সম্পাদকীয় কর্মদক্ষতাই মানুষের সর্বাপেক্ষা বড় ধর্ম। -দাওয়ানী।

হাসপাতালের ওষুধ চুরি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫-০৮-২০২০ ইং ০১:৪৪:৩৮ | সংবাদটি ১১২ বার পঠিত
Image

চুরি হচ্ছে ওষুধ। হাসপাতালের ওষুধ। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালের কোটি কোটি টাকা মূল্যের ওষুধ চুরি হচ্ছে প্রতি বছর। সরকারি হাসপাতালগুলোতে সরকার থেকে যেসব জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহ করা হয় তার সামান্যই পৌঁছে রোগীদের হাতে। বেশীরভাগ ওষুধই বিক্রি হচ্ছে চোরাই পথে। অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালেরই একই চিত্র। সেই সঙ্গে হাসপাতালের একশ্রেণীর চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ রোগীদের হাতে বাইরে থেকে ওষুধ কেনার জন্য লম্বা স্লিপ ধরিয়ে দেন। এর বিনিময়ে ডাক্তাররা ওষুধ কোম্পানী থেকে মোটা অংকের কমিশন লাভ করেন। তাছাড়া বাইরে থেকে কেনা ওষুধের সামান্যই কাজে লাগানো হয়। বাকিগুলো দোকানে ফেরত দিয়ে টাকা নিয়ে আসে হাসপাতালের দুর্নীতিবাজচক্র। দেশের আশিভাগ সরকারি হাসপাতালেই একই চিত্র।
সরকারি হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগ বিস্তর। রোগীরা পায়না কাংখিত সেবা। আছে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ। সেই সঙ্গে হাসপাতালগুলোতে অনিয়ম-দুর্নীতি শুধুই বেড়ে চলেছে। বিভিন্নভাবে সরকারি সম্পদ লুটপাটসহ রয়েছে সরকারি ওষুধ চুরি। বিভিন্ন হাসপাতালের মেডিসিন স্টোর থেকে পাচার হচ্ছে ওষুধ। স্টোর থেকে ওষুধ ওয়ার্ডে নেয়ার পথেও চুরি হচ্ছে। আবার ওয়ার্ড থেকেও এক দফা চুরি হচ্ছে ওষুধ। এই তিন দফা চুরির পর রোগীদের হাতে নামেমাত্র ওষুধ পৌঁছে। এই প্রক্রিয়ার ওষুধ চুরি চলে আসছে বছরের পর বছর। সেই সঙ্গে রয়েছে বাইরে থেকে ওষুধ কেনানোর মহোৎসব। জানা গেছে, সুই-সুতা, ব্যান্ডেজ থেকে শুরু করে সব ধরণের ওষুধই বাইরে থেকে কেনার জন্য ডাক্তার-নার্স একটা স্লিপ ধরিয়ে দেয় রোগীর হাতে। রোগীরা বাধ্য হয় এসব ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে। কিন্তু রোগীদের জন্য সরবরাহকৃত ওষুধ সঠিকভাবে পৌঁছে কিনা, তা দেখার কেউ নেই। ওষুধ পাচারের সঙ্গে ডাক্তার-নার্স, স্টোর থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত একশ্রেণীর কর্মচারী জড়িত বলেই অভিযোগ রয়েছে। সরবরাহকৃত ওষুধের ৭০ ভাগ সরকার নিয়ন্ত্রিত এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানী থেকে সরবরাহ করা হয়। আর বাকি ৩০ ভাগ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্রয় করে থাকেন। এই এসেনশিয়াল ড্রাগ কোম্পানী থেকে সরবরাহকৃত ৭০ ভাগ ওষুধই দেশের সকল সরকারি হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এর ৯৫ ভাগই রোগীরা পাচ্ছে না।
সব সরকারি হাসপাতালের আশেপাশে যেসব ওষুধের দোকান রয়েছে, মূলত এগুলোতেই বিক্রি হয় সরকারি হাসপাতালের ওষুধ। প্রতিটি হাসপাতালেরই কোটি কোটি টাকার ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। এটি নতুন কিছু নয়। ওষুধের দোকান আর হাসাপাতালের দুর্নীতিবাজ কর্মচারী চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত চক্র এই অপকর্ম চালিয়ে আসছে বছরের পর বছর। সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য নির্মাণ করেছে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি হাসপাতাল। এজন্য জনবলসহ ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের যোগান দিচ্ছে সরকার। কিন্তু এই সুবিধা কতোটুকু পাচ্ছে রোগীরা, সেটাই বড় প্রশ্ন। সরকারি হাসপাতালে ওষুধসহ অন্যান্য সরঞ্জাম চুরির সিন্ডিকেটকে দমন করতে হবে। আর এজন্য দরকার কঠোর অভিযান। হাসপাতালের অভ্যন্তরে অসৎ ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয়সহ অন্যান্য কর্মচারীদের অপকর্ম অচিরেই বন্ধ হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT