সম্পাদকীয় কর্মদক্ষতাই মানুষের সর্বাপেক্ষা বড় বন্ধু। -দাওয়ামী

সংস্কৃতিসেবীদের দুর্দিন

প্রকাশিত হয়েছে: ২৮-০৭-২০২০ ইং ০১:৫৫:৫৫ | সংবাদটি ৮২ বার পঠিত
Image

কষ্টে আছেন সংস্কৃতিসেবীরা। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে যেমন কষ্টে আছেন দেশের মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীসহ বেসরকারী সেক্টরে কর্মরত চাকরিজীবি, ব্যবসায়ীসহ দিনমজুর, তেমনি কষ্টে আছেন সংস্কৃতিসেবীরাও। অভিনয়, সঙ্গীত, আবৃত্তি কিংবা উপস্থাপনার সঙ্গে জড়িত অনেক শিল্পীর এখন আয়রোজগার বন্ধ। এদের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বনই হচ্ছে বেতার-টিভিতে কাজ করে প্রাপ্ত সম্মানী। সরকারি বেসরকারি বেতার-টিভিতে নতুন কোন অনুষ্ঠান তৈরী হচ্ছেনা; বন্ধ রয়েছে মঞ্চ কিংবা খোলা স্থানে সঙ্গীত বা নাটকের মঞ্চায়ন। যে কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন দেশের কয়েক হাজার শিল্পী-সংস্কৃতিসেবী। ইতোমধ্যেই প্রায় দশ হাজার সংস্কৃতিসেবীকে পাঁচ হাজার টাকা করে এককালীন সহায়তা প্রদান করা হলেও সেটা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম, আবার তা-ও যথাযথ ব্যক্তিদের হাতে পৌঁছেনি বলে অভিযোগ রয়েছে।
করোনার ধাক্কায় দেশের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল স্তব্ধ। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারী বেতার ও টিভি চ্যানেলে নতুন অনুষ্ঠান প্রচার হচ্ছেনা। যে কারণে বন্ধ হয়ে গেছে শিল্পী, কলাকুশলীদের আয়। জানা গেছে, দেশে কমপক্ষে ২০ হাজার সংস্কৃতিসেবী রয়েছে, যাদের একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। করোনা শুরু হওয়ার পর প্রথম দিকে দেশের দশ হাজার সাংস্কৃতিক কর্মীকে এককালীন পাঁচ হাজার টাকা করে প্রণোদনা দেয়া হলেও তাতে রয়েছে নানা ঘাপলা। ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এই অর্থ বিতরণে। অনেক ক্ষেত্রে দুঃস্থ সংস্কৃতিকর্মী নয়, বরং সচ্ছ্বল ব্যক্তিরাই এই প্রণোদার অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে জানা যায়। এখানে উল্লেখ করা জরুরী যে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের দুঃস্থ শিল্পীদের নিয়মিত ভাতা দেয়ার একটা কর্মসূচি চালু রয়েছে। কিন্তু এতেও প্রকৃত দুঃস্থ সংস্কৃতিসেবীরা বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এই অর্থ আত্মস্যাৎ করছেন বলে প্রায় সময়ই অভিযোগ পাওয়া যায়। অপর দিকে প্রকৃত দুঃস্থ শিল্পী ও কলাকুশলীরা কষ্টে আছেন, শুধু বর্তমান করোনা বিপর্যয়েই নয়, স্বাভাবিক সময়েও। কারণ করোনা আসার আগেও এরা সুখে ছিলেন না। কারণ কাজ থাকলে আয় আছে, কাজ না থাকলে বেকার, আয়ও বন্ধ।
সবমিলিয়ে শিল্পী-সংস্কৃতিসেবীদের একটা নিয়মিত ভাতার ব্যবস্থা করা জরুরী। যা প্রতিবেশী দেশ ভারতে চালু রয়েছে বিগত ৫০ বছর ধরে। সেখানে সব সংস্কৃতিকর্মীকেই নিয়মিত মাসিক ভাতা দেয়া হয় নির্দিষ্ট হারে। এতে তাদের নিয়মিত কাজ না থাকলেও মোটামুটি সংসার চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তাছাড়া, চলতি করোনাকালে দেশের সব সঙ্গীত, অভিনয়, আবৃত্তি, উপস্থাপনাসহ শিল্প-সংস্কৃতির অন্যান্য শাখায় কর্মরতদের সঠিক তালিকা করে বিশেষভাবে সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। আর এই ধরণের তালিকায় যাতে ভুয়া সুযোগসন্ধানীরা অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। করোনা বিপর্যয়ে সরকার যে হাজার হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তার সার্বিক সফলতার জন্যই এই উদ্যোগ নেয়া উচিত বলে আমরা মনে করি।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT