সম্পাদকীয় আদর্শ হচ্ছে এমন এক প্রহরী যা মানুষকে সৎ পথে চলতে শেখায়। -স্পেন্সর

তামাকে মৃত্যু ১২ লাখ

প্রকাশিত হয়েছে: ১২-০৯-২০২০ ইং ০৭:৪৮:৫২ | সংবাদটি ৫৫ বার পঠিত
Image

তামাকে বছরে মৃত্যু হচ্ছে ১২ লাখ মানুষের। ৫০ লাখ মানুষ তামাকজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতি বছর। এই সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। অপরদিকে তামাক চাষের কোন নীতিমালা না থাকায় তামাক চাষ বাড়ছে আগ্রাসীর মতো। এতে; খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও প্রতিবেশ সরাসরি হুমকির মধ্যে পড়েছে। অথচ সরকার জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে তামাক জাতীয় পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন প্রণয়ন করেছে। এছাড়া, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তামাকের ব্যাপকতা হ্রাস ও খাদ্য নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। প্রধানমন্ত্রী ২০৪০ সালের মধ্যে দেশ থেকে তামাকের ব্যবহার পাঁচ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। তারপরেও দেশে তামাকের ব্যবহার বাড়ছে আশংকাজনকভাবে।
তামাক পণ্যের ব্যবহার বন্ধে সরকার নানা ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। তারপরেও এর ব্যবহার কমছে না; বরং বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ সমাজের মধ্যে এই হার বাড়ছে। জানা গেছে তামাক কোম্পানীগুলো নানা প্রলোভনে টিনএজারদের অর্থাৎ তেরো থেকে ১৯ বছরের তরুণদের তামাক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করছে। বিশেষ করে সিগারেট-বিড়ি পানে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে নতুন প্রজন্মের ছেলেদের। তাদের লক্ষ এই বয়সীদের সিগারেট ধরানো গেলে পরবর্তী ৩০ বছর তারা নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারবে। কারণ সিগারেটের নিকোটিন একবার নেশা ধরিয়ে দিলে তার রেশ অন্তত ত্রিশ বছর থাকে। এই মিশনে তামাক কোম্পানীগুলো সফলও হয়েছে। অপরদিকে দেশে তামাক চাষের ব্যাপ্তিও বাড়ছে ভয়াবহভাবে। কোন নীতিমালা না থাকায় বহুজাতিক ও দেশীয় কোম্পানীগুলো কৃষকদের আগাম অর্থ দিয়ে ফসলি জমিতে তামাক চাষে প্রলুব্ধ করছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে এক লাখ মেট্রিকটনের বেশি তামাক উৎপাদিত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের মতে, ভূমিতে একবার তামাক চাষ হলে তার প্রভাব পড়ে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর। এতে জমির উর্বরতাও নষ্ট হয়। অথচ বর্তমানে যে পরিমাণ জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে তাতে ধানের আবাদ করলে বছরে বাড়তি অন্তত পাঁচ লাখ মেট্রিকটন চাল উৎপাদিত হবে।
তামাকের আগ্রাসন বন্ধে দরকার সরকারের কঠোর অবস্থান গ্রহণ। তামাক কোম্পানীগুলো যাতে কৌশলে টিনএজারদের সিগারেট বিড়ির প্রতি আকৃষ্ট করতে না পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। বন্ধ করতে হবে ফসলি জমিতে তামাক চাষ। এটা ঠিক যে, সরকার চাইলে তামাক কোম্পানীগুলোর এই আগ্রাসন বন্ধ করতে পারে। তাছাড়া, ধূমপানের বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারের আইন। আইনে প্রকাশ্যে জনসমাগম স্থানে ধূমপানে জরিমানার বিধানও রয়েছে। কিন্তু এই আইনের প্রয়োগ নেই বললেই চলে।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT