শেষের পাতা

করোনা ভাইরাস: সিলেট বিভাগে ৪ সপ্তাহের ব্যবধানে সুস্থতার হার ৫০.৩৫ থেকে ৭৯.২১ জেলায় ৩৩.৭৬ থেকে ৭৯. ২৩ এ উন্নিত

স্টাফ রিপোর্টার॥ প্রকাশিত হয়েছে: ১৮-০৯-২০২০ ইং ০২:৩৪:১৯ | সংবাদটি ৭৫ বার পঠিত
Image

 সিলেট বিভাগে চার সপ্তাহের ব্যবধানে করোনা ভাইরাস রোগী সুস্থতার হার ৫০ দশমিক ৩৫ ভাগ থেকে ৭৯ দশমিক ২১ ভাগে উন্নিত হয়েছে। একই সময়ে বিভাগের সিলেট জেলায় করোনায় সর্বোচ্চ আক্রান্ত ও সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, সিলেট জেলায় চার সপ্তাহের ব্যবধানে ৩৩ দশমিক ৭৬ ভাগ থেকে সুস্থতার হার ৭৯ দশমিক ২৩ ভাগে উন্নিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সুলতানা রাজিয়া স্বাক্ষরিত কোভিড-১৯ কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশনের দৈনিক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সিলেট বিভাগে করোনা ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা মোট ১২,১৬৬ জন, সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ৯৬৩৭জন। আক্রান্তের তুলনায় সুস্থতার হার শতকরা ৭৯ দশমিক ২১ ভাগ। গত ১৯ আগস্ট সুস্থতার হার ছিলো শতকরা ৫০ দশমিক ৩৫ ভাগ। এসময় মোট আক্রান্ত ছিলেন ৯৬১১ জন এবং সুস্থতার সংখ্যা ছিলো ৪৮৪০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, এ পর্যন্ত চার জেলায় মোট আক্রান্তের মধ্যে সিলেট জেলায় আক্রান্ত ৬,৫৩৬ জন এবং সুস্থ ৪,৯৮৩ জন, সুস্থতার হার শতকরা ৭৯ দশমিক ২৩ ভাগ। সুনামগঞ্জে আক্রান্ত ২,২৭৮, সুস্থ ১,৯৬৪ জন, সুস্থতার হার শতকরা ৮৬ দশমিক ২১ ভাগ। হবিগঞ্জে আক্রান্ত ১,৯৯৭, সুস্থ ১,২৪৭ সুস্থতার হার শতকরা ৭৩ দশমিক ৪৮ ভাগ ও মৌলভীবাজার জেলায় আক্রান্ত ১,৬৫৫ জন, সুস্থ হয়েছেন ১,৪৪৩ জন রোগী। এ জেলায় সুস্থতার হার শতকরা ৮৭ দশমিক ১৯ ভাগ।
গত ১৯ আগস্ট সিলেট জেলায় আক্রান্ত ছিলেন ৫১২৪ জন, সুস্থ হন ১৭৩০ জন, সুস্থতার হার ছিলো শতকরা ৩৩.৭৬ ভাগ। সুনামগঞ্জ জেলায় আক্রান্ত ছিলেন ১৮২১ জন, সুস্থ হন ১৩৯৮ জন, সুস্থতার হার ছিলো শতকরা ৭৬.৭৭ ভাগ। হবিগঞ্জ জেলায় আক্রান্ত ছিলেন ১৩৯৭ জন,সুস্থ হন ৯২০ জন, সুস্থতার হার চিলো শতকরা ৬৫.৮৫ জন। মৌলভীবাজার জেলায় আক্রান্ত ছিলেন ১২৬৯ জন, সুস্থ হন ৭৯২ জন, সুস্থতার হার ছিলো শতকরা ৬২.৪১ ভাগ।
সিলেট বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ৭৯ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে, সুস্থ হয়েছেন ১২৪ জন এবং মৃৃত্যু হয়েছে ১জনের। এসময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫জন রোগী। গত আগস্ট মাস থেকে প্রতিদিনই সিলেট বিভাগে শনাক্ত রোগীর থেকে সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে আরো জানা গেছে, সিলেট বিভাগে গত ৪ এপ্রিল করোনায় আক্রান্ত হয়ে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। ওই ব্যক্তি মৌলভীবাজারের রাজনগরের ব্যবসায়ী ছিলেন। যদিও মারা যাওয়ার পরদিন ৫ এপ্রিল তার করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছিল। ওই দিনই মোট দুজন করোনায় আক্রান্ত শনাক্তের মধ্য দিয়ে বিভাগে প্রথম করোনার সংক্রমণের কথা জানা যায়।
এরপর ৫ এপ্রিল সিলেট জেলায় প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হন। তিনি ছিলেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীন। পরে ১৫ এপ্রিল তিনি মারা যান। এরপর থেকে ক্রমেই বড় হতে থাকে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।
৭ এপ্রিল থেকে শুরু হয় সিলেটে ওসমানী মেডিকেল কলেজে স্থাপিত ল্যাবে করোনা ভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা। এ ছাড়া, ১৯ মে থেকে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের ল্যাবে করোনা পরীক্ষা শুরু হয়।
সিলেটের চার জেলায় শুরুর দিকে সংক্রমণ ধীর থাকলেও মে মাসের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। জুন মাসে তা তীব্র আকার নেয়। মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যায় অন্য তিন জেলাকে ছাড়িয়ে যায় সিলেট জেলা।
জুলাইয়ের শুরু থেকে পরীক্ষা কমিয়ে আনার ফলে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা কমতে থাকে। অবশ্য গত আগস্ট থেকে সিলেট বিভাগে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যার পাশাপাশি সুস্থতার সংখ্যা বাড়তে থাকে। এসময়ে পরীক্ষার তুলনায় সংক্রমণ শনাক্তের হারও কমতে দেখা গেছে।
এ পর্যন্ত চার জেলায় মৃত্যু হয়েছে ২০৯ জনের ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন মোট ১,৬৫১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ব্যক্তি সিলেট জেলার এই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৫ জনের মধ্যে সবাই সিলেট জেলার। ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৭৯ জনের মধ্যে সিলেট জেলার ৩৭ জন ও সুনামগঞ্জ জেলার ১৯ জন, হবিগঞ্জের ৮ জন ও মৌলভীবাজারের ১৫ জন। সুস্থ হয়ে ওঠা ১২৪ জনের মধ্যে সিলেট জেলার ৬০ জন, সুনামগঞ্জের ২০ জন, হবিগঞ্জের ১৫ জন ও মৌলভীবাজারের ২৯ জন।
চার জেলায় বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মধ্যে ৮৮৩ জন সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে ৩৪৮ জন, হবিগঞ্জের হাসপাতালে ২৮৮ জন ও মৌলভীবাজারের হাসপাতালে ১৩২ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে সিলেট জেলায় ১৫২ জন, সুনামগঞ্জে ২২ জন, হবিগঞ্জে ১৪ ও মৌলভীবাজার জেলায় ২১ জন।
গত ১০ মার্চ হতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে ১৮,৬৭৬ জনকে এবং কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ১৭,৭৭৫ জনকে।
চার জেলায় আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৭,৯১৩ জন।
সিলেটে বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ওসমানীর ল্যাবে সিলেট জেলার ও শাবির ল্যাবে সুনামগঞ্জ জেলা থেকে সংগৃহিত নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া, বিভাগের অন্য দুই জেলা হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের নমুনাগুলো ঢাকার ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়।

শেয়ার করুন

ফেসবুকে সিলেটের ডাক

শেষের পাতা এর আরো সংবাদ
  • প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী সিলেট আসছেন আজ
  • ছাতকে পূজা ঘিরে সরব পৌর নির্বাচনের প্রার্থীরা
  • ৮ বাংলাদেশিকে হস্তান্তর করেছে বিএসএফ
  • শ্রীমঙ্গল চা বাগান থেকে একজনের লাশ উদ্ধার
  • র‌্যাবের অভিযানে জুয়াড়ি ও মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার
  • আইনজীবী স্বামীর নির্যাতনে শিশু কন্যা নিয়ে অসহায় মনোয়ারা
  • বানিয়াচংয়ের শুঁটকি সেতু মেরামতের জন্য ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ
  • নবীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলা
  • মধ্য আফ্রিকায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত
  • ৩৭ জনের করোনা শনাক্ত সুস্থ ৪২ জন ও মৃত্যু একজনের
  • দুই বোনের বাড়ি প্রবেশ নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের নির্দেশ
  • সিলেট দায়রা জজ আদালতে স্থায়ী সিলেটিদের নিয়োগের দাবিতে ১০৬ আইনজীবীর তলবী সভার উদ্যোগ
  • ছাতকে ৭ ডাকাত গ্রেফতার মালামাল উদ্ধার
  • মৌলভীবাজারে কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীর আত্মসমর্পণ
  • সিলেটে র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ৬ জুয়াড়িসহ গ্রেফতার ৯
  • বিয়ানীবাজারে মুক্তিযোদ্ধা উস্তার আলীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন
  • ‘বৃহত্তর জন্তৈার প্রতটিি উপজলো সদরকে পৌরসভায় রূপান্তর করতে হব’
  • জকিগঞ্জে ক্বওমী মাদ্রাসা ঐক্য পরিষদের এক কিলোমিটার জুড়ে মানববন্ধন
  • ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ডের চূড়ান্ত অনুমোদন
  • মাস্ক ছাড়া সেবা মিলবে না সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে
  • Image

    Developed by:Sparkle IT