'/> SylheterDak.com.bd
উপ সম্পাদকীয়

নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে কিছু কথা

চৌধুরী শাহেদ আকবর প্রকাশিত হয়েছে: ১৭-০৯-২০২০ ইং ০২:৩৯:৫১ | সংবাদটি ১৩০ বার পঠিত
Image

নব্যউদারপন্থী গণতন্ত্র। নাগরিকদের পরিবর্তে এটি গ্রাহক উৎপাদন করে। সম্প্রদায়ের পরিবর্তে, এটি শপিং মল উৎপাদন করে। যার নেট ফল হচ্ছে, বিচ্ছিন্ন ব্যাক্তিদের নিয়ে গঠিত একটি পরমানু সমাজ যেখানে এর সদস্যরা হতাশাগ্রস্থ থাকে এবং সামাজিকভাবে শক্তিহীন বোধ করে। এক কথায়, নব্যউদারনীতিবাদ হলো অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রেও শত্রু এবং এটি কেবলমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নয় বরং সারা পৃথিবীর জন্য একই এবং আগামী দিনগুলোতে তাই থাকবে। নব্যউদারতাবাদ নিয়ে মার্কিন বুদ্ধিজীবি নোয়াম চমস্কি (১৯৯৯)' প্রফিট অভার পিপল : নিওলিবারিলিজম এন্ড গ্লেবাল অর্ডার' বইটিতে এরকমই লিখেছিলেন। আমাদের অনেকেরই নিশ্চয়ই মনে আছে ২০১৯ সালের শেষের দিকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়ছিল। হংকং থেকে বার্সেলোনা, বাগদাদ থেকে সান্তিয়াগো, বৈরুত থেকে আদ্দিস আবাবা, পুয়ের্তোরিকো থেকে হাইতি ও ইকুয়েডর সব জায়গায় হয়েছিল এই বিক্ষোভ। আন্দোলনের চাপে চিলির মন্ত্রিসভা ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছিল, জলবায়ু সম্মেলনও বাতিল করা হয়েছিল। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি পদত্যাগ করেছিলেন একই কারণে। আর এই বিক্ষোভ ছিল নব্যউদারনীতিবাদের বিরুদ্ধে। বিশ্বে গত কয়েক দশক ধরে কর্তৃত্ব করে আসা নব্যউদারনীতিবাদের বিরুদ্ধে হঠাৎ করে যেনো তীব্র অসন্তোষের জন্ম নিচ্ছে। বলা হচ্ছে , ক্রমবর্ধমান আয় বৈষম্য, জীবনযাত্রার মাত্রাতিরিক্ত ব্যয়, অর্থনৈতিক মন্দা, দারিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বিদেশে সম্পদের পাচার, জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার মানের ক্রমশ অবনতি, বিশ্বজুড়ে দারিদ্রতা বৃদ্ধি, শরণার্থী সমস্যা, সুখসূচকের অবনমন, বিষন্নতার মহামারী, পরিবেশ বিপর্যয়, জনপ্রিয়তাবাদের উত্থান, এই সবকিছুই নব্যউদারনীতিবাদেরই ফসল। আরো বলা হচ্ছে, পুঁজিবাদ শক্তিশালী হয়েছে নব্যউদারনীতিবাদ নীতির কারণেই। কারণ, এই নব্যউদারতাবাদ নীতিতে অর্থনৈতিক উদারীকরণ এবং পুঁজিবাদের রয়েছে বিরাট ভূমিকা। নব্য উদারনীতিবাদ ক্ষুধার্থের হার কমিয়েছে কিন্তু দারিদ্রতার হার কমাতে পারেনি। এটি দেশের ভেতরে যেমন আয় ও সম্পদের বৈষম্য বৃদ্ধি করেছে, তেমনি সারা বিশ্বে এক ধরনের অসম বিশ্বায়ন প্রক্রিয়ার জন্ম দিচ্ছে। অনেকই তাই মনে করেন, এই বিক্ষোভ তাই অনেকটাই বিদ্যমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে। অর্থনীতিতে এই নব্যউদারনীতিবাদ ধারণা কিভাবে এলো তা নিয়ে একটু আলোকপাত করা যাক। ১৯৩৮ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ওয়াল্টার লিপম্যান কনফারেন্সে লুডভিগ মাইজেজ এবং ফ্রেডরিখ হায়েক তাদের বক্তৃতায় প্রথম নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলেন। তারা সে সম্মেলনে ব্রিটেনের সামাজিক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের চিন্তাভাবনাকে নাম দেন কালেক্টিভিজম বা সংহতিবাদ, যার সাথে তারা জার্মানীর হিটলারের নাৎসিজম এবং রাশিয়ার কমুনিজম এর মিল খুঁজে পান। যদিও বিষয়টি মিলেনা কোনোভাবেই। তারা বোঝাতে চেয়েছিলেন জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের নামে বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ আসলে একটি দেশকে সর্বগ্রাসী কর্তৃত্ববাদী ক্ষমতা দ্বারা শাসিত হওয়ার দিকে নিয়ে যাবে। ১৯৪৪ সাল। এই সময় ফ্রেডরিখ হায়েক লিখলেন দি রোড টু সার্ফডম নামের একখানা বই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ তখন তুংগে। আর সেইসাথে বিভিন্ন রাষ্ট্রে তখন আভ্যন্তরীন অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনাও হচ্ছিল প্রবল। আর ঠিক এই সময় হায়েক তার এই বইখানাতে বললেন, ঐসময়ের প্রচলিত ব্যবস্থায় ব্যক্তিস্বাধীনতা অনেক কমে যায়। সেই সাথে রাষ্ট্র ও সর্বগ্রাসী কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার সুযোগ পায়। হায়েকের এ দাবি ছিল নব্যউদারনীতিবাদের অগ্রগতির জন্য বড় ধরনের মাইল ফলক। তিনি সেই জার্মানীর নাৎসিজম এবং রাশিয়ার কমুনিজমের সাথে সর্বগ্রাসী কর্তৃত্ববাদের মিলের কথা আবারও বললেন। তিনি প্রস্তাব করলেন অর্থনীতিতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কমিয়ে অর্থনৈতিক উদারীকরণ না করলে এই সর্বগ্রাসীদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া যাবেনা। ৫০ এর দশকে এসে নব্যউদারনীতিবাদ নিয়ে ব্যাপক প্রচারণ চালানো হয়। আর এইসময়ে এবিষয়ে বিরাট ভূমিকা পালন করে মন্ট পেলেরিন সোসাইটি নামের এক সংগঠন। ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এই সংগঠনটি। তৎকালীন কিছু ধনী লোকের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনে শুরু থেকেই ছিলেন ফ্রেডরিখ হায়েক, লুডভিগ মাইজেজসহ আরো অনেক অর্থনীতিবিদ। সংগঠনটির কাজ ছিলো নব্যউদারনীতিবাদ এর বিষয়টি নিয়ে নীতি নির্ধারক এবং পেশাজীবি পন্ডিতদের মধ্যে ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালানো। এক সময় দেখা গেলো এই সংগঠনের মতো আরো অনেক সংঘটনের জন্ম হল, যাদের কাজ ছিলো নতুন সৃষ্ট এ অর্থনৈতিক ধারা নিয়ে আরো গবেষণার মাধ্যমে উন্নত করা। আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট, হেরিটেজ ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর পলিসি ইনস্টিটিউট মূলত এই কারণেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিলো। মার্কিন অর্থনীতিবিদ মিল্টন ফ্রিডম্যান ও ছিলেন এই ধারার সমর্থক। তিনিও সেই সময় এই ধারণার ব্যাপক প্রচার করেন। তিনি শিকাগো স্কুল অব ইকনমিক্স এর অধ্যাপক ছিলেন। এই প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য অর্থনীতিবিদও এই ধারণার সমর্থক এবং প্রচারক। তাদেরকে শিকাগো বয়েজ নামে ডাকা হয়।দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়গুলোতে পশ্চিমা দেশগুলোর বেশির ভাগই কেইনসের অর্থনৈতিক তত্বের বাস্তবায়নের দিকেই মনোযোগ দিয়েছিল বেশি। করের হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল তখন। জনগনের জন্য সেবার খাত বৃদ্ধি এবং সামাজিক নিরাপত্তার দিকেই ছিলো সরকারের মনোযোগ। নব্যউদারতাবাদ তখনও কেবলমাত্র একটি ধারণা হিসাবেই আলোচিত হচ্ছিল বেশি। কোথাও তখনও এর বাস্তবিক প্রয়োগ শুরু হয়নি। ৭০ এর দশকে এসে যখন বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিলো, তখন কেইনেসিয়ান অর্থনীতির বদলে নব্যউদারনীতিবাদ নীতি প্রয়োগের কথা জোরে শোরেই বলতে লাগলেন এর সমর্থকরা। ফ্রিডম্যান ত তখন বলেই বসলেন যে বিকল্প তো তৈরী আছেই এই নব্যউদারতাবাদ প্রয়োগের প্রথম পরীক্ষা হয় শুরু হয় চিলি-তে। ১৯৭৩ সালে আমেরিকান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর সহযোগিতায় চিলির প্রেসিডেন্ট সালভেদর আয়েন্দকে হত্যা করে জেনারেল অগাস্টো পিনোশেট-কে ক্ষমতায় বসানো হয়। এরপর পটপরিবর্তন করে নানা ধরনের অর্থনৈতিক সংস্কার করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্বের অনেক দেশেই এই রকম হঠাৎ পটপরিবর্তন করে নব্যউদারতাবাদ চাপিয়ে দিয়ে অনেকটাই জোর করেই অর্থনৈতিক সংস্কার সাধন করা হয়। বিভিন্ন দেশে এইভাবে সংস্কার কর্মসূচি চাপিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়াকে কানাডিয়ান লেখক নাওমি ক্লেইন (২০০৭) নাম দিয়েছেন শক ডকট্রিন আমেরিকাতে নব্যউদারতাবাদ-এর প্রয়োগ শুরু হয় ৭০ দশকের শেষের দিকে নানা অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচির মাধ্যমে। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট রোনালড রিগ্যান এটি আরো এগিয়ে নেন। এই নব্যউদারতাবাদ নীতিতে ধনীর হাতে আরো টাকা আসার সুযোগ করে দেয়া হয়। করের হার কমানো হয়। আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা হয়। এই সময় বাজার, আর্থিকখাত সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ কর্পোরেটদের হাতে চলে যায়। একই ধারাবাহিকতায় ৯০-এর দশকে কর্পোরেশন ব্যবস্থাপক এবং সিইওদের বেতন আকাশচুম্বী হতে থাকে, আর শ্রমিকদের বেতন বাড়ে নগন্য হারে। রিগ্যানের আমেরিকার মতো মার্গারেট থ্যাচার ও ব্রিটেনে বিভিন্ন ধরনের সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেন। ধনীদের জন্য করের হার কমানো, ট্রেড ইউনিয়ন এর ক্ষমতা খর্ব করা, গৃহায়ন, টেলিকম, ইস্পাত এবং গ্যাসের ব্যাপক বেসরকারিকরণ, আর্থিক খাতের সংস্কারসহ আরো অনেক ধরনের পরিবর্তন আনেন তিনি। ১১ বছর পর ক্ষমতা ছাড়ার আগে বৃটেনকে অনেকটাই বদলে দেন তিনি। একই ধারাবাহিকতায় একসময় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল, বিশ্ব ব্যাংক এবং বিশ্ব বানিজ্য সংস্থাও একই আদর্শকে ধারণ করতে শুরু করলো। একসময় সাবেক উপনিবেশ দেশগুলোকে ঋণের ফাঁদে ফেলে কাঠামোগত সমন্বয় কর্মসূচি-এর নামে এই মডেল অনুসরণ করার জন্য বলা হয়। এক সময় এটি অনিবার্য ও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে এবং ৯০ দশকের দিকে পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ এই নীতি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। অর্থনৈতিক এই নীতি গ্রহণের ফলে সরকারের ক্ষমতা কমে গেলো, দেশী বিদেশি বহুজাতিক কোম্পানি ও করপোরেশনগুলো কে দেয়া হলো অবাধ স্বাধীনতা এবং ক্ষমতা। করপোরেশন এর কর গেলো কমে। জনগনের ভোটে নির্বাচিত সরকারের জনকল্যাণমুখী কর্মকান্ড করার সুযোগ কমতে লাগলো। সাধারণ জনগন নিজেদেরকে অসহায় ও ক্ষমতাহীন ভাবতে শুরু করলো। মুষ্টিমেয় কিছু গোষ্ঠী ছাড়া সাধারণ জনগনের তেমন উন্নতি হলোনা। ব্যাপক কর্মসংস্থান হলেও শ্রমিকদের মজুরি গেলো কমে। কর্মসংস্থান বাড়লে ও দারিদ্র মানুষের সংখ্যা বাড়তে লাগলো। সেই সাথে বাড়তে লাগলো আয় বৈষম্য ও সামাজিক অসমতা।তাই এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, পৃথিবী জুড়ে আয় ও সম্পদের বৈষম্য কেবল বাড়ছেই। বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার গবেষণা বলছে, বিশ্বের ধনী ১ শতাংশ মানুষ বিশ্বের ৫০ শতাংশ সম্পদের মালিক। আর ৫০ শতাংশ দারিদ্র মানুষ মাত্র ১ শতাংশ সম্পদের মালিক। ওয়ার্ড ইকোনমিক ফোরাম এর ২০১৮ সালের 'ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ইন্ডেক্স' এর ভাষ্য অনুযায়ী বিশ্বের ২৯টি উন্নত দেশের মধ্যে ২০টি দেশে আয় বৈষম্য বেড়েছে বা স্থির হয়ে আছে। আবার ১৭টি দেশের মধ্যে দারিদ্রতার হার বেড়ে গেছে। আয় বৈষম্য নিয়ে গবেষণা করেন ফরাসি অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটি। তিনি মনে করেন, আয় বৈষম্য হঠাৎ করে তৈরি হয়নি বরং এটি পুঁজিবাদের কারণেই হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে পুজি থেকে প্রাপ্ত আয়ের হার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারের চেয়ে বেশি হলে সম্পদ পুঞ্জিভূত হয়। ফলশ্রুতিতে সম্পদের অসম বন্ঠন হয়। আর এই অসম বন্টন এক সময় সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দেয়। (ক্যাপিটাল ইন দ্য টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি, ২০১৪)। বিষয়টি আসলেই তাই। এই নব্যউদারতানীতি মানুষের মধ্যেও এক ধরনের মানসিক পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। আর এই মানসিক পরিবর্তনের ফলে সামাজিক এক ধরনের অস্থিরতার জন্ম হচ্ছে। ফলে ব্রেক্সিটের মতো ঘটনা ঘটছে। ট্রাম্পের মতো মানুষ ভোট পাচ্ছে। নব্যউদারতাবাদও বিশ্বায়নের কারণে তৈরি বিভিন্ন সংকটকে পুজি করেই পপুলিস্ট দলগুলোর উত্থান ঘটছে। সাধারণত বলা হয়ে যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাগুলো যখন ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে হয়, তখন পপুলিজম এর আবেদন বাড়ে। আসলে আমরা এখন এক সন্ধিক্ষণে আছি। নতুন কোনো রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক মতবাদও তৈরি হচ্ছেনা সমস্যা গুলোর সমাধানের। তাহলে এই সবের সমাধান কি? পুরনো মতবাদগুলো কি আবার ফিরে আসবে? না এভাবেই চলবে? নাকি ধ্বংসস্তুপ থেকে নতুন কিছু কি বের হবে? একমাত্র সময়ই বলে দিবে সবকিছু। লেখক : কলামিস্ট।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

Image

Developed by:Sparkle IT