সম্পাদকীয় সকল মৃত্যুর মধ্যে শহীদের মৃত্যুই সর্বাপেক্ষা উত্তম। -আল কুরআন

ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯-০৯-২০২০ ইং ০১:৫৫:১৩ | সংবাদটি ৯৩ বার পঠিত
Image

ভারতে বাংলাদেশী পণ্যের বিশাল বাজার। প্রতিনিয়ত বাড়ছে সেখানে বাংলাদেশী পণ্যের চাহিদা। অথচ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ত্রিপুরার বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের দারুণ চাহিদা। কিন্তু সে অনুযায়ী পণ্যের সরবরাহ হচ্ছে না। সেই সঙ্গে রয়েছে রাষ্ট্রতান্ত্রিক আইনকানুন এবং জটিল নীতি। যে কারণে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশ অবৈধ বাণিজ্যেরও নিরসন হচ্ছে না। বিশ্ব ব্যাংকের হিসাবে ভারত-বাংলাদেশ অবৈধ বাণিজ্য বছরে ৯০ কোটি ডলার। যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈধ বাণিজ্যের চেয়ে অবৈধ বাণিজ্যই বেশি বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
ভারত বাংলাদেশের প্রতিবেশী রাষ্ট্র। দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাস খুবই পুরনো। তবে সেই বাণিজ্য বৈধ পথে যেমন হচ্ছে, তেমনি হচ্ছে অবৈধ পথেও। আর এই অবৈধ বাণিজ্য নিয়েই যতো চিন্তা। দু’দেশের মধ্যে চার হাজার কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবৈধ পণ্যের যাতায়াত হয়। বাণিজ্যের বেশির ভাগ হয় বন্দরের বাইরে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন রুট দিয়ে। চোরাই পথে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ৫০ কোটি ডলার। আর বাকি ৫০ কোটি ডলারের অবৈধ বাণিজ্য হয় বন্দরের বাইরের বৈধ চ্যানেল ব্যবহার করেই। বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানী করে- খাদ্যশস্য, তুলা, কাপড়, জ্বালানী তেল, গাড়ি, প্লাস্টিক ও রাবার পণ্য, ইলেকট্রনিক্স পণ্য ইত্যাদি। এসব পণ্যের একটা অংশ আসে বৈধ পথে। আর এর আড়ালে বিপুল পরিমাণ পণ্য শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসে অবৈধ পথে। আর অবৈধ রুটে ঢোকে গরু, চিনি, শাড়ি ইত্যাদি। আর অবৈধভাবে আসা পণ্যের দাম পরিশোধে বাংলাদেশ থেকে যায় স্বর্ণ, রৌপ্য, বিদেশী মুদ্রা। অথচ বৈধ পথেই দু’দেশের মধ্যেকার বাণিজ্যের পরিধি সম্প্রসারণ করা সম্ভব। ভারতের ত্রিপুরা সহ আশপাশের সাতটি রাজ্যে বাংলাদেশী পণ্যের বাজার বাড়ছে। এইসব বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের ব্যাপক চাহিদা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দু’দেশের মধ্যে অবৈধ বাণিজ্য কমিয়ে আনতে সবার আগে দরকার শুল্কের বাধা কমিয়ে আনা। সেই সঙ্গে দু’দেশেরই উচিত তাদের স্থল বন্দরের সেবার মান উন্নত করা। কাস্টমস ও বন্দর প্রশাসনের সেবার মান উন্নত করার ওপর জোর দিতে হবে। সর্বোপরি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাংলাদেশের যেসব পণ্যের চাহিদা রয়েছে সেগুলো যাতে পর্যাপ্ত সরবরাহ করা হয় সেদিকে নজর দিতে হবে সরকার ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে। বাংলাদেশের পণ্য প্রবেশে ভারত সরকার যে আইনগত জটিলতা তৈরি করে রেখেছে তা নিরসনে বাংলাদেশ সরকারের কুটনৈতিক তৎপরতা জরুরী।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT