সম্পাদকীয় ধংস এমন প্রতিটি লোকের জন্য যে ধিক্কার দেয় ও নিন্দা করে। -আল হাদিস

শব্দ দূষণের যন্ত্রণা

প্রকাশিত হয়েছে: ২৯-০৭-২০২০ ইং ০৩:০৪:২৮ | সংবাদটি ৯৭ বার পঠিত
Image

এক কোটির বেশি লোক ভুগছে শব্দ দূষণজনিত রোগে। শব্দ দূষণের মাত্রা বাড়ছে দিন দিন, আর সেই সঙ্গে শব্দ দূষণজনিত নানা রোগে আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। শব্দ দূষণ একটি স্থায়ী নাগরিক সমস্যা। শুধু নগরজীবন নয়, গ্রামজীবনেও শব্দ দূষণ আজকাল মারাত্মকভাবে ভোগাচ্ছে মানুষদের। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের সংখ্যা। সেই সঙ্গে সভ্যতার ক্রম বিকাশ ঘটছে, বিকাশ ঘটছে শিল্পের। রাস্তাঘাটসহ নানা অবকাঠামো নির্মিত হচ্ছে। বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। আর সেই সঙ্গে শব্দদূষণ সৃষ্টি হওয়ার অনুসঙ্গগুলো প্রকট আকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বাড়ছে শব্দ দূষণ। বাড়ছে রোগ-ব্যাধি। শব্দ দূষণ রোধে রয়েছে সরকারের আইন। কিন্তু সেটা খুব একটা কার্যকর নেই। মানে সেই আইন মানার প্রয়োজন মনে করে না সংশ্লিষ্ট কেউ। সরকারও আইন প্রয়োগে উদাসীন।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, বিভিন্ন শহরে রাজপথে যানবাহন নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ সদস্যদের শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর যানবাহন চালকদের মধ্যেও একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ট্রাক, বাস, মিনিবাসের বেশির ভাগ চালক, হেলপারেরই শ্রবণশক্তি লোপ পাচ্ছে। যানবাহনের উচ্চ শব্দের হর্ণ বাজানোর জন্যই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। শুধু যানবাহনের হর্ণ নয়, শব্দ দূষণ সৃষ্টির আরও অনেক কারণ রয়েছে। যেমন ইট ভাঙ্গার মেশিনের শব্দ, জেনারেটর, কলকারখানা, পাথর ভাঙ্গার মেশিন, মাইক, ট্রেন, বিমান উড্ডয়নের শব্দ ইত্যাদি। সবচেয়ে ভয়াবহ খবর হচ্ছে, দেশে এক কোটির বেশি লোক শব্দ দূষণ জনিত রোগে ভুগছে। আর এই দূষণে প্রতি হাজারে একজন বধির হয়ে জন্মায় এবং আরও একজন পরবর্তী সময়ে বধির হয়ে যাচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দ দূষণ একটি শিশুকে বেড়ে ওঠার আগেই বধির হওয়ার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শব্দ দূষণের কারণে আরও যেসব রোগ হতে পারে- উচ্চ রক্তচাপ, খিটখিটে মেজাজ, মাথা ব্যথা বদহজম, পেপটিক আলসার, ঘুমের ব্যাঘাত ইত্যাদি। যেকোন রোগী গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের জন্য এটি মারাত্মক ক্ষতির কারণ। সমস্যাটি যে কেবল আমাদের দেশেই রয়েছে তা নয়, সারা বিশ্বের পাঁচ ভাগ মানুষ শব্দ দূষণের শিকার। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ৬০ ডেসিবেলের অধিক শব্দ যদি দীর্ঘসময় ধরে বাজতে থাকে তবে সেটা মানুষের জন্য ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক এবং তা থেকে সৃষ্টি হয় নানা রোগ।
শব্দ দূষণ রোধে দেশে রয়েছে আইন। আইনে শব্দ দূষণ সৃষ্টির জন্য সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা অর্থদ- অথবা অনধিক ছয় মাস কারাদ-ের বিধান রয়েছে। এই আইন মানছে না কেউ। আইনে মারাত্মক শব্দ দূষণ সৃষ্টিকারী হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ এই হর্ণ বিদেশ থেকে আমদানী নিষিদ্ধ করা হয়নি। মোটামুটি এই ধরনের স্ববিরোধী ত্রুটিপূর্ণ আইনের কারণেও শব্দ দূষণের যন্ত্রণা কেবল বাড়ছে। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে দরকার সময়োপযোগী ও কঠোর আইন প্রণয়ন। সেই সঙ্গে এর প্রয়োগও নিশ্চিত করতে হবে। সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট শব্দ দূষণকারী ব্যক্তিবর্গেরও বিবেকবোধ জাগ্রত করে এটা উপলব্ধি করা উচিত যে, অস্বাভাবিক শব্দ দূষণ সৃষ্টি করে আশেপাশের লোকদের বিরক্ত করার অধিকার তার নেই।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT