উপ সম্পাদকীয় আদর্শ হচ্ছে এমন এক প্রহরী, যা মানুষকে সৎ পথে চলতে শেখায়। -স্পেন্সার

‘সিসা বিষে’ আক্রান্ত শিশু

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৮-২০২০ ইং ০৪:০৪:১৫ | সংবাদটি ৮৪ বার পঠিত
Image

‘সিসা বিষে’ আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বাংলাদেশের তিন কোটি ৫৫ লাখ শিশুর রক্তে বিপজ্জনক মাত্রায় সিসা রয়েছে। এসিড ব্যাটারির পুনর্ব্যবহারের ফলে এই সিসা বিষ ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের দেহে। এই সিসার বিষক্রিয়া শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশে বাধাগ্রস্ত করে। তাছাড়া সিসা একটি শক্তিশালী নিউরোটক্সিন; যা শিশুদের মস্তিষ্কে অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করে। তাই এটি শিশুদের জন্য একটি ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ। শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ শিশুই সিসা বিষে আক্রান্ত। যে সংখ্যাটি ৮০ কোটির ওপরে। আর এদের অর্ধেকেরই বসবাস দক্ষিণ এশিয়ায়। সিসার বিষক্রিয়ায় বিশ্বে ক্ষতিগ্রস্ত শিশুর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।
রক্তে সিসার মাত্রা কমিয়ে আনার জন্য ইউনিসেফ সিসা এসিড ব্যাটারির পুনর্ব্যবহার বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, সিসা শিশু ও প্রাপ্ত বয়স্ক উভয়ের জন্যই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। সিসার বিষক্রিয়ায় বিশ্বে যেসব দেশে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, সেই দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ এবং জনসংখ্যার প্রত্যেকের রক্তে সিসার উপস্থিতির গড় হারের দিক থেকে বিশ্বে একাদশ। আরও ভয়াবহ তথ্য হচ্ছে বাংলাদেশে মসলায় উচ্চ মাত্রায় সিসার উপস্থিতি রয়েছে। রং চকচকে করার জন্য এবং ওজন বাড়ানোর জন্য হলুদে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘লেড ক্রোমেট’ নামক পদার্থ। যা শিশু এবং প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে সিসার মাত্রা বৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। গবেষণায় কিছু কিছু পণ্যে সিসার উপস্থিতি অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে পাঁচশ’ গুণ পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে। সিসা ছোট বড় সবারই আইকিউ (বুদ্ধিমান) হ্রাস করে থাকে। শিশুদের পরিপূর্ণ বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সিসা ধংসাত্মক পরিণতি ডেকে আনে। কারণ এটি মস্তিষ্ক বিকশিত হতে বাধা প্রদান করে। ফলে সারাজীবনের জন্য শিশুরা স্নায়বিক, মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। এটি আচরণগত সমস্যা, অপরাধ ও সহিংসতা বৃদ্ধির সঙ্গেও সম্পর্কিত।
‘সিসা বিষ’ জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি বয়ে আনছে। আর এর প্রধান উৎস হচ্ছে এসিড ব্যাটারি। যানবাহনের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় সিসা এসিড ব্যাটারির ব্যবহারও বেড়ে চলেছে। ইতোপূর্বে এই সিসা এসিড ব্যাটারির পূনর্ব্যবহার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ। আর কেবল এসিড ব্যাটারি ই নয়, আরও অনেক উপাদান থেকেও সিসা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে; যা পর্যায়ক্রমে মানবদেহে প্রবেশ করছে। মানবদেহে বিশোষিত সিসার ৫০ ভাগের জন্যই দায়ী মোটর গাড়ি নির্গত ধোঁয়া। সর্বোপরি রাস্তার খোলা খাবার হচ্ছে বিষাক্ত সিসার ভাণ্ডার। মানবদেহে নীরবে নিভৃতে সংক্রমিত হচ্ছে যে সিসা, তা থেকে বাঁচতে হলে এর উৎস বন্ধ করতে হবে। সর্বোপরি এ জন্য চাই সর্বমহলের সচেতনতা।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

উপ সম্পাদকীয় এর আরো সংবাদ
  • বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য
  • আল্লামা আহমদ শফী চলে গেলেন
  • কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির নব্য রূপকার
  • স্মরণ:ডা. দেওয়ান নূরুল হোসেন চঞ্চল
  • কোভিড-১৯ এর সম্মুখ সমরে লড়ছে জিন প্রকৌশলীরা
  • মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তুরস্কের প্রভাব
  • বৃদ্বাশ্রম
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • পুষ্টি-অপুষ্টি প্রসঙ্গ
  • সত্য যখন উক্তি হয়ে ফিরে আসে
  • প্রসঙ্গ : মহামারিতে ধৈর্য ধারণ
  • মা-বাবার সাথে থাকি
  • নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে কিছু কথা
  • মাওলানা আবুল কালাম আজাদ
  • বাউল সম্রাট ও গ্রামীণ সংস্কৃতি
  • সমাজসেবা ও দেশপ্রেম
  • ক্ষণজন্মা সৈয়দ মহসীন আলী
  • শিক্ষার সাথে চরিত্র গঠনও প্রয়োজন
  • জাতীয় প্রবীণ নীতিমালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
  • ম. আ. মুক্তাদির : বিপ্লবীর স্বপ্নের দেশ
  • Image

    Developed by:Sparkle IT