উপ সম্পাদকীয়

মাওলানা আবুল কালাম আজাদ

রফিকুর রহমান লজু প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৯-২০২০ ইং ০২:৩৮:১৭ | সংবাদটি ১০৯ বার পঠিত
Image

মাওলানা আজাদের (রহ) মূল নাম ফিরোজ বখ্ত। তাঁর জন্মের সময় এই নাম রাখা হয়। আবার ছেলেবেলায় তাঁকে মহিউদ্দিন আহমদ নামে ডাকা হতো। যে নামে তিনি বেশি পরিচিত সারা ভারত ব্যাপী সেই আবুল কালাম আজাদ তাঁর ছদ্মনাম। আবুল কালাম আজাদই আসল নামে পরিণত হয়েছে।
মাওলানা আবুল কালামের পূর্ব পুরুষেরা হেরাটের অধিবাসী। মোগল সম্রাট বাবরের আমলে তাঁর পূর্বপুরুষরা ভারতে আগমন করেন।
আজাদের পিতা ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পর মক্কায় চলে যান। ওই সময় ১৮৮৮ সালে আজাদ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা খইরুদ্দিনও মাওলানা ছিলেন। মাওলানা আজাদের জন্মের দু’বছর পর ১৮৯০ সালে তাদের পুরো পরিবার আবার কলকাতায় এসে স্থায়ী হন। আবুল কালাম আজাদ কংগ্রেসী রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন। পরে ১৯২৩ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪০ সালে পুনরায় কংগ্রেসের সভাপতি হন। তিনি একাধিক বার কারাবরণ করেন। তিনি অসাম্প্রদায়িক ও মিশ্র নির্বাচন পদ্ধতির পক্ষপাতি ছিলেন।
মাওলানা আজাদ তাঁর পিতা ও তাঁর গৃহশিক্ষকের কাছে পড়ালেখা করে প্রভূত জ্ঞান অর্জন করেন। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় তার রাজনৈতিক চেতনার উন্মেষ ঘটে এবং তিনি সার্বক্ষণিক রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ করেন।
সাংবাদিকতা তাঁর পেশা ছিলো না কিন্তু সমাজ ও দেশের মঙ্গলের জন্য তিনি সাংবাদিকতা করেছেন, পত্রিকা প্রকাশ করেছেন। তাঁর সম্পাদিত প্রথম পত্রিকা সাপ্তাহিক আল-হিলাল (১৯১২)। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের (১৯১৪) সময় পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করা হয়। তখন তিনি অন্য নামে আরেকটি উর্দু সাপ্তাহিক আল-বালাঘ প্রকাশ করেন। ১৯১৬ সালের মার্চ মাসে ভারত রক্ষা আইনে তাঁকে কলকাতা থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই সময় বোম্বাই, পাঞ্জাব, দিল্লী এবং উত্তর প্রদেশের সরকারও ওই সব অঞ্চলে তাঁর প্রবেশ নিষিদ্ধ করে। তখন তিনি বিহারে চলে যান। এ সময় ১৯২০ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁকে রাঁচীতে অন্তরীণ করে রাখা হয়।
অন্তরীণ থেকে মুক্তি লাভের পর মাওলানা আজাদ সারা ভারত খিলাফত কমিটির (কলকাতা অধিবেশন ১৯২০) এবং একতা অধিবেশনের (দিল্লী ১৯২৪) সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ ক্যাবিনেট মিশনের সঙ্গে আলোচনা চালানোর সময় কংগ্রেসের তরফ থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। পরবর্তীকালে মাওলানা আজাদ স্বাধীন ভারতের প্রথম সরকারের শিক্ষামন্ত্রী নিযুক্ত হন এবং বাকি জীবনভর এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি ১৯৫৮ সালে ৭০ বছর বয়সে এ দুনিয়া থেকে বিদায় নেন।
তিনি কয়েকটি বই লিখে গেছেন। তার মধ্যে আছে আল-বায়ান (১৯১৫) ও তার জবান-উল-কোরআন (১৯৩৩-১৯৩৬)। এছাড়া তাজকিরা (১৯১৬) তাঁর আত্মজীবনীমূলক রচনা এবং গাবর-ই-খাতির (১৯৪৩) চিঠিপত্রের সংকলন। বলা বাহুল্য, সবগুলো গ্রন্থ উর্দুতে লিখা।
তথ্য সূত্র: মাওলানা আবুল কালাম আজাদ-এর ভারত স্বাধীন হলো।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

Image

Developed by:Sparkle IT