সম্পাদকীয় লজ্জাজনক কাজের জন্য অনুতাপ করা জীবনের পরিত্রাণ স্বরূপ। -ডেমোক্রিটাস

মানসম্মত পাঠ্যবই

প্রকাশিত হয়েছে: ১৪-০৮-২০২০ ইং ০৮:৩৫:১০ | সংবাদটি ৮০ বার পঠিত
Image

শিক্ষার্থীরা মানসম্মত বই পাবে না আগামী শিক্ষাবর্ষে। এই রকম একটি আশংকা ইতোমধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে অভিভাবক মহলে। যে অভিযোগটি প্রতি বছরই উত্থাপিত হয়, এবার সেটি আরও কিছুটা জোরালো হয়েছে। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, করোনাভাইরাসের ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পাঠ্যবই মুদ্রণের ক্ষেত্রে। গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ৩৫ শতাংশ কম দামে এসব বই ছাপা হবে। জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়েও গড়ে ৪২ শতাংশ কম দামে বই ছাপা হচ্ছে। এতে কমপক্ষে তিনশ’ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে সরকারের। তবে এতে বইয়ের মানের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশংকা তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে নি¤œমানের কাগজ, কালি ব্যবহার এবং বাঁধাই হতে পারে। অস্বাস্থ্যকর কাগজ-কালিতে ছাপা বই হাতে গেলে শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ার চার মাসের বেশি সময় বাকি। এই সময়ে চলছে বই ছাপানোর কাজ। বছরের প্রথম দিনই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছবে সরকারের দেয়া বিনামূল্যের বই। এবারও চলছে সেই প্রস্তুতি। তবে প্রতি বছরই বইয়ের মানের ব্যাপারে কমবেশ অভিযোগ ওঠেছে। এবারও অভিযোগের বাইরে নয়; বরং অন্য বছরের তুলনায় বেশি। মুদ্রকরা এবার গত বছরের চেয়ে ৩৫ শতাংশ কম দামে বই ছাপানোর প্রস্তাব করেছে। ফলে বইয়ের দাম এনসিটিবি প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে ৪২ শতাংশ কম পড়বে। সরকারের এখানে সাশ্রয় হবে তিনশ’ কোটি টাকা। আর এই সুযোগে প্রকাশকরা নি¤œমানের কাগজ কালি ও বাঁধাই সামগ্রী ব্যবহার করবে। বিশেষজ্ঞদের মতে নি¤œমানের অস্বাস্থ্যকর কাগজ কালিতে ছাপা বই হাতে পেলে শিশুরা স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়বে। জানা গেছে, নানা কারণে এবার কাগজের দাম কম পড়েছে এবং এ বছর মুদ্রকদের মধ্যে কোন সি-িকেট হয়নি। এই কারণেই এবার পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের ব্যয় কমে এসেছে। সেটা মেনে নেয়া গেলো। কিন্তু মুদ্রকদের মধ্যে অতি মুনাফা লাভের মানসিকতা যে একেবারেই লোপ পেয়ে গেছে সেটা বিশ্বাস করা যায় কীভাবে? কারণ ইতোপূর্বে দেখা গেছে, মুদ্রকদের অতিরিক্ত মুনাফার লোভের আগুনে বইয়ের গোদাম পর্যন্ত পুড়ে ছাঁই হয়েছে। তাছাড়া, প্রতি বছর যে বই হাতে পাচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা সেটাও যথাযথ মানসম্পন্ন নয়।
আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক স্তর থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য প্রায় ৩৫ কোটি বই ছাপানো হবে। মুদ্রকরা কম দামে বই ছাপানোর কথা বলছে। তাদের এই প্রতিশ্রুতির ভেতরে কোন কারসাজি লুকিয়ে আছে কিনা সেটা দেখতে হবে। আসল কথা হলো, মানসম্পন্ন বই ছাপা নিশ্চিত করা। আর সেটা করতে হলে দরকার যথাযথ তদারকি। অবশ্য সরকারের যে লোকজন বই ছাপার কাজটি মনিটরিং করবে, তারা নিজেরাই যদি কোন স্বার্থের বিনিময়ে সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করেন, তাহলে তো আর কিছু করার থাকে না। আমরা চাই এই ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি উদ্ভব হবে না।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT