সম্পাদকীয় চিন্তা ও কল্পনা উভয়ই সভ্যতার গোপন শক্তি। চিন্তা হচ্ছে বিশ্বাসের দৃষ্টি। -হেনরি ওয়ার্ড বিচার

ডেইরি শিল্পের উন্নয়ন

প্রকাশিত হয়েছে: ১৩-০৯-২০২০ ইং ০১:৪২:১১ | সংবাদটি ৪১ বার পঠিত
Image

দুধ ও মাংসে পিছিয়ে বাংলাদেশ। বাড়ছে দাম, কমছে উৎপাদন। চাল এখন আর আমদানী করতে হয় না, বরং রপ্তানি করা সম্ভব। আলু, বিভিন্ন ধরনের সবজি, ভুট্টা ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে বাংলাদেশের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। মাছ উৎপাদনেও বাংলাদেশের অবস্থান সারা বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানে। ডিম ও মুরগি চাহিদার চেয়ে বেশি উৎপাদিত হচ্ছে। কিন্তু দুধ ও গরুর মাংস উৎপাদনে এখনও অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। এই অবস্থায় দেশে একটি ডেইরি নীতিমালা প্রণয়ম করে সেই অনুযায়ী ডেইরি উন্নয়নে পদক্ষেপ নিতে হবে।
গত দুই দশকে দেশে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে দশগুণের বেশি। দুধের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় একই হারে। এখন বাজারে মাংসের কেজি ছয়শ’ টাকার কাছাকাছি। আর তা অব্যাহতভাবে বাড়ছে। এর কারণ হচ্ছে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ কম। অর্থাৎ গবাদি পশুর উৎপাদন কমছে। যা খুবই দুঃখজনক। গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরেই গবাদিপশু লালন পালনের একটা রেওয়াজ প্রচলিত ছিলো অতীতে। এটা বাঙালি গৃহস্থ ঘরের একটা ঐতিহ্য। কিন্তুু সেটা এখন হারিয়ে গেছে। মানুষ আর আগের মতো এখন গরু-গাভী লালন-পালন করে না। এতে কমছে প্রাণিজ আমিষ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মতে, মানুষের দৈনিক ২৮ গ্রাম প্রাণিজ আমিষ গ্রহণ করা দরকার। অথচ বাংলাদেশে এখন মাথাপিছু প্রাণিজ আমিষ গ্রহণের হার দৈনিক মাত্র দুই গ্রাম। দেশে বর্তমানে ২০ শতাংশ দুধের চাহিদা মেটানো হচ্ছে দেশীয় উৎপাদন থেকে। কিন্তু এই উৎপাদনও দিনে দিনে কমছে। দেশ প্রায় শতভাগ আমদানী করা গুঁড়ো দুধের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
ডেইরি খাতের উন্নয়নে সরকারসহ জনগণকে সচেতন হতে হবে। ঘরে ঘরে গবাদিপশু লালন পালনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি নীতি সহায়তা, পোল্ট্রি বোর্ড গঠন, উন্নত জাতের ব্রিড আমদানীর মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। প্রাণীর রোগ চিকিৎসায় গ্রাম পর্যায়ে কর্মী নিয়োগ দিতে হবে। কৃষকদের ঋণ সহায়তা দিতে হবে সহজ শর্তে। সর্বোপরি সরকারের প্রাণি সম্পদ বিভাগ সক্রিয় হলে দেশে দুধ ও মাংসের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

শেয়ার করুন

Developed by:Sparkle IT