সম্পাদকীয় দুষ্ট লোকেরা তাদের তৈরি নরকেই বাস করে। -টমাস ফুলার

পানি সমস্যা বিশ্বব্যাপী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭-০৯-২০২০ ইং ০২:৩১:২৬ | সংবাদটি ৯৬ বার পঠিত
Image

বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে চারদিকে। এতো পানি; তবু পানির অভাব। অভাব বিশুদ্ধ পানির। পানির আরেক নাম জীবন, তবে সেটা হতে হবে বিশুদ্ধ পানি। চারপাশে এতো এতো পানির মধ্যে মানুষের জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য্য সেই বিশুদ্ধ পানির বড়ই অভাব আজকাল। শুধু আজ কিংবা কাল নয়, বিশুদ্ধ পানির অভাব আগামীতে প্রকট আকার ধারণ করবে। প্রকৃতির এক অমূল্য সম্পদ এই পানি সুদূর অতীত থেকে মানব সভ্যতার বড় বড় চ্যালেঞ্জের সঙ্গে জড়িত। পরিবেশ সংরক্ষণ, জীবিকার উন্নয়ন, সর্বোপরি জীবনের প্রয়োজনে পানির অপরিহার্য্যতা বলে শেষ করা যাবে না। অথচ এতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ পানিই মানুষের বিপদ ও নিরাপত্তাহীনতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে, একুশ শতকের শুরুতে এসে বিশ্বব্যাপী পানি সমস্যার কারণে হুমকিতে রয়েছে মানব উন্নয়নের ভবিষ্যৎ।
বর্তমান বিশ্বে পানি সমস্যা এতোটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, এজন্য এখন আর একটি বা দুটি দেশ নয়, পুরো পৃথিবীই অস্থির হয়ে ওঠেছে। এশিয়ার পূর্ব প্রান্ত থেকে শুরু করে সাউথ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকা আজ পানি নিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি। আবার পানি নিয়ে বিশ্বব্যাপী আন্তঃসীমান্ত সমস্যাও প্রকট হচ্ছে দিন দিন। এরই জের ধরে অতীতে বড় বড় দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে। কারণ বিশ্বের সবাই পানির ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব রাখতে চায়। আর তাই বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পৃথিবীতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন। আর এই যুদ্ধের ইস্যু হতে পারে পানি। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পানির বর্তমান কিংবা ভবিষ্যৎ কী, সেটা দেখা দরকার। এখানে পানি সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির প্রধান উৎস ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক নামক ‘বিষ’ ধরা পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে মহাবিপর্যয়। দেশের কমপক্ষে আট কোটি মানুষ রয়েছে আর্সেনিক ঝুঁকিতে। দেশের ৬১টি জেলায় আট লাখ ৫৭ হাজার নলকূপের পানিতে ধরা পড়েছে আর্সেনিক। নলকূপের পানিতে আর্সেনিক ধরা পড়ায় দুই দশক পরেও পানিকে আর্সেনিকমুক্ত করার কোন উপায় বের হয়নি। এই আর্সেনিক দূষণের পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার সমস্যাও দিন দিন বাড়ছে। অপরদিকে ভূপৃষ্ঠের পানিও ব্যবহার উপযোগী নয়। অর্থাৎ পুকুর-ডোবা, নদী-নালায়, হাওর বিলের পানি বিশুদ্ধ করে ব্যবহার করার প্রবণতা নেই এ দেশে।
বিশ্বের মোট তিন ভাগ পানি আর এক ভাগ স্থল হলেও ব্যবহার উপযোগী পানির পরিমাপ শুধু কম। পৃথিবীর তিন ভাগ পানির মধ্যে ৯৭ ভাগই হচ্ছে সাগরের লবণাক্ত পানি। দুই ভাগ রয়েছে বরফ আকারে। উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বরফও গলতে শুরু করেছে। বরফ গলা পানি সাগরে মিশে যাওয়ায় সাগরের পানির উচ্চতা বাড়ছে। যে কারণে হুমকির মধ্যে রয়েছে দ্বীপাঞ্চল ও নিচু দেশগুলো। বাংলাদেশও এই হুমকির বাইরে নয়। বিশ্বের পানির ৯৭ ভাগ সাগরের লবণাক্ত পানি আর দুই ভাগ সাগরের পানি বাদ দিয়ে মাত্র এক ভাগ পানি রয়েছে বিশ্বের সব মানুষের ব্যবহারের জন্য। এই পানিটুকুই ব্যবহার উপযোগী রাখা হচ্ছে না। মূলত পানির ব্যবহার সম্পর্কে যথাযথ জ্ঞানের স্বল্পতা এবং পানি ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অদূরদর্শীতার জন্য এই পানি আমাদের হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। শুধু বাংলাদেশ নয়, সারা বিশ্বকে এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মেধাদীপ্ত উদ্যোগ সবচেয়ে জরুরি। এক্ষেত্রে বিশ্বনেতাদের নিজ নিজ দেশে গুড গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে সংকট থেকে উত্তরণের পথ বের করতে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞগণ।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT