ঈমানের পরীক্ষা
  • বন্যা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক ভূমিকা
  • শিক্ষা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের রক্ষা করতে হবে
  • বিসিএস এবং অন্যান্য আলোচনা
  • হজ্ব বাতিলের ইতিহাস
  • মহামারী করোনা ও সেবার মানসিকতা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT