শেষের পাতা

হাকালুকি হাওরে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে পর্যটকের ঢল

গোপাল দত্ত, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) থেকে : প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৮-২০২০ ইং ১০:১৪:৩৩ | সংবাদটি ১০০ বার পঠিত
Image

উপরে নীল আকাশ আর নিচে অথৈ স্বচ্ছ জলরাশি। হাওরের বুকে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে হিজল-করচসহ নানা জলজ বৃক্ষ। হাওরের জলে বয়ে চলছে ছোটবড় নৌকা। আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। নয়নাভিরাম এই দৃশ্যটি এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরের। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মন কেড়ে নেয় ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের। তাইতো সেখানে ছুটে আসছেন পর্র্যটকরা।
এবারের ঈদুল আযহার ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে মৌলভীবাজারের বড়লেখার হাকালুকি হাওর। করোনাভাইরাসের ভয় উপক্ষো করে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা সেখানে ভিড় করছেন। এতে আয়-রোজগার বেড়েছে স্থানীয় নৌকার মাঝিদের। ফলে তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। তবে, স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় ও বনবিভাগের হাকালুকি বিট অফিস সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যতম হাওর হাকালুকির বেশির ভাগই পড়েছে মৌলভীবাজারে বড়লেখায়। প্রতিবছর বর্ষা এলেই হাকালুকি হাওরে পর্যটকের ভিড় লেগে থাকে। তবে, এবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের সব পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। কিন্তু ভ্রমণপিপাসু মানুষ করোনার ভয় উপেক্ষা ঈদের ছুটিতে বেড়াতে আসছেন হাকালুকি হাওরে। ঈদের আগে সেখানে প্রতিদিন দু’শ থেকে তিন’শ পর্যটক ভিড় করতেন। কিন্তু ঈদের পর থেকে সেখানে পর্যটকের স্রোত নেমেছে। ঈদের দিন শনিবার থেকে ঈদের পঞ্চমদিন বুধবার পর্যন্ত সেখানে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাকালুকি হাওর ঘুরতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে এসেছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। কেউ বা এসেছেন বন্ধুদের সাথে। হাওরপারের হাল্লা গ্রামে যেতেই দেখা গেল সড়কে ওপর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রাখা হয়েছে অনেকগুলো গাড়ি। বর্ষায় সড়কের বিভিন্নস্থানে ভাঙন ও পানি ওঠায় অনেকেই আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতে গাড়ি রেখেছেন। সড়কের পাশ ঘেঁষে যাত্রীদের জন্য অপেক্ষা করছে ছোটবড় নৌকা। মানুষজন দর কষাকষি করে সেসব নৌকায় ওঠে হাওরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। পাখিবাড়িতে গিয়ে বিভিন্ন জাতের পাখিদের ওড়াওড়ি দেখছেন। হাওরের বুকে চলছে ছোটবড় নৌকা। মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াচ টাওয়ার আর বনবিভাগের বিট অফিসের ওপর দাঁড়িয়ে হাওরের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য অবোকলন করছেন পর্যটকরা। ঘুরতে আসা পর্যটকদের কেউ কেউ ওয়াচ টাওয়ার থেকে হাওরের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। সাঁতার কাটছেন। ওয়াচ টাওয়ারে দায়িত্বরত লোকজন তাদেরকে সতর্ক করতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন। সন্ধ্যা অবধি সেখানে মানুষ আনোগোনা করছেন।
হাওরে ঘুরতে আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহি আবিদ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিন থেকে ঘরবন্দি। অনেকদিন ঘোরাঘুরি হয়নি। প্রকৃতির কাছকাছি যাওয়া হয়নি। ভেতরে একরকম অস্বস্তি কাজ করছিল। ভাবলাম বন্ধুদের সাথে হাওর থেকে ঘুরে আসি। এখানে এসে ভালো সময় কেটেছে। মনটা সতেজ লাগছে। এখানে সূর্যাস্ত দেখতে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।
চাকরিজীবী শাহ লুৎফুর রহমান বলেন, ‘বর্ষায় হাওরের সৌন্দর্য দেখতে অন্যরকম ভালো লাগে। এখানকার পরিবেশ আমাকে বারবার টানে। তাই প্রাণের টানে এখানে ছুটে এসেছি। অসম্ভব ভালো লাগছে। আসার সময় সড়কপথে কষ্ট হয়েছে। তবে, হাওরের রূপ দেখে তা ভুলে গেছি।
শিক্ষক নাজিম উদ্দিন বলেন, বর্ষাকালে হাওর দেখতে অনেকটা মিনি কক্সবাজারের মতো লাগে। আর এখানে কী নেই। নির্মল বাতাস রয়েছে। হিজল-করচ গাছ রয়েছে। পাখি বাড়ি রয়েছে। এগুলো হাওরের সৌন্দর্যকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এখানে ঘুরতে এসে অন্যরকম ভালো লাগছে। আমরা সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘোরাঘুরি করছি।
স্থানীয় এক নৌকা চালক বলেন, আমরা বর্ষাকালের জন্য অপেক্ষায় থাকি। এসময় মানুষজন হাওর ঘুরতে আসেন। তখন আমাদের বাড়তি আয়-রোজগার হয়। এই সময়ে প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা আয়-রোজগার করা যায়।
বন বিভাগের হাকালুকি বিটের দায়িত্বে থাকা জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, ঈদের আগে প্রতিদিন দুই থেকে তিন’শ মানুষ আসতেন। ঈদের দিন থেকে প্রতিদিন এখানে প্রায় ৫ হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটছে। এখানে জনবল সংকট। একা মানুষজনের নিরাপত্তা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিত খেতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি আরও কয়েকজন লোক এখানে দিতো তাহলে ভালো হতো।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধে আলোকিত হয়ে বর্তমান প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে :: দানবীর ড. রাগীব আলী
  • সিলেটের আদালতে নিষ্পত্তি হওয়া ১০১টি মামলার আলামত ধ্বংস
  • মোগলাবাজারে আস্ক ইউর লোকাল পুলিশ শীর্ষক কর্মশালা
  • চুনারুঘাটে সেতু প্রতিরক্ষা বাঁধ ও বাড়িঘর হুমখীর  মুখে
  • নবীগঞ্জে কৃষক মোতচ্ছির হত্যা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন
  • অধিক মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীর জরিমানা
  • দক্ষিণ সুরমায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
  • সুনামগঞ্জে হাওর থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
  • দোয়ারায় সাজাপ্রাপ্ত ২ আসামি গ্রেফতার
  • মাধবপুরে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
  • সিলেট গ্যাস ফিল্ডস থেকে পেট্রোল সরবরাহ না করলে কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে ওনার্স এসোসিয়েশন
  • বালাগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাদরাসা ছাত্রের মৃত্যু
  • শত কোটি টাকা ব্যয়ে গভীর নলকূপ ও স্যানেটারি ল্যাট্রিন পাচ্ছেন দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুরবাসী
  • জার্মানিতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ
  • শিক্ষক সমাজের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক
  • ২০ বছর পর জগন্নাথপুর উপজেলা ছাত্রদলের কমিটি নিয়ে তোড়জোড়
  • টাঙ্গুয়ার হাওরে নৌ পুলিশের স্টেশন স্থাপন হচ্ছে
  • ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চলের মৃত্যুবার্ষিকী আজ
  • সিলেটে ৪ লাখ ৬১ হাজার ৫ শ’ ১৭ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে
  • প্রেসক্লাবের নয়া কমিটি গঠন
  • Image

    Developed by:Sparkle IT