সম্পাদকীয় বড় হতে হলে সর্বাগ্রে সময়ের মূল্য দিতে হবে। -ডিকেন্স

গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬-০৯-২০২০ ইং ০২:৫২:০০ | সংবাদটি ১১৫ বার পঠিত
Image

করোনার থাবায় বিধ্বস্থ দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে আবারও গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল করার বিষয়টি সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, বর্তমান সময়ে গ্রামীণ অর্থ প্রবাহ আরও গতিশীল করা জরুরী। এতে গোটা দেশের অর্থনীতিই প্রাণ ফিরে পাবে। ঐতিহাসিক বিবেচনায় এটা বলতেই হয় যে, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি দারিদ্র্য বিমোচনে বিরাট ভূমিকা রেখেছে। যেমন খাদ্যশস্য উৎপাদনে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, কিংবা মৎস্য উৎপাদন, পোল্ট্রি ও গোবাদি পশু পালনে উন্নতি সাধিত হয়েছে। সেটা না হলে দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর খাদ্য সংস্থান কঠিন হয়ে পড়তো। আর এই সাফল্যের জন্য কৃতিত্ব রয়েছে কৃষি প্রযুক্তিবিদ, গবেষক, বিশেষজ্ঞ তথা কৃষকদের। অর্থাৎ আমাদের সার্বিক অর্থনীতি সমৃদ্ধ করতে মূল অবদান রাখছে গ্রাম।
বৈশ্বিক মহামারি করোনায় কাবু হয়ে পড়েছে গত ছয় মাস ধরে এই দেশ। ইতোপূর্বে সেসব জাতীয় সমস্যা বিরাজ করছিলো এখানে করোনা আসার পর সেগুলো আরও প্রকট হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দারিদ্র্য বিমোচনে এসেছে ধীর গতি, কর্মসংস্থানে এসেছে স্থবিরতা; সর্বোপরি উচ্চ প্রবৃদ্ধির সুফল পাচ্ছে না দরিদ্র্য মানুষগুলো। এক্ষেত্রে গ্রামের লোকজনই বেশি বঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া করোনার ছোবলে বেসরকারি খাতে চাকরি হারিয়ে, ব্যবসা হারিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে গেছে। চাকরি হারিয়ে বিদেশ থেকেও আসছেন প্রচুর মানুষ। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বেড়েছে চাপ। জরিপের তথ্য হচ্ছে করোনার কারণে ১৩ শতাংশ লোক নতুন করে দরিদ্রে পরিণত হয়েছে। এই বাইরে একটা বিশাল জনগোষ্ঠী বেকার রয়েছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বা বেকারত্ব নিরসনে রয়েছে সরকারের নানা উদ্যোগ। কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত নয়। আর তাতেও রয়েছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি। যেমন করোনাকালীন বিশেষ সহায়তাসহ সামাজিক নিরাপত্তামূলক বিভিন্ন কর্মসূচীতে বরাদ্দ অর্থ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে, দুর্নীতি হচ্ছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীরা সুফল ভোগ করতে পারছে না। তাছাড়া এইসব সহায়তা প্রদান কর্মসূচী দীর্ঘস্থায়ীও করা সম্ভব নয়। সুতরাং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
গ্রাম নির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রথমে কৃষি উৎপাদনের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। সরকার বলছে, এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখা যাবে না। সেটাই বাস্তবায়ন করতে হবে। সেইসঙ্গে রয়েছে কৃষিপণ্যের সুষ্ঠু বিপণন। কৃষি পণ্য প্রক্রিয়াকরণের দিকেও জোর দিতে হবে। আর সেটা সম্ভব হলে কর্মসংস্থানও বাড়বে। গ্রামীণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দিকে জোর দিতে হবে। বিশেষ করে রেস্টুরেন্ট, বিউটিপার্লার, লন্ড্রি প্রভৃতি অত্যাবশ্যকীয় নাগরিক চাহিদা সম্পন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গ্রামেও গড়ে তোলা দরকার। ছোটখাটো জিমনেসিয়ামও গড়ে তোলা দরকার গ্রামে। জোর দিতে হবে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতির দিকে। সর্বোপরি গ্রামীণ অর্থনীতি গতিশীল করতে চাই শাসনব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণ; বাড়াতে হবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা।

 

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT