উপ সম্পাদকীয়

জীববৈচিত্র এবং মনুষ্য সমাজ

পিযুষ চক্রবর্তী প্রকাশিত হয়েছে: ০৮-০৮-২০২০ ইং ০৪:৩৬:৫০ | সংবাদটি ৮৬ বার পঠিত
Image

সৃষ্টির লক্ষ কোটি বছরে মানুষ জীব-জন্তু কীট পতঙ্গ সব প্রজাতিই প্রকৃতির ফলজ ও বনজ সম্পদের উপর নির্ভর করে বাঁচার কাজটি করে আসছে। প্রয়োজনের তাগিদেই মানুষ নানামুখী উন্নত সভ্যতার কথা ভেবেছে।
মানুষ কর্মে-উন্নয়নে অন্যান্য জীব থেকে ব্যতিক্রম এবং প্রকৃতিকে জয় করে এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের বাঁচা-বাড়ার তাগিদেই প্রকৃতিকে কাজে লাগাচ্ছে। মানুষ প্রাকৃতিক ও সামাজিক জীব। এই প্রকৃতির মধ্যে অসংখ্য জীব-বৈচিত্রের বাস। শুধু মানুষ বাঁচবে আর অন্যান্য জীব-বৈচিত্র বাঁচবে না তা হতে পারে না। মানুষের প্রয়োজনেই অন্যান্য জীব-বৈচিত্র রক্ষা করতে হবে এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্যে আঘাত আসে এমন কাজ থেকে মানুষকে বিরত থাকতে হবে। স্বার্থান্বেষী ও শিল্প উন্নত দেশগুলো প্রকৃতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে নানা উপায়ে এবং জীব বৈচিত্রের ক্ষতি করছে। উন্নত রাষ্ট্রগুলো প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্রের ক্ষতি সাধন করেই চলেছে। কলকারখানা, ইটভাটা জলাশয় ভরাট, বন উজাড়, রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার পাহাড় টিলা নিধন হরহামেশাই হচ্ছে।
বিশেষ করে আধিপত্য বিস্তারের নামে সবল দেশগুলো দুর্বল দেশের উপর বোমা মারছে। এতে বায়ু দূষণ, শব্দদূষণ, পানি দূষণ ও মাটি দূষণ হচ্ছে। এছাড়া মানুষ সহ অন্যান্য জীববৈচিত্র যেমন- পশু পাখি জীবজন্তু ধ্বংস হচ্ছে। বাতাসে কার্বন মনোক্সাইড বাড়ছে, কলকারখানার বর্জ্য দ্বারা পানি দূষণ এবং খাদ্যশস্য উৎপাদনে মাটিতে রাসায়নিক সার ব্যবহার হচ্ছে যা মানব দেহের জন্য ক্ষতি এমনকি মাটির উর্বরাশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। বাড়ছে যানবাহন, কমছে ও উজাড় হচ্ছে বৃক্ষরাজি।
এই বিশ্বব্রহ্মা-ে শুধু মানুষ থাকবে, আর অন্য জীবজন্তু ও বৃক্ষরাজি উজাড় হয়ে যাবে, তা কি করে হয়। প্রকৃতি ও জীব বৈচিত্রের মধ্যেই মানুষের রয়েছে টিকে থাকার অভয়। মানুষ জ্ঞান ও বুদ্ধির বলে প্রকৃতি থেকে উপাদান নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা ও গবেষণা করে বিশেষ জ্ঞান অর্থাৎ বিজ্ঞান ভিত্তিক কৃত্রিমতা সৃষ্টি করে। কৃত্রিমতা ও প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে মানুষ সমুদ্র বিজয় থেকে শুরু করে বিভিন্ন গ্রহে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে এটা চাট্টিকানি কথা নয়।
কথায় আছে বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ কেড়ে নিয়েছে আবেগ। হ্যাঁ আবেগ বিবেক নীতি নৈতিকতা ছাড়া মানবের কল্যাণ আশা করা যায় না। মানবজীবনে অন্ধ আবেগ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তির কুফল কোনটাই প্রকৃতি জীব বৈচিত্র ও মানবসমাজে শুভপ্রদ নয়।
মানবতা বিহীন মূল্যবোধ যেমন আশা করা যায় না তেমনি যন্ত্র বিহীন নতুন নতুন আবিষ্কারও সম্ভব নয়। তাই বলে কি মানুষ উন্নতির নামে যন্ত্র-অর্থ ও ইট বালুর প্রেমে মত্ত্ব হয়ে ওঠবে? মা-মাটি ও মানুষকে ভালবাসতে হবে, ভালবাসতে হবে প্রকৃতি জীববৈচিত্রের ক্রমধারাবাহিকতাকে। মূল ও মৌলিকতাকে এড়িয়ে মানবের বংশগতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুন্দর আবাস ও শান্তির নীড় দেওয়া যাবে না।
বিশ্বের সবকটি দেশের মনুষ্য জাতিকে এখনই ভাবতে হবে প্রকৃতির রাজ্যের বনজ সম্পদ, জলজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ এবং জীববৈচিত্র নিয়ে। বৈশ্বিক ক্ষতিকর প্রভাবে আমাদের বাংলাদেশেও কিছু কিছু পরিবর্তন পরিলক্ষিত প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত উপায়ে। অসময়ে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস বেপরোয়া বজ্রপাত, বাতাসে সীসার পরিমাণ বৃদ্ধি, জলীয় তাপ বৃদ্ধি, নাতিশীতোষ্ণ ও ষড়ঋতুর পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, বন্যা, খরা প্রভৃতি অনাকাক্সিক্ষত উপায়ে ও সময়ে অসময়ে হচ্ছে।
স্বাধীনতা উত্তর দেশমাতৃকা-বঙ্গজননী বাংলাদেশের প্রকৃতি জীববৈচিত্র ও মানবসমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভাবনায় সবাই যেন সচেতন হয়ে উঠি। নির্মল বায়ু, রক্ষার জন্য অপরিকল্পিত ও বায়ু দূষণকারী শিল্প প্রতিষ্ঠান যেন না গড়ে ওঠে এমনকি যেগুলো বর্তমানে চালু আছে সেগুলো যেন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শব্দ দূষণ ঘটায় এমন যানবাহন ও মিল-কারখানা এগুলো যেন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। মুক্ত পানি ও পানির মৎস্য সম্পদ রক্ষায় যেন দেশের সবকটি নদী খনন করা হয় এমনকি শিল্প প্রতিষ্ঠানের দূষিত বর্জ্য যেন ফেলা হয় না নদীতে।
দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যমন্ডিত বন মেনগ্রোভ সুন্দরবন ও পশু পাখি জীব-বৈচিত্র সহ জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। পার্বত্য অঞ্চলের বন বনানী ও পাহাড় টিলা ধ্বংস করা যাবে না। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষাসহ রূপসী বাংলার সৌন্দর্য্যরে রূপ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রক্ষা করতে হবে। খ-িত ও অখ-িত উপায়ে মানুষ সমাজবদ্ধ জীব তাই মানুষের কল্যাণে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের সুরক্ষিত দিকগুলো নিয়ে মানুষকেই ভাবতে হবে। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠত্বে মানুষের রয়েছে অপার মহিমা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, জাতি তথা দেশপ্রেমেও বিশ্ব মানবতায় মানুষকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
লেখক : কলামিস্ট।

 

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির নব্য রূপকার
  • স্মরণ:ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল
  • কোভিড-১৯ এর সম্মুখ সমরে লড়ছে জিন প্রকৌশলীরা
  • মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব
  • বৃদ্বাশ্রম
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • সত্য যখন উক্তি হয়ে ফিরে আসে
  • প্রসঙ্গ : মহামারিতে ধৈর্য ধারণ
  • মা-বাবার সাথে থাকি
  • নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে কিছু কথা
  • মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  • বাউল সম্রাট ও গ্রামীণ সংস্কৃতি
  • সমাজসেবা ও দেশপ্রেম
  • ক্ষণজন্মা সৈয়দ মহসীন আলী
  • শিক্ষার সাথে চরিত্র গঠনও প্রয়োজন
  • জাতীয় প্রবীণ নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
  • ম. আ. মুক্তাদির : বিপ্লবীর স্বপ্নের দেশ
  • স্মরণ: শেখ তজমুল আলী চেয়ারম্যান
  • করোনাকালে সঙ্কটে প্রবাসীরা
  • Image

    Developed by:Sparkle IT